ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে Logo লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট Logo হাইকোর্টে এমপি আমির হামজার আগাম জামিন Logo ভাঙ্গুড়ায় জনতা ট্রেসপোট এজেন্সিতে অভিযান: নকল দুধ তৈরির কেমিক্যাল জব্দ ও ধ্বংস Logo নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির Logo সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে Logo আল্লাহর দেওয়া বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু Logo টানা তাপদাহের মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি Logo ইসলামপুরে আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মী জামিন চেয়ে আদালতে স্বেচায় আত্মসমর্পন করায় আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন Logo কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে গজারি ইউনিয়নের প্রধান নুরুল ইসলাম খোলকানী অনুষ্ঠিত, সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সুদানের, লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক গণহত্যার শিকার সুদানের আল-ফাশার শহরের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জর্জরিত সুদানের সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ’কে ‘নির্মূল’ করতে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সভাপতিত্বে সামরিক প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসান কাবরুন বলেন, ‘শান্তি অর্জনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা এবং প্রস্তাবনার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘সুদানের জনগণের লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। যুদ্ধের জন্য আমাদের প্রস্তুতি একটি বৈধ জাতীয় অধিকার।’

সেনাবাহিনী মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের কোনো বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন ‘এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ অবসান দেখতে চায়, ঠিক যেমনটি আমরা অন্য অনেকের সঙ্গে করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো বর্তমানে (সুদানের) মাটিতে পরিস্থিতি খুবই জটিল।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি অর্জনে ‘সক্রিয়ভাবে জড়িত’ রয়েছে।

কেন এই দীর্ঘ সংঘাত

আফ্রিকার হর্নে অবস্থিত সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশটি ২০১৯ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর থেকে সংঘাত এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের চক্রে আটকা পড়েছে।

সুদানের একজন বিশ্লেষক বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল সুদানের সংঘাতে গভীরভাবে জড়িত। তার মতে, দেশটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, সোনার খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আরবীকরণ’ এজেন্ডা।

বছরের পর বছর ধরে চলা জনসাধারণের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের পর ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে অস্থিরতার এক নতুন যুগের সূচনা হয়।

সুদানি সেনাবাহিনী এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক সময় আল-বশিরের শাসনব্যবস্থার পতনে মিত্র হিসেবে কাজ করেছিল। এরপর দুই বাহিনীর ক্ষমতার লড়াই ২০২৩ সালের এপ্রিলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। এই দ্বন্দ্ব জাতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।

চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। এরই মাঝে আল-ফাশার শহরে আরএসএফ-এর সাম্প্রতিক হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সুদানের, লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

সাম্প্রতিক গণহত্যার শিকার সুদানের আল-ফাশার শহরের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জর্জরিত সুদানের সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ’কে ‘নির্মূল’ করতে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সভাপতিত্বে সামরিক প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসান কাবরুন বলেন, ‘শান্তি অর্জনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা এবং প্রস্তাবনার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘সুদানের জনগণের লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। যুদ্ধের জন্য আমাদের প্রস্তুতি একটি বৈধ জাতীয় অধিকার।’

সেনাবাহিনী মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের কোনো বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন ‘এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ অবসান দেখতে চায়, ঠিক যেমনটি আমরা অন্য অনেকের সঙ্গে করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো বর্তমানে (সুদানের) মাটিতে পরিস্থিতি খুবই জটিল।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি অর্জনে ‘সক্রিয়ভাবে জড়িত’ রয়েছে।

কেন এই দীর্ঘ সংঘাত

আফ্রিকার হর্নে অবস্থিত সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশটি ২০১৯ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর থেকে সংঘাত এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের চক্রে আটকা পড়েছে।

সুদানের একজন বিশ্লেষক বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল সুদানের সংঘাতে গভীরভাবে জড়িত। তার মতে, দেশটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, সোনার খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আরবীকরণ’ এজেন্ডা।

বছরের পর বছর ধরে চলা জনসাধারণের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের পর ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে অস্থিরতার এক নতুন যুগের সূচনা হয়।

সুদানি সেনাবাহিনী এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক সময় আল-বশিরের শাসনব্যবস্থার পতনে মিত্র হিসেবে কাজ করেছিল। এরপর দুই বাহিনীর ক্ষমতার লড়াই ২০২৩ সালের এপ্রিলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। এই দ্বন্দ্ব জাতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।

চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। এরই মাঝে আল-ফাশার শহরে আরএসএফ-এর সাম্প্রতিক হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে।


প্রিন্ট