ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন Logo এস আলম থেকে ঘুস নেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান Logo দুর্ভোগের রাজধানী কারওয়ান বাজারে অব্যবস্থাপনা, নেপথ্যে চাঁদাবাজি মাহমুদা ডলি Logo মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান Logo আতঙ্কে বাঁশখালী প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ প্রতিবেদন চট্টগ্রাম Logo অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট আলফাজ আনাম Logo আজমিরীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় Logo মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও নয় পরেও নয় Logo এমসিএসকে-তে সাফল্য: ভাঙ্গুড়া ক্যাডেট কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo জামালপুরে ০৯ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ, প্রতিবাদে রাজপথে জনগণ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৫৬ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

ছবি: রয়টার্স

মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশটির জনগণ ক্ষুব্ধ। ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপে ক্যালদেরন কর্তৃক ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণার পর থেকে এই নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে প্রায় দেড় লাখে পৌঁছেছে। খবর বিবিসির।

গুমের ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে এবং তা বন্ধে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের দাবিতে নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং মানবাধিকার কর্মীরা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, কর্দোভা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে এসেছেন। এসময় তারা প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবামের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন এবং নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের পরিবারের দাবি, তাদের প্রিয়জনদের জোর করে মাদক চক্রে নিয়োগ করা হয়েছে এবং রাজি না হওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় মূলত মাদক চক্র এবং অন্যান্য অপরাধী দল দায়ী, তবে নিরাপত্তা বাহিনীও এসবের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

মেক্সিকোর ওয়াহাকা রাজ্য থেকে শুরু করে উত্তরের সোনোরা ও দুরাঙ্গো পর্যন্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন এবং এই সমস্যার সমাধানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এই বিক্ষোভের কারণে মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে নিজেরাই ‘বুসকাদোরেস’ নামে নিজস্ব অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এই দলটি উত্তর মেক্সিকোর গ্রামাঞ্চলে এবং মরুভূমিতে দিনরাত খোঁজ চালায়। কখনো কখনো তারা মাদক চক্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গণকবরের অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

এই অনুসন্ধানী দলগুলো নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। সম্প্রতি জলিস্কো অঙ্গরাজ্যে একটি অনুসন্ধানী দল একটি সন্দেহভাজন মাদক চক্রের খামার আবিষ্কার করে। সেই সময় অভিযানে যুক্ত কয়েকজনকেই গুম করে ফেলা হয়। পরে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, ওই জায়গায় কোনো সমাধির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে ‘একটি বিশাল আকারের মানবিক ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছে। মেক্সিকোতে বর্তমানে যে পরিমাণে গুমের ঘটনা ঘটছে, তা লাতিন আমেরিকার কিছু ভয়াবহ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গুয়াতেমালায় ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার এবং ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার সামরিক শাসনের সময় আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :

রাজধানীর গুলশান রাজউকের এস্টেট শাখায় উপ-পরিচালক লিটন সরকারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ফাইল গায়েব থেকে বিতর্কিত অনুমোদন

মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ, প্রতিবাদে রাজপথে জনগণ

আপডেট সময় ০২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ছবি: রয়টার্স

মেক্সিকোতে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশটির জনগণ ক্ষুব্ধ। ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপে ক্যালদেরন কর্তৃক ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণার পর থেকে এই নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে প্রায় দেড় লাখে পৌঁছেছে। খবর বিবিসির।

গুমের ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে এবং তা বন্ধে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের দাবিতে নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং মানবাধিকার কর্মীরা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, কর্দোভা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে এসেছেন। এসময় তারা প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবামের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন এবং নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিখোঁজদের পরিবারের দাবি, তাদের প্রিয়জনদের জোর করে মাদক চক্রে নিয়োগ করা হয়েছে এবং রাজি না হওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় মূলত মাদক চক্র এবং অন্যান্য অপরাধী দল দায়ী, তবে নিরাপত্তা বাহিনীও এসবের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

মেক্সিকোর ওয়াহাকা রাজ্য থেকে শুরু করে উত্তরের সোনোরা ও দুরাঙ্গো পর্যন্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন এবং এই সমস্যার সমাধানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এই বিক্ষোভের কারণে মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে নিজেরাই ‘বুসকাদোরেস’ নামে নিজস্ব অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এই দলটি উত্তর মেক্সিকোর গ্রামাঞ্চলে এবং মরুভূমিতে দিনরাত খোঁজ চালায়। কখনো কখনো তারা মাদক চক্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গণকবরের অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

এই অনুসন্ধানী দলগুলো নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। সম্প্রতি জলিস্কো অঙ্গরাজ্যে একটি অনুসন্ধানী দল একটি সন্দেহভাজন মাদক চক্রের খামার আবিষ্কার করে। সেই সময় অভিযানে যুক্ত কয়েকজনকেই গুম করে ফেলা হয়। পরে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, ওই জায়গায় কোনো সমাধির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে ‘একটি বিশাল আকারের মানবিক ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছে। মেক্সিকোতে বর্তমানে যে পরিমাণে গুমের ঘটনা ঘটছে, তা লাতিন আমেরিকার কিছু ভয়াবহ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গুয়াতেমালায় ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার এবং ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার সামরিক শাসনের সময় আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন।


প্রিন্ট