ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন। Logo নওগাঁয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উৎযাপন। Logo মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ Logo নববর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পেলো নতুন জামা Logo নওগাঁর নিয়ামতপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসবের আবহে আনন্দ শোভাযাত্রা… Logo কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে পহেলা বৈশাখের আনন্দঘন পরিবেশ Logo রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল Logo ঈদগাঁওতে পহেলা বৈশাখ উৎসবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষোভ Logo নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বৈশাখী শোভাযাত্রা Logo যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো চীনের জাহাজ

দুটি ব্যালটই নিতে হবে, সিল না দিলেও ফেলতে হবে বাক্সে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন করায় ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের দিন দুটি ব্যালটেই কি ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক? কেউ চাইলে কি শুধু একটি ভোট দিতে পারবেন? এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট করেছে, ভোটারকে দুটি ব্যালটই নিতে হবে। তবে চাইলে তিনি একটিতে ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারবেন। ফাঁকা ব্যালটটি গণনার সময় বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো রঙের এবং গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি রঙের। সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

একই বাক্সে দুই ব্যালট

গণভোট-সংক্রান্ত এক পরিপত্রে ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালটই একই ব্যালট বাক্সে ফেলবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে দুই ধরনের ব্যালট আলাদা করবেন এবং পরে আলাদাভাবে গণনা করবেন।

একটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মতিয়ুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, একটি ব্যালট নেওয়ার কোনো সুযোগ এবার থাকছে না। একজন ভোটারকে একসঙ্গে দুটি ব্যালটই সরবরাহ করা হবে। তিনি চাইলে শুধু একটি ব্যালটে ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারবেন; তবে একটি ব্যালট নেওয়া এবং অন্যটি না নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

ইসি সূত্র জানায়, কোনো ভোটার গণভোটে ভোট দিতে না চাইলেও তাকে গণভোটের ব্যালট নিতে হবে এবং সেটি ভাঁজ করে ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। গণনার সময় ফাঁকা ব্যালট পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী সেটি বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিয়ম অনুসরণ করেই নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক পদের জন্য একাধিক ব্যালট দেওয়া হলেও ভোটার চাইলে কোনো নির্দিষ্ট পদের ব্যালটে ভোট না দিতে পারেন—এক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

গণনার পদ্ধতি ও ফল প্রকাশ

ভোটগণনা শেষে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোটের ক্ষেত্রে আলাদা ফরমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট গণনা করে প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফলও আলাদা ফরমে যুক্ত করা হবে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফল টানিয়ে দেবেন এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা আসনভিত্তিক ফলাফল স্বাক্ষর করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।

নতুন অভিজ্ঞতা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য

১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৃতীয় গণভোট। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করায় এটি নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্যও একটি নতুন অভিজ্ঞতা। নির্বাচন কমিশনের আশা, নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করলে একই দিনে দুটি ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে না।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসব-উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন।

দুটি ব্যালটই নিতে হবে, সিল না দিলেও ফেলতে হবে বাক্সে

আপডেট সময় ১১:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন করায় ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের দিন দুটি ব্যালটেই কি ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক? কেউ চাইলে কি শুধু একটি ভোট দিতে পারবেন? এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট করেছে, ভোটারকে দুটি ব্যালটই নিতে হবে। তবে চাইলে তিনি একটিতে ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারবেন। ফাঁকা ব্যালটটি গণনার সময় বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো রঙের এবং গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি রঙের। সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

একই বাক্সে দুই ব্যালট

গণভোট-সংক্রান্ত এক পরিপত্রে ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালটই একই ব্যালট বাক্সে ফেলবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে দুই ধরনের ব্যালট আলাদা করবেন এবং পরে আলাদাভাবে গণনা করবেন।

একটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মতিয়ুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, একটি ব্যালট নেওয়ার কোনো সুযোগ এবার থাকছে না। একজন ভোটারকে একসঙ্গে দুটি ব্যালটই সরবরাহ করা হবে। তিনি চাইলে শুধু একটি ব্যালটে ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারবেন; তবে একটি ব্যালট নেওয়া এবং অন্যটি না নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

ইসি সূত্র জানায়, কোনো ভোটার গণভোটে ভোট দিতে না চাইলেও তাকে গণভোটের ব্যালট নিতে হবে এবং সেটি ভাঁজ করে ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। গণনার সময় ফাঁকা ব্যালট পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী সেটি বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিয়ম অনুসরণ করেই নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক পদের জন্য একাধিক ব্যালট দেওয়া হলেও ভোটার চাইলে কোনো নির্দিষ্ট পদের ব্যালটে ভোট না দিতে পারেন—এক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

গণনার পদ্ধতি ও ফল প্রকাশ

ভোটগণনা শেষে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোটের ক্ষেত্রে আলাদা ফরমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট গণনা করে প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফলও আলাদা ফরমে যুক্ত করা হবে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফল টানিয়ে দেবেন এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা আসনভিত্তিক ফলাফল স্বাক্ষর করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।

নতুন অভিজ্ঞতা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য

১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৃতীয় গণভোট। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করায় এটি নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্যও একটি নতুন অভিজ্ঞতা। নির্বাচন কমিশনের আশা, নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করলে একই দিনে দুটি ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে না।


প্রিন্ট