ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা Logo আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ Logo পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল Logo শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর

ফুলগাজী উপজেলার তারাকুচা সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা ফেনী। জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলা—পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিমকার্ড।

শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, এমন সিম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে খোদ ফেনী শহরেও। অর্থাৎ ভারতীয় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ফেনী সদরসহ চার উপজেলার বিশাল এলাকা। চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় সিমকার্ড। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সিমকার্ড ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শুভপুর ও মহামায়া, ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী সদর ইউনিয়ন, আমজাদহাট, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট এবং পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ ও মির্জানগরের বিভিন্ন গ্রামে ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে নির্বিবাদে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের দাবি, দেশীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করেন। তারা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো গেমও খেলছেন। তারা তাদের মোবাইল ফোনে ব্যবহার করেন ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ভারতীয় সিমকার্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির চেয়ারম্যান বলেন, এসব সিম ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর বিএ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জন্য সুখকর নয়। এই সিমগুলো অসাধু লোকেরা ব্যবহার করে দেশকে বিপদে ফেলতে চাইছে। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সীমান্তবর্তী আমজাদহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ইব্রাহিম মজুমদার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শাখার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন জানান, ভিনদেশি সিম একটি রাষ্ট্রের গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে সীমান্তের চেতনা সংঘ ক্লাবের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম রাজিব বলেন, ভারতীয় সিমের অবাধ ব্যবহারের কারণে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারীরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তারা মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে করে সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। টাকার লোভে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ কারবারে।

চোরাকারবারি চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারতীয় সিমকার্ডগুলো ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি করি। ইদানীং এর বিক্রি বেড়েছে। সীমান্তের অধিকাংশ মানুষ এখন ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করছে। এগুলোর রিচার্জও আমরা বাংলাদেশে বসে দিতে পারি।’

ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ইতিপূর্বে কাউকে ভারতীয় সিমসহ আটক করা হয়নি।’

পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সিমসহ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।’

ছাগলনাইয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি। ভারতীয় সিমসহ কাউকে আটক করা হয়নি।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ভারতীয় সিমের বিষয়টি আমরা আগেও জেনেছি। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। আমরা আমাদের মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করব।’

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি এ রকম কোনো সিমকার্ড পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন

ফুলগাজী উপজেলার তারাকুচা সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা

আপডেট সময় ১১:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা ফেনী। জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলা—পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিমকার্ড।

শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, এমন সিম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে খোদ ফেনী শহরেও। অর্থাৎ ভারতীয় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ফেনী সদরসহ চার উপজেলার বিশাল এলাকা। চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় সিমকার্ড। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সিমকার্ড ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শুভপুর ও মহামায়া, ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী সদর ইউনিয়ন, আমজাদহাট, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট এবং পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ ও মির্জানগরের বিভিন্ন গ্রামে ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে নির্বিবাদে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের দাবি, দেশীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করেন। তারা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো গেমও খেলছেন। তারা তাদের মোবাইল ফোনে ব্যবহার করেন ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ভারতীয় সিমকার্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির চেয়ারম্যান বলেন, এসব সিম ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর বিএ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জন্য সুখকর নয়। এই সিমগুলো অসাধু লোকেরা ব্যবহার করে দেশকে বিপদে ফেলতে চাইছে। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সীমান্তবর্তী আমজাদহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ইব্রাহিম মজুমদার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শাখার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন জানান, ভিনদেশি সিম একটি রাষ্ট্রের গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে সীমান্তের চেতনা সংঘ ক্লাবের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম রাজিব বলেন, ভারতীয় সিমের অবাধ ব্যবহারের কারণে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারীরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তারা মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে করে সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। টাকার লোভে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ কারবারে।

চোরাকারবারি চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারতীয় সিমকার্ডগুলো ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি করি। ইদানীং এর বিক্রি বেড়েছে। সীমান্তের অধিকাংশ মানুষ এখন ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করছে। এগুলোর রিচার্জও আমরা বাংলাদেশে বসে দিতে পারি।’

ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ইতিপূর্বে কাউকে ভারতীয় সিমসহ আটক করা হয়নি।’

পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সিমসহ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।’

ছাগলনাইয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি। ভারতীয় সিমসহ কাউকে আটক করা হয়নি।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ভারতীয় সিমের বিষয়টি আমরা আগেও জেনেছি। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। আমরা আমাদের মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করব।’

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি এ রকম কোনো সিমকার্ড পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


প্রিন্ট