ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে Logo জামালপুর পাকুল্লায়  স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ Logo মহম্মদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি টুটুলের নামে বন বিভাগের গাছের গুঁড়ি সরানোর অভিযোগে মামলা Logo রাস্তার কাজের অস্তিত্ব নেই, কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প! ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে Logo ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা ৫ এমপি প্রার্থীর Logo ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু Logo ইরানের প্রতিরোধে দিশাহারা ট্রাম্প Logo ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে Logo এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করল এশিয়ান টেলিভিশন এর ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কবির সরকার Logo পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুসকান ফারিয়া সম্পাদক, রাইট টক বাংলাদেশ।

বাকৃবিতে ছাত্রদলের আশ্রয়ে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা, রুখে দিল শিক্ষার্থীরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদল নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মীকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ওই কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি টের পেয়ে আগেই হল ত্যাগ করেন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আমরা ওই হলে উপস্থিত হই। ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

এদিকে এ ঘটনায় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদেরকে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সাথে আমার ও আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ‌্যাসিবাদের দোসরদের এই ক‌্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক‌্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই আমার নামে একটি মহল অনলাইনে এ ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম কালচার, র‌্যাগিংয়ের সাথে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেটি এখনও বলবত রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দিবো। এরকম যাদের নামে অভিযোগ আছে তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব‌্যবস্থা নেবো।’


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে

বাকৃবিতে ছাত্রদলের আশ্রয়ে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা, রুখে দিল শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদল নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মীকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ওই কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি টের পেয়ে আগেই হল ত্যাগ করেন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আমরা ওই হলে উপস্থিত হই। ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

এদিকে এ ঘটনায় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদেরকে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সাথে আমার ও আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ‌্যাসিবাদের দোসরদের এই ক‌্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক‌্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই আমার নামে একটি মহল অনলাইনে এ ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম কালচার, র‌্যাগিংয়ের সাথে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেটি এখনও বলবত রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দিবো। এরকম যাদের নামে অভিযোগ আছে তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব‌্যবস্থা নেবো।’


প্রিন্ট