ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন। Logo নওগাঁয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উৎযাপন। Logo মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ Logo নববর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পেলো নতুন জামা Logo নওগাঁর নিয়ামতপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবের আবহে আনন্দ শোভাযাত্রা… Logo কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে পহেলা বৈশাখের আনন্দঘন পরিবেশ Logo রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল Logo ঈদগাঁওতে পহেলা বৈশাখ উৎসবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষোভ Logo নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বৈশাখী শোভাযাত্রা Logo যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ

টঙ্গীতে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দাপুটে মাদক কারবার নেপথ্যে পারুল-মানিক দম্পতি

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আবারও আলোচনায় উঠেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে এরশাদ নগর বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট—যার নেতৃত্বে রয়েছেন পারুল ও তাঁর স্বামী মানিক এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই দম্পতি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান। কোনো কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পারুল এরশাদ নগর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের তবে এসব মামলার পরও তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তাঁর স্বামী মানিক নিজেকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ই মূলত তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে রাখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মানিকের এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পারুলের মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এরশাদ নগর বস্তির ভেতরে ইয়াবা, গাঁজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য। পারুল ও মানিকের নিয়ন্ত্রণেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা রাজনৈতিক চাপের ভয় দেখানো হয়।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সুশীল সমাজের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করা হোক।ড


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন।

টঙ্গীতে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দাপুটে মাদক কারবার নেপথ্যে পারুল-মানিক দম্পতি

আপডেট সময় ০৭:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আবারও আলোচনায় উঠেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে এরশাদ নগর বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট—যার নেতৃত্বে রয়েছেন পারুল ও তাঁর স্বামী মানিক এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই দম্পতি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান। কোনো কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পারুল এরশাদ নগর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের তবে এসব মামলার পরও তিনি নির্বিঘ্নে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তাঁর স্বামী মানিক নিজেকে ‘যুবদল নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ই মূলত তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করে রাখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মানিকের এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পারুলের মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, এরশাদ নগর বস্তির ভেতরে ইয়াবা, গাঁজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য। পারুল ও মানিকের নিয়ন্ত্রণেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা রাজনৈতিক চাপের ভয় দেখানো হয়।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতার কারণে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সুশীল সমাজের অভিমত, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করা হোক।ড


প্রিন্ট