ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন। Logo নওগাঁয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উৎযাপন। Logo মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ Logo নববর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পেলো নতুন জামা Logo নওগাঁর নিয়ামতপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবের আবহে আনন্দ শোভাযাত্রা… Logo কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে পহেলা বৈশাখের আনন্দঘন পরিবেশ Logo রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল Logo ঈদগাঁওতে পহেলা বৈশাখ উৎসবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষোভ Logo নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বৈশাখী শোভাযাত্রা Logo যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ

টঙ্গীতে অদৃশ্য ইশারায় জাভান হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে (পর্ব১)

গাজীপুর মহানগর টঙ্গী আমতলীতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে জাভান আবাসিক হোটেল এই জাভান হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ও অশ্লীল নৃত্য আয়োজন থেকে শুরু  করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত গভীর হলেই হোটেলটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় অসামাজিক তৎপরতা যা এখন আর গোপন নেই কারও কাছেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই জাভান হোটেলের আশপাশে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত লোকজনের যাতায়াত, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং কিছু নারীদের দিয়ে অশ্লীল নিত্য নাচের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে এসব আয়োজনের আড়ালেই চলে দেহব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কার্যক্রম অন্যদিকে অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,টঙ্গী জাভান হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার বিস্তার। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হোটেলটির আশপাশে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এখানে হাত বাড়ালেই মাদক মেলে এটা এখন ওপেন সিক্রেট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাভান হোটেল টঙ্গী এলাকায় মাদক কেনাবেচার একটি পরিচিত স্পটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এলাকাবাসীর দাবী এসব অপকর্ম সবকিছু প্রকাশ্যে চললেও কেন প্রশাসন তা বন্ধ করতে পারছে না স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছু  দিন আগে এই হোটেলে সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ২১ নারী সহ মোট ৪০জন যৌনকর্মীকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী । তবে অভিযানের পর সাময়িকভাবে সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে সংশ্লিষ্টরা আবারও আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, এভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে বিপথগামী হবে। পরিবার ও সমাজব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

টঙ্গী জাভান হোটেলের পূর্বতন মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগ-এর দোসর হিসেবে পরিচিত ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ বাদল মিয়া, যিনি ৫ই আগস্ট এর পরে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন স্থানীয়দের দাবি।

অনুযায়ী, বর্তমানে হোটেলটির মালিকানা রয়েছে বিএনপি-র নেতা এফ. এ. সাইমন রহমান। বিষয়টি নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝর চলছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা জোর দাবি জাভান হোটেলকে ঘিরে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের এই নীরবতা কি শুধুই অবহেলা নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক কোনো ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন।

টঙ্গীতে অদৃশ্য ইশারায় জাভান হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে (পর্ব১)

আপডেট সময় ১০:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর মহানগর টঙ্গী আমতলীতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে জাভান আবাসিক হোটেল এই জাভান হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ও অশ্লীল নৃত্য আয়োজন থেকে শুরু  করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত গভীর হলেই হোটেলটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় অসামাজিক তৎপরতা যা এখন আর গোপন নেই কারও কাছেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই জাভান হোটেলের আশপাশে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত লোকজনের যাতায়াত, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং কিছু নারীদের দিয়ে অশ্লীল নিত্য নাচের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে এসব আয়োজনের আড়ালেই চলে দেহব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কার্যক্রম অন্যদিকে অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,টঙ্গী জাভান হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার বিস্তার। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হোটেলটির আশপাশে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এখানে হাত বাড়ালেই মাদক মেলে এটা এখন ওপেন সিক্রেট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাভান হোটেল টঙ্গী এলাকায় মাদক কেনাবেচার একটি পরিচিত স্পটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এলাকাবাসীর দাবী এসব অপকর্ম সবকিছু প্রকাশ্যে চললেও কেন প্রশাসন তা বন্ধ করতে পারছে না স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছু  দিন আগে এই হোটেলে সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ২১ নারী সহ মোট ৪০জন যৌনকর্মীকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী । তবে অভিযানের পর সাময়িকভাবে সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে সংশ্লিষ্টরা আবারও আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, এভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে বিপথগামী হবে। পরিবার ও সমাজব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

টঙ্গী জাভান হোটেলের পূর্বতন মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগ-এর দোসর হিসেবে পরিচিত ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ বাদল মিয়া, যিনি ৫ই আগস্ট এর পরে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন স্থানীয়দের দাবি।

অনুযায়ী, বর্তমানে হোটেলটির মালিকানা রয়েছে বিএনপি-র নেতা এফ. এ. সাইমন রহমান। বিষয়টি নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝর চলছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা জোর দাবি জাভান হোটেলকে ঘিরে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের এই নীরবতা কি শুধুই অবহেলা নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক কোনো ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।


প্রিন্ট