ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিএমপির ৬ কর্মকর্তার বদলি কালিয়াকৈরে পালিত হলো প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত রায়পুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সেভ দ্য রোডের ১৫ দিনব্যাপী সচেতনতা ক্যাম্পেইন সমাপ্ত জামালপুরে কৃষককূল লাউ চাষে স্বাবম্বিতা অর্জন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্রাগারের ভিডিও সম্প্রচার এক পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসর মাদক কারবার-মানি লন্ডারিংয়ে বদির দুই ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে ঠাকুরগাঁওয়ে চেতনা নাশক স্প্রে ব্যবহার করে চুরি এলাকায় আতঙ্ক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন মামলা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি কলেজ ছাত্রকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত হংকংয়ের বাসিন্দাদের ‘নিরাপদ আশ্রয়’দেওয়ার প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেদেশে অবস্থানরত হংকংয়ের বাসিন্দাদের স্বল্পকালীন সময়ের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা ‘সেইফ হেভেন’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন । চীন হংকংয়ের ‘স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করায়’ শহরটি থেকে আসা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১৮ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবে, বলেছেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের হাজার হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। গত বছর চীন হংকংয়ের ওপর নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারও শহরটির বাসিন্দাদের যুক্তরাজ্যে বসবাস ও পরবর্তীতে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বাইডেন বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থেই’ হংকংয়ের বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

“শহরটিতে এখনও যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে চীন সেগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা সীমিত করে আনছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্বে দমনপীড়ন চালাচ্ছে,” বলেছেন বাইডেন।

হংকংয়ে নিরাপত্তা আইনে সরকারবিরোধী রাজনীতিক ও গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনার দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। ওয়াশিংটনে চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিউ বাইডেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে কড়া সমালোচনা করেছেন।

“সত্যকে উপেক্ষা ও বিকৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মোটাদাগে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে,” বলেছেন তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী হংকংয়ের এক গবেষক ম্যাগি শাম অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে হংকংয়ের অনেক শিক্ষার্থীই শহরটি ছেড়ে এসেছিল, ফেরা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে।

“আমি আনন্দিত এবং বাইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ত্যাগ করেনি,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন ম্যাগি।

বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের প্রায় এক লাখ বাসিন্দা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক হংকং ডেমোক্রেসি কাউন্সিরের স্যামুয়েল চু। এই সংগঠনটি হংকংয়ের বাসিন্দাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেইফ হেভেনের’ ঘোষণা দিতে বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।

“যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের বাসিন্দাদের সংখ্যা বেশ বড়। আমার মনে হয়, বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে এদের বড় অংশেরই উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন স্যামুয়েল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের সব বাসিন্দা এই ‘সেইফ হেভেন’ সুবিধা পাবেন না; যারা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত, তারা এর বাইরে থাকবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যারা ‘সেইফ হেভেন’ সুবিধা পাবেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতিও চাইতে পারবেন, বলেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী আলেহান্দ্রো মায়োরকাস।

আরো খবর.......

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএমপির ৬ কর্মকর্তার বদলি

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত হংকংয়ের বাসিন্দাদের ‘নিরাপদ আশ্রয়’দেওয়ার প্রস্তাব

আপডেট টাইম : ০৭:২০:০৯ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৬ আগস্ট ২০২১

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেদেশে অবস্থানরত হংকংয়ের বাসিন্দাদের স্বল্পকালীন সময়ের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা ‘সেইফ হেভেন’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন । চীন হংকংয়ের ‘স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করায়’ শহরটি থেকে আসা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১৮ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবে, বলেছেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের হাজার হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। গত বছর চীন হংকংয়ের ওপর নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারও শহরটির বাসিন্দাদের যুক্তরাজ্যে বসবাস ও পরবর্তীতে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

বাইডেন বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থেই’ হংকংয়ের বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

“শহরটিতে এখনও যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে চীন সেগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা সীমিত করে আনছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্বে দমনপীড়ন চালাচ্ছে,” বলেছেন বাইডেন।

হংকংয়ে নিরাপত্তা আইনে সরকারবিরোধী রাজনীতিক ও গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনার দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। ওয়াশিংটনে চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিউ বাইডেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে কড়া সমালোচনা করেছেন।

“সত্যকে উপেক্ষা ও বিকৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মোটাদাগে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে,” বলেছেন তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী হংকংয়ের এক গবেষক ম্যাগি শাম অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে হংকংয়ের অনেক শিক্ষার্থীই শহরটি ছেড়ে এসেছিল, ফেরা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তার মধ্যে।

“আমি আনন্দিত এবং বাইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ত্যাগ করেনি,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন ম্যাগি।

বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের প্রায় এক লাখ বাসিন্দা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক হংকং ডেমোক্রেসি কাউন্সিরের স্যামুয়েল চু। এই সংগঠনটি হংকংয়ের বাসিন্দাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেইফ হেভেনের’ ঘোষণা দিতে বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।

“যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের বাসিন্দাদের সংখ্যা বেশ বড়। আমার মনে হয়, বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে এদের বড় অংশেরই উপকৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন স্যামুয়েল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হংকংয়ের সব বাসিন্দা এই ‘সেইফ হেভেন’ সুবিধা পাবেন না; যারা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত, তারা এর বাইরে থাকবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যারা ‘সেইফ হেভেন’ সুবিধা পাবেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতিও চাইতে পারবেন, বলেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী আলেহান্দ্রো মায়োরকাস।