ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের আদেশ বহাল ট্রাম্পকে গুলি করা ব্যক্তির সম্পর্কে যা জানাল রয়টার্স সালমানের হাত ধরলেন ঐশ্বরিয়া, সম্ভব হলো যেভাবে গণপদযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন অবস্থান হবে সরাইলে ১০ম বারের মতো আশুতোষ চক্রবর্তী স্মারক শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অবশেষে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠ অবশেষে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা মৃত্যুপুরী গাজা নগরী, ‘কুকুরে খাচ্ছে লাশ’ আন্দোলনকারীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সুশান্ত পালের ‘তোমরা এমনিতেই চাকরি পাবে না, কোটা থাক না থাক’ গাজীপুরে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা:ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় স্থানীয় পুলিশ পর্ব ১ মঠবাড়ীয়া আমড়াগাছিয়ায় মাদক সহ ১জন আটক ৬ মাসের কারাদন্ড

কী দোষ ছিল খেটে খাওয়া নিরীহ ছেলেটির বলছেন হেফাজত ইসলাম।

সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১
  • / ২০৭ .000 বার পাঠক

স্টাফ রিপোর্টার।।
অন্যান্য দিনের মতোই কাজ থেকে ফিরে বাজারে গিয়েছিলো সহপাঠীদের সঙ্গে চা খেতে। মায়ের কাছে বলে গিয়েছিলো-কাজ শেষ করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরবে। বাড়ি ঠিকই ফিরেছে, তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাতে লাশ হয়ে।

বাজারে মিছিল দেখে মিছিলের কাছে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পড়েছিল। মিছিল সামনে এগিয়ে গেলে একসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ তৈরি হলে মাঝখানে পড়ে প্রাণ দিলেন বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামের নিরীহ খেটে খাওয়া সাধারণ একজন তরুণ মো. কাউসার (২২)।

শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় পুলিশ–বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। সেই চারজনের একজন হলো মো. কাউসার। হেফাজত ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই তরুণ।আজ থেকে ১০ বছর আগে শিশুকালেই বাবা আলী আহমদকে হারান মো. কাউসার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে শিশু বয়সেই কাউসার সংসারের হাল ধরেন। কখনো কখনো অন্যের বাড়ি দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন, আবার ফাঁকে ফাঁকে হাতের কাজও শিখেছেন। পরে এক সময় পুরোদমে প্লাম্বার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের মাঝে কাউসার ছিল তৃতীয় এবং একমাত্র উপার্জমক্ষম ব্যক্তি। কাজ করে দিনে শেষে যা উপার্জন হতো সেগুলো নিয়ে সুখে-দুঃখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে কোনরকম জীবন চলছিল তাদের।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।ছবি: সংগৃহীত

বড় ছেলেকে হারিয়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারার শক্তি নেই মা জায়েদা বেগমের। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আর চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে। এমনিতেই চেখের জলের ধারায় চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে মায়ের। সন্তান হারানো মায়ের এ কান্নায় যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আছে। তৈরি হয়েছে চারদিকে নীরব-নিস্তব্ধতা। পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

‘এখন আমি কাকে বাবা বলে ডাক দিবো। কে আমাকে দেখবে। আমার কাউছার গেলো কোথায় রে। আমার আর কেউ নেই।’-ছেলে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পাগলের মতো হয়ে ছেলেকে স্মরণ করে কথাগুলো বলেছিলেন মা জায়েদা বেগম।

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিহত কাউসারের চাচাতো ভাই আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাইটা একেবারে সহজ-সরল ছিল। লেখাপড়াও খুব একটা করেনি। এ যুগের ছেলেও হয়েও ফেইসবুক ব্যবহার শিখেনি, কোনদিন স্মার্টফোনও ব্যবহার করেনি। কিছুদিন আগেও আমাদের গ্রামের একটি বাড়িতে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিল। পরে অনেক দিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিল। সুস্থ হয়ে আবারও কাজ শুরু করেছিল। আর এখন চিরতরে চলে গেলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই রাজনীতি করা তো পরের কথা কোন সংগঠনের নামও ভালো করে, ঠিক করে বলতে পারবে না অথচ তাকে আজ মিছিলে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। আমরা আজ কার কাছে বিচার চাইবো? আমার চাচা বেঁচে নেই, তাদের সংসার কে দেখভাল করবে, কে চালাবে?’ এ নিরীহ ছেলেটার কি দোষ ছিল?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পরে গত ২৬ মার্চে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নতুন করে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে উত্তেজনা বাড়লে এক সময় জেলার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

আরো খবর.......

আপলোডকারীর তথ্য

কী দোষ ছিল খেটে খাওয়া নিরীহ ছেলেটির বলছেন হেফাজত ইসলাম।

আপডেট টাইম : ০৯:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার।।
অন্যান্য দিনের মতোই কাজ থেকে ফিরে বাজারে গিয়েছিলো সহপাঠীদের সঙ্গে চা খেতে। মায়ের কাছে বলে গিয়েছিলো-কাজ শেষ করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরবে। বাড়ি ঠিকই ফিরেছে, তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাতে লাশ হয়ে।

বাজারে মিছিল দেখে মিছিলের কাছে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পড়েছিল। মিছিল সামনে এগিয়ে গেলে একসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ তৈরি হলে মাঝখানে পড়ে প্রাণ দিলেন বুধল ইউনিয়নের বুধল গ্রামের নিরীহ খেটে খাওয়া সাধারণ একজন তরুণ মো. কাউসার (২২)।

শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকায় পুলিশ–বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। সেই চারজনের একজন হলো মো. কাউসার। হেফাজত ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই তরুণ।আজ থেকে ১০ বছর আগে শিশুকালেই বাবা আলী আহমদকে হারান মো. কাউসার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে শিশু বয়সেই কাউসার সংসারের হাল ধরেন। কখনো কখনো অন্যের বাড়ি দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন, আবার ফাঁকে ফাঁকে হাতের কাজও শিখেছেন। পরে এক সময় পুরোদমে প্লাম্বার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের মাঝে কাউসার ছিল তৃতীয় এবং একমাত্র উপার্জমক্ষম ব্যক্তি। কাজ করে দিনে শেষে যা উপার্জন হতো সেগুলো নিয়ে সুখে-দুঃখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে কোনরকম জীবন চলছিল তাদের।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।ছবি: সংগৃহীত

বড় ছেলেকে হারিয়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারার শক্তি নেই মা জায়েদা বেগমের। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আর চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে। এমনিতেই চেখের জলের ধারায় চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে মায়ের। সন্তান হারানো মায়ের এ কান্নায় যেন আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আছে। তৈরি হয়েছে চারদিকে নীরব-নিস্তব্ধতা। পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

‘এখন আমি কাকে বাবা বলে ডাক দিবো। কে আমাকে দেখবে। আমার কাউছার গেলো কোথায় রে। আমার আর কেউ নেই।’-ছেলে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পাগলের মতো হয়ে ছেলেকে স্মরণ করে কথাগুলো বলেছিলেন মা জায়েদা বেগম।

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিহত কাউসারের চাচাতো ভাই আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাইটা একেবারে সহজ-সরল ছিল। লেখাপড়াও খুব একটা করেনি। এ যুগের ছেলেও হয়েও ফেইসবুক ব্যবহার শিখেনি, কোনদিন স্মার্টফোনও ব্যবহার করেনি। কিছুদিন আগেও আমাদের গ্রামের একটি বাড়িতে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিল। পরে অনেক দিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিল। সুস্থ হয়ে আবারও কাজ শুরু করেছিল। আর এখন চিরতরে চলে গেলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই রাজনীতি করা তো পরের কথা কোন সংগঠনের নামও ভালো করে, ঠিক করে বলতে পারবে না অথচ তাকে আজ মিছিলে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। আমরা আজ কার কাছে বিচার চাইবো? আমার চাচা বেঁচে নেই, তাদের সংসার কে দেখভাল করবে, কে চালাবে?’ এ নিরীহ ছেলেটার কি দোষ ছিল?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পরে গত ২৬ মার্চে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নতুন করে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে উত্তেজনা বাড়লে এক সময় জেলার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।