ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে উৎপাদনে ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জের চুন ১৫ কারখানার মালিকরা (পর্ব-২) বারইখালিতে পুত্রের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা, আসামি ফরিদ ও আসিফ গ্রেফতার নান্দাইলে বিদ্যুৎপৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু বাংলাদেশী তৈরি টুটু পিস্তল,চাইনিজ কুড়াল ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ ০৪ জন কিশোর গ্যাং এর সদস্য গ্রেফতার বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে মটরসাইকেল চালককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এর মিজমিজি এলাকায় বৈধ গ্যাস লাইন পুনঃ সংযোগ এর দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মোংলায় ২৮৪ জন বনদস্যুকে ঈদ উপহার দিলো র‌্যাব-৮ লক্ষ্মীপুরে টাকা আত্মসাতের মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে লক্ষ্মীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বীজ ব্যবসায়ীর জরিমানা কুয়াকাটা সৈকতে পদ্মার ঢেউ, পর্যটকরা এখন দক্ষিণমুখী

রামগড় স্থলবন্দর চালু শীঘ্রই, পর্যটন ও বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনা

২৬ মার্চ উদ্বোধন হবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু
স্টাফ রিপোর্টার রামগড় ঘুরে এসে ।।

শতভাগ প্রস্তুত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। ফেনী নদীর এপারে রামগড় এবং ওপারে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুমকে যুক্ত করেছে এই সেতু। সেখানে রামগড় স্থলবন্দর চালু হওয়া কেবলই সময়ের ব্যাপার, যা হবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাতরাজ্যের গেটওয়ে। কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং মীরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ভারতের শিল্পজোন। ফলে এই বন্দরটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম স্থলবন্দরে রূপ নেবে, এমনই আশা করা হচ্ছে। এছাড়া খুলে যাবে ব্যবসা বাণিজ্য এবং পর্যটনে অপার সম্ভাবনার দুয়ার।

এদিকে আগামী ২৬ মার্চ এই সেতু উদ্বোধন করার কথা। এর আগে ১৬ মার্চ দু’দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ির রামগড়ে চালুর অপেক্ষায় থাকা এ বন্দর দেশের ১৫তম এবং পার্বত্য এলাকার প্রথম স্থলবন্দর। দু’পাড়েই অধীর অপেক্ষা, কবে খুলছে এই প্রবেশদ্বার। অধিবাসীদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে এ বন্দর। ক্রমেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে রামগড় স্থলবন্দর। ভারতের ভূমিবদ্ধ সেভেন সিস্টারস-খ্যাত সাত রাজ্যের মানুষ মুখিয়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা গ্রহণ এবং সাগরের খোলা হাওয়ায় বুকভরা শ্বাস নিতে।

চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ রামগড়। সেখানেই নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১। ২০১৭ সালের নবেম্বর মাসে শুরু হওয়া সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দু’বছরের মধ্যে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা বিলম্বিত হয়। তবে গত জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেছে। দৃষ্টিনন্দন এ সেতু দেখতে প্রতিদিনই দু’পাড়ে ভিড় উভয় দেশের মানুষের। অচিরেই খুলে যাবে এই প্রবেশ পথ। নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার সেতু পরিদর্শন করে গেছেন। এখন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সিডিউল অনুযায়ী যে কোন সময়ে তা উন্মুক্ত হবে যানবাহন চলাচলের জন্য।

সম্পূর্ণ ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপী। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪১২ মিটার এবং প্রস্থ ১৪ দশমিক ৮০ মিটার। দুইলেন বিশিষ্ট এক্সট্রা ডোজড ক্যাবল স্টেইট আরসিসি সেতু এটি। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও গুরুত্বে অনেক বড়। কারণ, এ সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করবে আমদানি রফতানির পণ্যবাহী যানবাহন। শুধুমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যই নয়, অসম, মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুনাচল ও নাগাল্যান্ডসহ সাত রাজ্যের গেটওয়ে হতে যাচ্ছে এ স্থলবন্দর।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সরকারই এই স্থলবন্দর এবং কানেক্টিভিটিকে দেখছে উইন উইন হিসেবে। কেননা, এ পথে ভারত যেমন বন্দর সুবিধা পাবে তেমনিভাবে বাংলাদেশও পাবে ভারতে প্রবেশের আরেকটি সুবিধা। চট্টগ্রামের মীরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনীর সোনাগাজীতে তৈরি হচ্ছে প্রায় ত্রিশ হাজার একর ভূমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। সেখানে প্রায় এক হাজার একর ভূমিতে হচ্ছে ভারতীয় শিল্পজোন। রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসা-যাওয়া বেশ সুবিধাজনক হবে। ত্রিপুরার আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত এসে গেছে ট্রেন, যা চালু হয়েছে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। এছাড়া ভারতের জাতীয় মহাসড়ক-৮ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাব্রুম, যা চলে গেছে আগরতলা হয়ে অসমের করিমগঞ্জ পর্যন্ত। সবমিলে ভারতীয় প্রান্তে প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ। এখন শুধু বাংলাদেশ প্রান্ত থেকে উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।

রামগড়ে স্থলবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা ওই বছর ভারত সফরে গেলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে রামগড়ে ফেনী নদীর ওপরে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০১৫ সালের ৬ জুন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ফলক উন্মোচন করেন। ২০১৭ সালের নবেম্বর মাসে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সেতুতে পিলার ১২টি, যা ৮টি বাংলাদেশ অংশে এবং ৪টি ভারতীয় অংশে। সেতুটি দুই লেনের হলেও বেশ মজবুত স্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে, যার স্থায়ীত্বকাল ধরা হয়েছে প্রায় এক শ’ বছর।

জাতীয় আরো খবর.......
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে উৎপাদনে ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জের চুন ১৫ কারখানার মালিকরা (পর্ব-২)

রামগড় স্থলবন্দর চালু শীঘ্রই, পর্যটন ও বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনা

আপডেট টাইম : ০৬:১৫:৫০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

২৬ মার্চ উদ্বোধন হবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু
স্টাফ রিপোর্টার রামগড় ঘুরে এসে ।।

শতভাগ প্রস্তুত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। ফেনী নদীর এপারে রামগড় এবং ওপারে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুমকে যুক্ত করেছে এই সেতু। সেখানে রামগড় স্থলবন্দর চালু হওয়া কেবলই সময়ের ব্যাপার, যা হবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাতরাজ্যের গেটওয়ে। কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং মীরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ভারতের শিল্পজোন। ফলে এই বন্দরটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম স্থলবন্দরে রূপ নেবে, এমনই আশা করা হচ্ছে। এছাড়া খুলে যাবে ব্যবসা বাণিজ্য এবং পর্যটনে অপার সম্ভাবনার দুয়ার।

এদিকে আগামী ২৬ মার্চ এই সেতু উদ্বোধন করার কথা। এর আগে ১৬ মার্চ দু’দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ির রামগড়ে চালুর অপেক্ষায় থাকা এ বন্দর দেশের ১৫তম এবং পার্বত্য এলাকার প্রথম স্থলবন্দর। দু’পাড়েই অধীর অপেক্ষা, কবে খুলছে এই প্রবেশদ্বার। অধিবাসীদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে এ বন্দর। ক্রমেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে রামগড় স্থলবন্দর। ভারতের ভূমিবদ্ধ সেভেন সিস্টারস-খ্যাত সাত রাজ্যের মানুষ মুখিয়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা গ্রহণ এবং সাগরের খোলা হাওয়ায় বুকভরা শ্বাস নিতে।

চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ রামগড়। সেখানেই নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১। ২০১৭ সালের নবেম্বর মাসে শুরু হওয়া সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দু’বছরের মধ্যে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা বিলম্বিত হয়। তবে গত জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেছে। দৃষ্টিনন্দন এ সেতু দেখতে প্রতিদিনই দু’পাড়ে ভিড় উভয় দেশের মানুষের। অচিরেই খুলে যাবে এই প্রবেশ পথ। নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার সেতু পরিদর্শন করে গেছেন। এখন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সিডিউল অনুযায়ী যে কোন সময়ে তা উন্মুক্ত হবে যানবাহন চলাচলের জন্য।

সম্পূর্ণ ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপী। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪১২ মিটার এবং প্রস্থ ১৪ দশমিক ৮০ মিটার। দুইলেন বিশিষ্ট এক্সট্রা ডোজড ক্যাবল স্টেইট আরসিসি সেতু এটি। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও গুরুত্বে অনেক বড়। কারণ, এ সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করবে আমদানি রফতানির পণ্যবাহী যানবাহন। শুধুমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যই নয়, অসম, মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুনাচল ও নাগাল্যান্ডসহ সাত রাজ্যের গেটওয়ে হতে যাচ্ছে এ স্থলবন্দর।

বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সরকারই এই স্থলবন্দর এবং কানেক্টিভিটিকে দেখছে উইন উইন হিসেবে। কেননা, এ পথে ভারত যেমন বন্দর সুবিধা পাবে তেমনিভাবে বাংলাদেশও পাবে ভারতে প্রবেশের আরেকটি সুবিধা। চট্টগ্রামের মীরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনীর সোনাগাজীতে তৈরি হচ্ছে প্রায় ত্রিশ হাজার একর ভূমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। সেখানে প্রায় এক হাজার একর ভূমিতে হচ্ছে ভারতীয় শিল্পজোন। রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসা-যাওয়া বেশ সুবিধাজনক হবে। ত্রিপুরার আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত এসে গেছে ট্রেন, যা চালু হয়েছে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। এছাড়া ভারতের জাতীয় মহাসড়ক-৮ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাব্রুম, যা চলে গেছে আগরতলা হয়ে অসমের করিমগঞ্জ পর্যন্ত। সবমিলে ভারতীয় প্রান্তে প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ। এখন শুধু বাংলাদেশ প্রান্ত থেকে উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।

রামগড়ে স্থলবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা ওই বছর ভারত সফরে গেলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে রামগড়ে ফেনী নদীর ওপরে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০১৫ সালের ৬ জুন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ফলক উন্মোচন করেন। ২০১৭ সালের নবেম্বর মাসে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সেতুতে পিলার ১২টি, যা ৮টি বাংলাদেশ অংশে এবং ৪টি ভারতীয় অংশে। সেতুটি দুই লেনের হলেও বেশ মজবুত স্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে, যার স্থায়ীত্বকাল ধরা হয়েছে প্রায় এক শ’ বছর।