ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo টেকনাফে সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল আটক ৩ Logo ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টি চাহিদা পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ধান-গম চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষক প্রশিক্ষণ Logo মেলান্দহ উপজেলার যুবদলের নেতা  ইয়াবাসহ গ্রেফতার Logo পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ, ডিসি হিল ও সিআরবিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি Logo আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট—ডা. শফিকুর রহমান Logo ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” ২য় পর্ব কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ-সোহেল সিন্ডিকেটের শত কোটি টাকা প্রতারণা Logo ভাঙ্গুড়ায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত Logo সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমাল সরকার Logo পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় ভুয়া ডাক্তার আটক Logo হজ ভিসা নিয়ে সৌদির নতুন সিদ্ধান্ত

স্পিকার পদে আলোচনায় মঈন খান, ডেপুটিতে পার্থ

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সংসদের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এ দুটি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় ও জোটভিত্তিক পর্যায়ে চলছে বিস্তর পরামর্শ ও হিসাব-নিকাশ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

স্পিকার পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। আর ডেপুটি স্পিকার পদে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ড. মঈন খানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। এর আগে ড. মঈন খান মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং দলীয় অঙ্গনে ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বাবা ড. আবদুল মোমেন খান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী। দলীয় অভ্যন্তরে ধারণা করা হচ্ছে, সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম এমন ব্যক্তিকেই স্পিকারের আসনে বসাতে চায় দলটি।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা গঠনের সময় যেমন চমক ছিল, তেমনি সংসদীয় নেতৃত্ব নির্বাচনেও চমক আসতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার হিসেবে ড. মঈন খানের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ডেপুটি স্পিকার পদে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী। এ রাজনীতিক জোট রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, ডেপুটি স্পিকারদের একজন সরকারদলীয় ব্যতীত অন্য দলের সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নাম শোনা যাচ্ছে।

উপনেতা ও অন্যান্য পদ

সংসদের উপনেতা পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং দলের প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া চিফ হুইপ ও হুইপ পদে প্রায় এক ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতেও প্রায় ৪০ জন নেতাকে স্থান দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

চিফ হুইপ পদে এগিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক

সংসদের চিফ হুইপ পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি ছয়বারের সংসদ সদস্য এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতার কারণে এবার সরকারদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে তারা নির্বাচিত হন। স্পিকার সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণ দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে বসছেন স্পিকারের আসনে এবং কাদের হাতে যাচ্ছে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল আটক ৩

স্পিকার পদে আলোচনায় মঈন খান, ডেপুটিতে পার্থ

আপডেট সময় ১২:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সংসদের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এ দুটি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় ও জোটভিত্তিক পর্যায়ে চলছে বিস্তর পরামর্শ ও হিসাব-নিকাশ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

স্পিকার পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। আর ডেপুটি স্পিকার পদে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ড. মঈন খানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। এর আগে ড. মঈন খান মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং দলীয় অঙ্গনে ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বাবা ড. আবদুল মোমেন খান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী। দলীয় অভ্যন্তরে ধারণা করা হচ্ছে, সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম এমন ব্যক্তিকেই স্পিকারের আসনে বসাতে চায় দলটি।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা গঠনের সময় যেমন চমক ছিল, তেমনি সংসদীয় নেতৃত্ব নির্বাচনেও চমক আসতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার হিসেবে ড. মঈন খানের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ডেপুটি স্পিকার পদে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী। এ রাজনীতিক জোট রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, ডেপুটি স্পিকারদের একজন সরকারদলীয় ব্যতীত অন্য দলের সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নাম শোনা যাচ্ছে।

উপনেতা ও অন্যান্য পদ

সংসদের উপনেতা পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং দলের প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া চিফ হুইপ ও হুইপ পদে প্রায় এক ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতেও প্রায় ৪০ জন নেতাকে স্থান দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

চিফ হুইপ পদে এগিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক

সংসদের চিফ হুইপ পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি ছয়বারের সংসদ সদস্য এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতার কারণে এবার সরকারদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে তারা নির্বাচিত হন। স্পিকার সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণ দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে বসছেন স্পিকারের আসনে এবং কাদের হাতে যাচ্ছে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


প্রিন্ট