ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo নবীনগরে মতবিনিময় সভা: তৃণমূলে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আন্তরিকতার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে Logo কিশোর গঞ্জ জেলা ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের আদেশেও দায়িত্ব পাননি চেয়ারম্যান রিপন Logo ছয় মাসেও ফেরেনি প্রতিবন্ধী রাজ্জাকের দোকান, আশ্বাসেই থমকে আছে প্রশাসনিক উদ্যোগ Logo রূপপুরের চুল্লিতে যেভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ Logo জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইইউ Logo কক্সবাজারে এমপি কাজলের প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হল বড় প্রকল্প Logo চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ মিয়ানমারের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের সামরিক সরকার, জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে, আগামী ডিসেম্বরে দেশের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতি এই অনুরোধের অর্থ হলো নির্বাচনের বৈধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা।

মিয়ানমারের নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর, এবং দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রায় ৫৫টি দল নিবন্ধন করেছে। তবে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা এই নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলকে মিন অং হ্লাইং-এর ক্ষমতা ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর দেশটি সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সাংবাদিকদের কারাবরণ এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের কারণে এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হবে না।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জান্তা সরকার একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে পদক্ষেপ প্রয়োজন, যা জান্তার এই নির্বাচনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধে বাংলাদেশ এখনও নীরব। একই অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও।

মিয়ানমারের নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মতামতও বিভিন্ন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেছেন, সব পক্ষের অংশগ্রহণে মিয়ানমারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতও ‘পর্যবেক্ষক দল’ পাঠাতে পারে। তবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন এখন অগ্রাধিকার নয়। আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

জাপানও জান্তা সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, এই পদক্ষেপ মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান কঠিন করবে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ মিয়ানমারের

আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের সামরিক সরকার, জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে, আগামী ডিসেম্বরে দেশের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতি এই অনুরোধের অর্থ হলো নির্বাচনের বৈধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা।

মিয়ানমারের নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর, এবং দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রায় ৫৫টি দল নিবন্ধন করেছে। তবে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা এই নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলকে মিন অং হ্লাইং-এর ক্ষমতা ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর দেশটি সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা ব্যাপক সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সাংবাদিকদের কারাবরণ এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের কারণে এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হবে না।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জান্তা সরকার একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে পদক্ষেপ প্রয়োজন, যা জান্তার এই নির্বাচনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধে বাংলাদেশ এখনও নীরব। একই অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও।

মিয়ানমারের নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মতামতও বিভিন্ন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেছেন, সব পক্ষের অংশগ্রহণে মিয়ানমারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারতও ‘পর্যবেক্ষক দল’ পাঠাতে পারে। তবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন এখন অগ্রাধিকার নয়। আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

জাপানও জান্তা সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, এই পদক্ষেপ মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান কঠিন করবে।


প্রিন্ট