ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে Logo বিএনপি দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে Logo সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ মারা গেছেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ Logo কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন খুনি হাসিনার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন Logo লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম Logo সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার Logo চট্টগ্রামে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান Logo ‎ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব দিনমজুর পরিবার ‎শেষ আশ্রয়টুকুও পুড়ে ছাই Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাশ শুরু Logo সমঝোতা ছাড়াই প্রথম দফার বৈঠক শেষ, যুদ্ধবিরতির আহ্বান পাকিস্তানের

সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার

  • মোঃ ওমর ফারুক
  • আপডেট সময় ০৭:১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং বনদস্যু দমনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম (সি), পিসিজিএম, পিএসসি, বিএন জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের ব্যস্ততার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে জানানো হয়।
হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ হ্রাস পেয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূলে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে

সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার

আপডেট সময় ০৭:১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং বনদস্যু দমনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম (সি), পিসিজিএম, পিএসসি, বিএন জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের ব্যস্ততার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে জানানো হয়।
হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ হ্রাস পেয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূলে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।


প্রিন্ট