ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ Logo পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল Logo শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর Logo তানোরের মুন্ডুমালায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল Logo ১ নং কাস্টম ঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা সৌজন্যে বি কোম্পানি Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ: নাইক্ষ্যংছড়িতে আরাকান আর্মির ৩ সদস্য আটক Logo লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় পবিত্র রমজানে বাজার মনিটরিং

প্রাচনী পিলার ও কয়েন চক্রের ১০ পর্বের ২য় পর্ব আহাদুল ইসলাম দুলাল ও আব্দুল মনসুর পরিচালিত প্রাচীন পিলার ও কয়েন প্রতারণা চক্র

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

{"data":{"activityName":"","alias":"","appversion":"0.0.1","editType":"image_edit","exportType":"ads_export","filterId":"","imageEffectId":"","os":"android","pictureId":"8c2eea0fccd24798bf4dd01a631699be","playId":"","product":"lv","infoStickerId":"","stickerId":""},"source_type":"vicut","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"source_type":"vicut","client_key":"aw889s25wozf8s7e","picture_template_id":"","capability_name":"retouch_edit_tool"}"}

গত কয়েক বছরে দেশের প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম মানুষদের লক্ষ্য করে একটি জটিল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনুসন্ধানে এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা এই চক্রের মূলহোতা। তারা কথিত প্রাচীন সীমানা পিলার এবং শতবর্ষী কয়েন ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম নাদের খান। তিনি জানান, এই প্রতারক চক্রের হাতে তার প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা চলে গেছে। নাদের খানের মতো শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ মানুষও ফাঁদে পড়েছেন, যা প্রমাণ করে প্রতারকরা কতটা কৌশলীভাবে মানুষের আস্থা অর্জন করতেন।
নাদের খানসহ ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ শাহ আলম, মামুন খন্দকার, রসনা বেগম, আসলাম চৌধুরী এবং মালিক সাহেবসহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা প্রাথমিকভাবে নিজেদের পরিচয় দিতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক বা আন্তর্জাতিক কালেক্টরের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। তাদের ভাষা, নথি দেখানোর ধরন এবং পরিচয় প্রদানের কৌশল এতটাই প্রামাণ্য মনে হতো যে, অনেকেই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া ছাড়াই তাদের কথায় বিশ্বাস করতেন।
চক্রটি প্রথমে ছোট অঙ্কের অর্থ নিয়ে আস্থা তৈরি করত। এরপর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করত। ‘বিদেশি ক্রেতা আসছে’, ‘সরকারি ছাড়পত্র মিলেছে’ বা ‘চূড়ান্ত ডিল সম্পন্ন করতে হবে’-এই ধরনের কথা বলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ কমানো হতো।
প্রতারণার আরেকটি প্রধান হাতিয়ার ছিল কথিত প্রাচীন সীমানা পিলার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পিলারগুলোর বেশিরভাগই সাধারণ পাথর বা আধুনিকভাবে তৈরি স্তম্ভ। কখনো ব্রিটিশ আমলের সীমান্ত পিলার হিসেবে, কখনো আরও প্রাচীন কোনো রাজ্যের নিদর্শন হিসেবে দেখানো হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে দেখানো হতো পুরোনো মানচিত্রের কপি, হলদে কাগজে ছাপানো নথি এবং ভুয়া সিলমোহর।
প্রাচীন কয়েনকে আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুঘল, সুলতানি বা অন্যান্য প্রাচীন যুগের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধরনের কয়েনকে কৃত্রিমভাবে পুরনো দেখানো খুবই সহজ। এসিড ট্রিটমেন্ট, ঘষামাজা এবং নকল খোদাইয়ের মাধ্যমে সাধারণ ধাতুকেও শতবর্ষী মুদ্রার রূপ দেওয়া সম্ভব।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এই প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি দেশের আইন, সামাজিক আস্থা এবং ঐতিহ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ফাঁদে পড়লে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের সচেতনতা খুব কম। কোন বস্তু বৈধভাবে কেনাবেচা করা যায় এবং কোনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রতারকরা সুযোগ নেয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আবরণ প্রতারণাকে আড়াল করে, আর দ্রুত লাভের প্রলোভন মানুষকে ফাঁদে ফেলে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সামাজিক সম্মান বজায় রাখার কারণে তারা প্রতারণার পর অভিযোগ করতে পারেননি। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা দেশের বহু মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং নতুন শিকার তৈরি করছে।
আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এর বিরুদ্ধে দুইটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। একটি মামলা মিরপুর মডেল থানায়, এফআইআর নং-৬, তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১২, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০/৪৬৫/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর মামলা নারায়ণগঞ্জ সদর থানায়, এফআইআর নং-১১, তারিখ ১০ জুন ২০০৮, দণ্ডবিধি ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় এজাহারভুক্ত।
সূত্রে জানা যায়, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তারা নিজেদের বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে। এই দুই ব্যক্তি মিলিতভাবে কথিত প্রাচীন পিলার ও কয়েনের প্রতারণার সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণার ধরন অত্যন্ত জটিল। প্রথমে আস্থা তৈরি করা হয়, তারপর ছোট অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ করা হয়। আইনগত জটিলতার গল্প দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নিরাপদ মনে করানো হতো। এই প্রক্রিয়ার কারণে টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
নাদের খান সহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, এই চক্র থেকে তারা বিপুল অর্থ হারিয়েছেন। নাদের খানের ক্ষেত্রে ক্ষতি প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এই তথ্য দেখায়, প্রতারণার পরিধি কেবল সামান্য নয়, বরং কোটি কোটি টাকা নিয়ে চক্রটি সক্রিয় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সতর্কতা ও সচেতনতা ছাড়া এমন প্রতারণা রোধ করা সম্ভব নয়। জনগণকে সচেতন করা, সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা এবং প্রত্নসম্পদের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, তাদের মতো আর কেউ দ্রুত লাভের প্রলোভনে ফাঁদে পড়বে না। তারা মনে করেন, সতর্কতা ও সচেতনতা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রাচনী পিলার ও কয়েন চক্রের ১০ পর্বের ২য় পর্ব আহাদুল ইসলাম দুলাল ও আব্দুল মনসুর পরিচালিত প্রাচীন পিলার ও কয়েন প্রতারণা চক্র

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গত কয়েক বছরে দেশের প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম মানুষদের লক্ষ্য করে একটি জটিল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে। অনুসন্ধানে এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা এই চক্রের মূলহোতা। তারা কথিত প্রাচীন সীমানা পিলার এবং শতবর্ষী কয়েন ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম নাদের খান। তিনি জানান, এই প্রতারক চক্রের হাতে তার প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা চলে গেছে। নাদের খানের মতো শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ মানুষও ফাঁদে পড়েছেন, যা প্রমাণ করে প্রতারকরা কতটা কৌশলীভাবে মানুষের আস্থা অর্জন করতেন।
নাদের খানসহ ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ শাহ আলম, মামুন খন্দকার, রসনা বেগম, আসলাম চৌধুরী এবং মালিক সাহেবসহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা প্রাথমিকভাবে নিজেদের পরিচয় দিতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক বা আন্তর্জাতিক কালেক্টরের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। তাদের ভাষা, নথি দেখানোর ধরন এবং পরিচয় প্রদানের কৌশল এতটাই প্রামাণ্য মনে হতো যে, অনেকেই প্রথম থেকেই সতর্ক হওয়া ছাড়াই তাদের কথায় বিশ্বাস করতেন।
চক্রটি প্রথমে ছোট অঙ্কের অর্থ নিয়ে আস্থা তৈরি করত। এরপর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করত। ‘বিদেশি ক্রেতা আসছে’, ‘সরকারি ছাড়পত্র মিলেছে’ বা ‘চূড়ান্ত ডিল সম্পন্ন করতে হবে’-এই ধরনের কথা বলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ কমানো হতো।
প্রতারণার আরেকটি প্রধান হাতিয়ার ছিল কথিত প্রাচীন সীমানা পিলার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পিলারগুলোর বেশিরভাগই সাধারণ পাথর বা আধুনিকভাবে তৈরি স্তম্ভ। কখনো ব্রিটিশ আমলের সীমান্ত পিলার হিসেবে, কখনো আরও প্রাচীন কোনো রাজ্যের নিদর্শন হিসেবে দেখানো হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে দেখানো হতো পুরোনো মানচিত্রের কপি, হলদে কাগজে ছাপানো নথি এবং ভুয়া সিলমোহর।
প্রাচীন কয়েনকে আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুঘল, সুলতানি বা অন্যান্য প্রাচীন যুগের স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধরনের কয়েনকে কৃত্রিমভাবে পুরনো দেখানো খুবই সহজ। এসিড ট্রিটমেন্ট, ঘষামাজা এবং নকল খোদাইয়ের মাধ্যমে সাধারণ ধাতুকেও শতবর্ষী মুদ্রার রূপ দেওয়া সম্ভব।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এই প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি দেশের আইন, সামাজিক আস্থা এবং ঐতিহ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ফাঁদে পড়লে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের সচেতনতা খুব কম। কোন বস্তু বৈধভাবে কেনাবেচা করা যায় এবং কোনটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তা স্পষ্ট না হওয়ায় প্রতারকরা সুযোগ নেয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আবরণ প্রতারণাকে আড়াল করে, আর দ্রুত লাভের প্রলোভন মানুষকে ফাঁদে ফেলে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সামাজিক সম্মান বজায় রাখার কারণে তারা প্রতারণার পর অভিযোগ করতে পারেননি। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা দেশের বহু মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং নতুন শিকার তৈরি করছে।
আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এর বিরুদ্ধে দুইটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। একটি মামলা মিরপুর মডেল থানায়, এফআইআর নং-৬, তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১২, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০/৪৬৫/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর মামলা নারায়ণগঞ্জ সদর থানায়, এফআইআর নং-১১, তারিখ ১০ জুন ২০০৮, দণ্ডবিধি ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় এজাহারভুক্ত।
সূত্রে জানা যায়, আহাদুল ইসলাম দুলাল ওরফে এইচএম দুলাল খান (চান্দু) এবং আব্দুল মনসুর ওরফে ইব্রাহিম মুসা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তারা নিজেদের বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে। এই দুই ব্যক্তি মিলিতভাবে কথিত প্রাচীন পিলার ও কয়েনের প্রতারণার সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারণার ধরন অত্যন্ত জটিল। প্রথমে আস্থা তৈরি করা হয়, তারপর ছোট অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ করা হয়। আইনগত জটিলতার গল্প দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নিরাপদ মনে করানো হতো। এই প্রক্রিয়ার কারণে টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
নাদের খান সহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, এই চক্র থেকে তারা বিপুল অর্থ হারিয়েছেন। নাদের খানের ক্ষেত্রে ক্ষতি প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এই তথ্য দেখায়, প্রতারণার পরিধি কেবল সামান্য নয়, বরং কোটি কোটি টাকা নিয়ে চক্রটি সক্রিয় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সতর্কতা ও সচেতনতা ছাড়া এমন প্রতারণা রোধ করা সম্ভব নয়। জনগণকে সচেতন করা, সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা এবং প্রত্নসম্পদের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, তাদের মতো আর কেউ দ্রুত লাভের প্রলোভনে ফাঁদে পড়বে না। তারা মনে করেন, সতর্কতা ও সচেতনতা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


প্রিন্ট