ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন। Logo নওগাঁয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উৎযাপন। Logo মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ Logo নববর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পেলো নতুন জামা Logo নওগাঁর নিয়ামতপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবের আবহে আনন্দ শোভাযাত্রা… Logo কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে পহেলা বৈশাখের আনন্দঘন পরিবেশ Logo রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল Logo ঈদগাঁওতে পহেলা বৈশাখ উৎসবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষোভ Logo নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বৈশাখী শোভাযাত্রা Logo যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বরাবরের মতোই চলছিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। জীবন বাঁচাতে যে যার মতো ছুটছেন। মুহূর্তেই বেদনাদায়ক ও বিষাদময় ঘটনায় পরিণত হয় বাঙালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান।

ঘৃণ্যতম সে হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৯ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরো একজনের। কলঙ্কিত সেই বোমা হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচার। দুই মামলার একটিতে রায় হলেও আরেকটি এখনো আটকে আছে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতেই।

রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলাটির রায় হয় ঘটনার ১৩ বছর পর। তাতে আটজনের ফাঁসি ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। তবে একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি আজও। বর্তমানে মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে আদালত। ওই দিনই ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ (আসামি শনাক্তকরণ) শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত। এরপর ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি বদলি করে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এ আদালতে পাঠানো হয়। চার বছরের বেশি সময় ধরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও অন্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করেননি কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক তাওহীদা আক্তারের আদালত আগামী ৯ জুলাই আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

বিস্ফোরক আইনের মামলাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হত্যা মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই মামলাটি শেষ করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। এই মামলার অনেক প্রয়োজনীয় সাক্ষীকে বিভিন্ন কারণে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটি হাই কোর্টেও বিচারাধীন ছিল। সেজন্য অনেকটা সময় লেগেছে। যেহেতু হত্যা মামলাটি প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক আসামির ফাঁসির সাজাসহ অন্যান্য সাজা হয়েছে। আমরা এই মামলাতেও আশাবাদী যে আসামিদের দোষীরা সর্বোচ্চ সাজা পাবে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই মামলায় কারাগারে থাকা সাত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলার শুনানি এগোচ্ছে না।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কিছু আসামি এখনো কাস্টোডিতে আছে। ১৭-১৮ বছর চলে গেছে। আমরা এই ঘটনায় ভিক্টিমাইজড। আমাদের নাম এজাহারে ছিল না। পরবর্তী সময়ে একজন আসামির জবানবন্দির প্রেক্ষাপটে এদের ইপ্লিকেট করা হয়েছে। কোনো সাক্ষীও বলেনি যে, আসামিদের দেখেছেন এটা করতে। হাইকোর্টের জাজমেন্টও আছে যে, জবানবন্দির সঙ্গে কোলাবোরেটিভ এভিডেন্স না থাকলে কাউকে আটক রাখা যাবে না। কিন্তু তারাও বছরের পর বছর কাস্টডিতে। একটা ক্রিমিনাল মামলা যদি ২০ বছর চলতে থাকে আর আসামিরা কাস্টডিতে থাকে এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামিরা হলেন—আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, শাহাদাত উল্লাহ অরফে জুয়েল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মুফতি আব্দুল হাই, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ও মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন। আসামিদের মধ্যে প্রথম সাতজন জেলহাজতে এবং পরের দুজন পলাতক রয়েছেন। সর্বশেষ দুজন জামিনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মাওলানা শফিকুর রহমান। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন—শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের। দণ্ড পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণে বোমা হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো একজন। ওই ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন।

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বরাবরের মতোই চলছিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। জীবন বাঁচাতে যে যার মতো ছুটছেন। মুহূর্তেই বেদনাদায়ক ও বিষাদময় ঘটনায় পরিণত হয় বাঙালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান।

ঘৃণ্যতম সে হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৯ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরো একজনের। কলঙ্কিত সেই বোমা হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচার। দুই মামলার একটিতে রায় হলেও আরেকটি এখনো আটকে আছে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতেই।

রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলাটির রায় হয় ঘটনার ১৩ বছর পর। তাতে আটজনের ফাঁসি ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। তবে একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি আজও। বর্তমানে মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে আদালত। ওই দিনই ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ (আসামি শনাক্তকরণ) শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত। এরপর ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি বদলি করে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এ আদালতে পাঠানো হয়। চার বছরের বেশি সময় ধরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও অন্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করেননি কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক তাওহীদা আক্তারের আদালত আগামী ৯ জুলাই আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

বিস্ফোরক আইনের মামলাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হত্যা মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই মামলাটি শেষ করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। এই মামলার অনেক প্রয়োজনীয় সাক্ষীকে বিভিন্ন কারণে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটি হাই কোর্টেও বিচারাধীন ছিল। সেজন্য অনেকটা সময় লেগেছে। যেহেতু হত্যা মামলাটি প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক আসামির ফাঁসির সাজাসহ অন্যান্য সাজা হয়েছে। আমরা এই মামলাতেও আশাবাদী যে আসামিদের দোষীরা সর্বোচ্চ সাজা পাবে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই মামলায় কারাগারে থাকা সাত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলার শুনানি এগোচ্ছে না।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কিছু আসামি এখনো কাস্টোডিতে আছে। ১৭-১৮ বছর চলে গেছে। আমরা এই ঘটনায় ভিক্টিমাইজড। আমাদের নাম এজাহারে ছিল না। পরবর্তী সময়ে একজন আসামির জবানবন্দির প্রেক্ষাপটে এদের ইপ্লিকেট করা হয়েছে। কোনো সাক্ষীও বলেনি যে, আসামিদের দেখেছেন এটা করতে। হাইকোর্টের জাজমেন্টও আছে যে, জবানবন্দির সঙ্গে কোলাবোরেটিভ এভিডেন্স না থাকলে কাউকে আটক রাখা যাবে না। কিন্তু তারাও বছরের পর বছর কাস্টডিতে। একটা ক্রিমিনাল মামলা যদি ২০ বছর চলতে থাকে আর আসামিরা কাস্টডিতে থাকে এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামিরা হলেন—আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, শাহাদাত উল্লাহ অরফে জুয়েল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মুফতি আব্দুল হাই, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ও মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন। আসামিদের মধ্যে প্রথম সাতজন জেলহাজতে এবং পরের দুজন পলাতক রয়েছেন। সর্বশেষ দুজন জামিনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মাওলানা শফিকুর রহমান। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন—শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের। দণ্ড পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণে বোমা হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো একজন। ওই ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।


প্রিন্ট