ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে Logo লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট Logo হাইকোর্টে এমপি আমির হামজার আগাম জামিন Logo ভাঙ্গুড়ায় জনতা ট্রেসপোট এজেন্সিতে অভিযান: নকল দুধ তৈরির কেমিক্যাল জব্দ ও ধ্বংস Logo নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে বিরোধ: ঘুষিতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির Logo সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে Logo আল্লাহর দেওয়া বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু Logo টানা তাপদাহের মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি Logo ইসলামপুরে আওয়ামীলীগের ২৪ নেতাকর্মী জামিন চেয়ে আদালতে স্বেচায় আত্মসমর্পন করায় আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন Logo কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে গজারি ইউনিয়নের প্রধান নুরুল ইসলাম খোলকানী অনুষ্ঠিত, সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল

নামেই যুদ্ধবিরতি, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭০ হাজার ছাড়ালো

গাজার ধ্বংসস্তুপের পাশ দিয়ে রুটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এক শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। উপত্যকাজুড়ে স্থল, নৌ ও আকাশপথে চলমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হিসাব দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০–এর বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বনি সুহেইলা শহরে ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে গতকাল চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আল-জাজিরাকে বলেন, সকালে আল-ফারাবি স্কুলের কাছে বেসামরিক মানুষের একটি দলের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে জুমা ও ফাদি তামার আবু আসসি নামের দুই ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া গতকালও গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বে আল-কারারা শহরে বিমান হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। গাজার পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকা এবং দক্ষিণের রাফা শহরের পূর্বেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এর আগের দিন ইয়েলো লাইনের বাইরে বনি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল কমপক্ষে ৫৩৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, ‘গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীনভাবে খারাপ হচ্ছে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক বিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে

নামেই যুদ্ধবিরতি, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭০ হাজার ছাড়ালো

আপডেট সময় ১০:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

গাজার ধ্বংসস্তুপের পাশ দিয়ে রুটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এক শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। উপত্যকাজুড়ে স্থল, নৌ ও আকাশপথে চলমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হিসাব দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০–এর বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বনি সুহেইলা শহরে ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে গতকাল চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আল-জাজিরাকে বলেন, সকালে আল-ফারাবি স্কুলের কাছে বেসামরিক মানুষের একটি দলের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে জুমা ও ফাদি তামার আবু আসসি নামের দুই ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া গতকালও গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বে আল-কারারা শহরে বিমান হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। গাজার পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকা এবং দক্ষিণের রাফা শহরের পূর্বেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এর আগের দিন ইয়েলো লাইনের বাইরে বনি সুহেইলায় ড্রোন হামলায় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল কমপক্ষে ৫৩৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, ‘গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীনভাবে খারাপ হচ্ছে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক বিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে।


প্রিন্ট