1. [email protected] : admi2017 :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
র‌্যাব-৪ রাজধানীর গোপনে ধারনকৃত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ পর গ্রেফতার বাঘায় বুদ্ধি ও অটিষ্ট্রিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ বেতাগী থানাকে মাদক ও বাল্য বিবাহ মুক্ত করার ঘোষনা অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম পাথরঘাটায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল এর মালিক র‍্যাব-৩ হাতে গ্রেফতার আমাদের কাগজ স্প্যাকম্যান মিডিয়া গ্রুপের শিল্পী লি চো-হি আসন্ন কোরিয়ান টিভি নাটকে অভিনয় করতে চলেছেন, রাষ্ট্রপতি জিওং ইয়াক-ইয়ং, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাবে গাজীপুর শহরের কে এই নেতা বাবুল ওরফে ঘাড়কাটা বাবুল রাজনীতির ব্যানার দিয়ে অন্তরালে করছে চাঁদাবাজি নিরব প্রশাসন সাধারণ মানুষের অভিযোগ বাঘায় বাবার সামনে থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি বাঘায় শিয়ালের কামড়ে ২ বছরের শিশুসহ আহত-৫

কী দোষ ছিল খেটে খাওয়া নিরীহ ছেলেটির বলছেন হেফাজত ইসলাম।

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১, ৯.৩৬ পূর্বাহ্ণ
  • ৬১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার।।
অন্যান্য দিনের মতোই কাজ থেকে ফিরে বাজারে গিয়েছিলো সহপাঠীদের সঙ্গে চা খেতে। মায়ের কাছে বলে গিয়েছিলো-কাজ শেষ করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরবে। বাড়ি ঠিকই ফিরেছে, তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাতে লাশ হয়ে।

বাজারে মিছিল দেখে মিছিলের কাছে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পড়েছিল। মিছিল সামনে এগিয়ে গেলে একসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ তৈরি হলে মাঝখানে পড়ে প্রাণ দিলেন বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামের নিরীহ খেটে খাওয়া সাধারণ একজন তরুণ মো. কাউসার (২২)।

শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় পুলিশ–বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। সেই চারজনের একজন হলো মো. কাউসার। হেফাজত ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই তরুণ।আজ থেকে ১০ বছর আগে শিশুকালেই বাবা আলী আহমদকে হারান মো. কাউসার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে শিশু বয়সেই কাউসার সংসারের হাল ধরেন। কখনো কখনো অন্যের বাড়ি দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন, আবার ফাঁকে ফাঁকে হাতের কাজও শিখেছেন। পরে এক সময় পুরোদমে প্লাম্বার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের মাঝে কাউসার ছিল তৃতীয় এবং একমাত্র উপার্জমক্ষম ব্যক্তি। কাজ করে দিনে শেষে যা উপার্জন হতো সেগুলো নিয়ে সুখে-দুঃখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে কোনরকম জীবন চলছিল তাদের।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।ছবি: সংগৃহীত

বড় ছেলেকে হারিয়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারার শক্তি নেই মা জায়েদা বেগমের। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আর চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে। এমনিতেই চেখের জলের ধারায় চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে মায়ের। সন্তান হারানো মায়ের এ কান্নায় যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আছে। তৈরি হয়েছে চারদিকে নীরব-নিস্তব্ধতা। পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

‘এখন আমি কাকে বাবা বলে ডাক দিবো। কে আমাকে দেখবে। আমার কাউছার গেলো কোথায় রে। আমার আর কেউ নেই।’-ছেলে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পাগলের মতো হয়ে ছেলেকে স্মরণ করে কথাগুলো বলেছিলেন মা জায়েদা বেগম।

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিহত কাউসারের চাচাতো ভাই আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাইটা একেবারে সহজ-সরল ছিল। লেখাপড়াও খুব একটা করেনি। এ যুগের ছেলেও হয়েও ফেইসবুক ব্যবহার শিখেনি, কোনদিন স্মার্টফোনও ব্যবহার করেনি। কিছুদিন আগেও আমাদের গ্রামের একটি বাড়িতে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিল। পরে অনেক দিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিল। সুস্থ হয়ে আবারও কাজ শুরু করেছিল। আর এখন চিরতরে চলে গেলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই রাজনীতি করা তো পরের কথা কোন সংগঠনের নামও ভালো করে, ঠিক করে বলতে পারবে না অথচ তাকে আজ মিছিলে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। আমরা আজ কার কাছে বিচার চাইবো? আমার চাচা বেঁচে নেই, তাদের সংসার কে দেখভাল করবে, কে চালাবে?’ এ নিরীহ ছেলেটার কি দোষ ছিল?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পরে গত ২৬ মার্চে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নতুন করে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে উত্তেজনা বাড়লে এক সময় জেলার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazarsomoyer14
© All rights reserved  2019-2021

Dailysomoyerkontha.com