ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন Logo নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি উদ্ধার সম্পন্ন, লাইন স্থাপনের কাজ চলছে Logo মহম্মদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ পেল ৫৮৫ জন Logo জামালপুরে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo জামালপুরে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo শ’হীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রু’হের মা’গফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল Logo বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ Logo ইরানে লারিজানি-সোলেইমানিসহ নৌসেনাদের জানাজা অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর এান তহবিল থেকে পীরগঞ্জে ৩শ পরিবারের মাঝে ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ 

ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই; নীরব হলো মনন-ভূবনের বাতিঘর

না ফেরার দেশে’ চলে গেলেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রতিথযশা লেখক ও সাহিত্য সমালোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

*একটি বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন বহু পরিচয়ে পরিচিত এক ক্ষণজন্মা মানুষ, অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক। মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী মিসেস সাজিদা মঈন ইসলাম ও একমাত্র পুত্র সৈয়দ শাফাকাত ইসলামসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার সময় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে মীরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

*শিকড় ও বংশ পরিচয়*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি বৃহত্তর সিলেটের মির্জাজাঙ্গালস্থ মণিপুরী রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক ও বংশ পরিচয় ছিল অত্যন্ত গৌরবময়।
পিতা: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, যিনি সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন।
মাতা: ভাষা সৈনিক ও শিক্ষাবিদ রাবেয়া খাতুন, যিনি সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

মামাদের পরিবার: রাবেয়া খাতুনের পিতা ছিলেন সিলেট শহরস্থ হাওয়াপাড়া (মৌলভী বাড়ি) নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওঃ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ আব্দুল আলী (ময়না মিয়া) এবং তাঁর ফুফাতো ভাই ছিলেন আসাম কেবিনেটের শিক্ষামন্ত্রী শামস-উল-উলামা মাওঃ আবু নসর মুহাম্মদ ওয়াহিদ। তাছাড়া রাবেয়া খাতুনের মাতামহ ছিলেন খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দর আলী (জেলা সাব-রেজিষ্টার) এবং তাঁর মামারা ছিলেন দেশ বিখ্যাত তিন সহোদর লেখক ও কথা সাহিত্যিক, সৈয়দ মোস্তফা আলী, সৈয়দ মুর্তাজা আলী, ড. সৈয়দ মুজতবা আলী।

পৈতৃক নিবাস ও ঐতিহ্য: তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মীরমহল্লা (সাহেব বাড়ি)। তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামেনী (রাহঃ)-এর সফর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রাহঃ)।

*শিক্ষাজীবন ও কর্মপরিধি*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭১ সালে স্নাতক ও ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনে আরও উচ্চতর শিখরে আরোহণ করে তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় (Queen’s University) থেকে ১৯৮১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। শিক্ষকতা ছিল তাঁর নেশা ও পেশা। তিনি একজন ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন মিসিসিপিতেও অধ্যাপনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর ইংরেজি ও মানবিক বিভাগে অধ্যাপনা চালিয়ে যান।

*সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন মূলত একজন সাহিত্য সমালোচক এবং তিনি নিজেকে “প্রশিক্ষণে সমালোচক আর তাগিদেই লেখক” হিসেবে বর্ণনা করতেন।
সমালোচনা ও গবেষণা: তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রাহমানসহ বহু খ্যাতিমান লেখকের সাহিত্য নিয়ে গভীর সমালোচনা ও গবেষণা করেছেন।

কথাসাহিত্য: তাঁর লেখালেখির মধ্যে কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর স্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- থাকা না থাকার গল্প, কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প, অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প, আজগুবি রাত এবং তিন পর্বের জীবন। তাঁর স্ব-অনূদিত ছোটগল্পের সংকলন The Merman’s Prayer and Other Stories বেশ আলোচিত।

প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক: তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চারুকলা বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি একজন খ্যাতিমান চিত্র সমালোচক (Art Critic) হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন।

কলামিস্ট: তিনি দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখতেন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নির্ভয়ে সত্য কথা উচ্চারণ করতেন।

*পুরস্কার ও সম্মাননা*
কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন:
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬)
একুশে পদক (সাহিত্য, ২০১৮)
প্রথম আলো ‘বুক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার (২০০৫)
কাগজ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (২০১৭)
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রয়াণ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করলো। এই গুণী শিক্ষকের স্মৃতি তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমেই চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমীন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাটেনি জ্বালানির সংকট, বহু পাম্পে দীর্ঘ লাইন

ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই; নীরব হলো মনন-ভূবনের বাতিঘর

আপডেট সময় ০৯:০২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

না ফেরার দেশে’ চলে গেলেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রতিথযশা লেখক ও সাহিত্য সমালোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

*একটি বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন বহু পরিচয়ে পরিচিত এক ক্ষণজন্মা মানুষ, অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক। মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী মিসেস সাজিদা মঈন ইসলাম ও একমাত্র পুত্র সৈয়দ শাফাকাত ইসলামসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার সময় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে মীরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

*শিকড় ও বংশ পরিচয়*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি বৃহত্তর সিলেটের মির্জাজাঙ্গালস্থ মণিপুরী রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক ও বংশ পরিচয় ছিল অত্যন্ত গৌরবময়।
পিতা: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, যিনি সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন।
মাতা: ভাষা সৈনিক ও শিক্ষাবিদ রাবেয়া খাতুন, যিনি সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

মামাদের পরিবার: রাবেয়া খাতুনের পিতা ছিলেন সিলেট শহরস্থ হাওয়াপাড়া (মৌলভী বাড়ি) নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওঃ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ আব্দুল আলী (ময়না মিয়া) এবং তাঁর ফুফাতো ভাই ছিলেন আসাম কেবিনেটের শিক্ষামন্ত্রী শামস-উল-উলামা মাওঃ আবু নসর মুহাম্মদ ওয়াহিদ। তাছাড়া রাবেয়া খাতুনের মাতামহ ছিলেন খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দর আলী (জেলা সাব-রেজিষ্টার) এবং তাঁর মামারা ছিলেন দেশ বিখ্যাত তিন সহোদর লেখক ও কথা সাহিত্যিক, সৈয়দ মোস্তফা আলী, সৈয়দ মুর্তাজা আলী, ড. সৈয়দ মুজতবা আলী।

পৈতৃক নিবাস ও ঐতিহ্য: তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মীরমহল্লা (সাহেব বাড়ি)। তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামেনী (রাহঃ)-এর সফর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রাহঃ)।

*শিক্ষাজীবন ও কর্মপরিধি*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭১ সালে স্নাতক ও ১৯৭২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনে আরও উচ্চতর শিখরে আরোহণ করে তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় (Queen’s University) থেকে ১৯৮১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। শিক্ষকতা ছিল তাঁর নেশা ও পেশা। তিনি একজন ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন মিসিসিপিতেও অধ্যাপনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর ইংরেজি ও মানবিক বিভাগে অধ্যাপনা চালিয়ে যান।

*সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান*
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন মূলত একজন সাহিত্য সমালোচক এবং তিনি নিজেকে “প্রশিক্ষণে সমালোচক আর তাগিদেই লেখক” হিসেবে বর্ণনা করতেন।
সমালোচনা ও গবেষণা: তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রাহমানসহ বহু খ্যাতিমান লেখকের সাহিত্য নিয়ে গভীর সমালোচনা ও গবেষণা করেছেন।

কথাসাহিত্য: তাঁর লেখালেখির মধ্যে কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর স্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- থাকা না থাকার গল্প, কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প, অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প, আজগুবি রাত এবং তিন পর্বের জীবন। তাঁর স্ব-অনূদিত ছোটগল্পের সংকলন The Merman’s Prayer and Other Stories বেশ আলোচিত।

প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক: তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চারুকলা বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি একজন খ্যাতিমান চিত্র সমালোচক (Art Critic) হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন।

কলামিস্ট: তিনি দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখতেন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নির্ভয়ে সত্য কথা উচ্চারণ করতেন।

*পুরস্কার ও সম্মাননা*
কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন:
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬)
একুশে পদক (সাহিত্য, ২০১৮)
প্রথম আলো ‘বুক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার (২০০৫)
কাগজ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (২০১৭)
ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রয়াণ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করলো। এই গুণী শিক্ষকের স্মৃতি তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমেই চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমীন।


প্রিন্ট