ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলস্টেশনে আইসি সালাউদ্দিন খান নোমান যোগদানের পর ব্লেকারদের ছড়াছড়ি রাজবাড়ীর সরকারি কলেজে ইতিহাস টঙ্গীতে মাদক কারবারির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি বাংলাদেশ স্কাউটস ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে পীরগঞ্জে সাড়ে এগারোশ কেজি ওজনের গরু, দাম ১৫ লাখ লক্ষ্মীপুরে আদালতের হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন ফুলবাড়ীতে নারী সহিংসতা বন্ধে নেটওয়ার্ক সভা অনুষ্ঠিত ঈদ মোবারক , ঈদ মোবারক , ঈদ মোবারক , চট্রগ্রাম বন্দরকে পিছনে ফেলে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়লো মোংলা বন্দর বিরামপুরে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে

ফাইল ছবি

এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে ছয়টি উৎসবভাতা নেন, উপরন্তু নানা ধরনের সম্মানী ভাতা বাবদ তাঁরা চলতি বছর ইতিমধ্যে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি অংশ পাঠ্যবই মুদ্রণ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। দরপত্র আহ্বানের আগেই তাঁরা প্রাক্কলিত দর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন; সেই সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে দরপত্র জমা দেয়। অর্থাৎ তাঁদের সহযোগিতায় একটা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাঁরা দরপত্র-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার নীতিকে অর্থহীন করে দিয়েছেন। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বেনামে মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পায়। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ফলে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পাঠ্যবই ‘সন্তোষজনক’ ছাড়পত্র পায়; মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপা বই জমা দিতে ব্যর্থ হলেও এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সঠিক সময়ে বই পাওয়া গেছে।

এনসিটিবির এসব অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর ধরে; এটা একটা সংঘবদ্ধ ও নিয়মিত ব্যবস্থা, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় কী, তা তাঁরা পরে জানাবেন। এটা দায়সারা বক্তব্য; এই মাত্রার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় নির্ধারণের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নজরদারি করলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হতে পারত না।

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, দলীয় বা ভাবাদর্শগত দিকে যেসব অভিযোগ টিআইবির প্রতিবদনে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু পাঠ্যবই প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় আর্থিক দুর্নীতি ফৌজদারি অপরাধ এবং তা চলে আসছে সংঘবদ্ধভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। শুধু এনসিটিবির প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়, এই অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার করা ও তা চিরতরে বন্ধ করার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত।

জাতীয় আরো খবর.......
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলস্টেশনে আইসি সালাউদ্দিন খান নোমান যোগদানের পর ব্লেকারদের ছড়াছড়ি

দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট টাইম : ১০:১৪:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে ছয়টি উৎসবভাতা নেন, উপরন্তু নানা ধরনের সম্মানী ভাতা বাবদ তাঁরা চলতি বছর ইতিমধ্যে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি অংশ পাঠ্যবই মুদ্রণ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। দরপত্র আহ্বানের আগেই তাঁরা প্রাক্কলিত দর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন; সেই সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে দরপত্র জমা দেয়। অর্থাৎ তাঁদের সহযোগিতায় একটা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাঁরা দরপত্র-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার নীতিকে অর্থহীন করে দিয়েছেন। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বেনামে মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পায়। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ফলে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পাঠ্যবই ‘সন্তোষজনক’ ছাড়পত্র পায়; মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপা বই জমা দিতে ব্যর্থ হলেও এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সঠিক সময়ে বই পাওয়া গেছে।

এনসিটিবির এসব অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর ধরে; এটা একটা সংঘবদ্ধ ও নিয়মিত ব্যবস্থা, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় কী, তা তাঁরা পরে জানাবেন। এটা দায়সারা বক্তব্য; এই মাত্রার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় নির্ধারণের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নজরদারি করলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হতে পারত না।

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, দলীয় বা ভাবাদর্শগত দিকে যেসব অভিযোগ টিআইবির প্রতিবদনে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু পাঠ্যবই প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় আর্থিক দুর্নীতি ফৌজদারি অপরাধ এবং তা চলে আসছে সংঘবদ্ধভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। শুধু এনসিটিবির প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়, এই অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার করা ও তা চিরতরে বন্ধ করার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত।