সাংবাদিক রোজিনাও ভুল করতে পারেন ॥ তথ্যমন্ত্রী

- আপডেট টাইম : ০৯:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১
- / ৩২০ ৫০০০.০ বার পাঠক
সময়ের কন্ঠ রিপোর্টার।।
সচিবালয়ে আটকে রাখার পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, রোজিনা ইসলামের জন্য যা করা সম্ভব, সবই করা হবে। তিনি যেন ন্যায়বিচার পান সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।তবে ‘রোজিনাও ভুল করে থাকতে পারেন’ মন্তব্য করে বিষয়টিকে ‘ইমোশনালি’ না দেখে ‘বাস্তবতার নিরিখে বিচারের’ আহ্বান জানান তিনি।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোর রোডের বাসভবনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সদস্যরা স্মারকলিপি দিতে গেলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ আরো বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যাতে ন্যায়বিচার পান সেটি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে রোজিনা ইসলামেরও ভুল হতে পারে। বিষয়টি আবেগের সঙ্গে না দেখে বাস্তবতা প্রেক্ষিতে দেখতে হবে। কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।
রোজিনা ইসলাম যাতে ন্যায়বিচার পান ও কারা হেফাজতে যথাযথ সম্মান পান তা নিশ্চিতে ‘শুরু থেকে চলমান’ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন হাছান মাহমুদ।
সাংবাদিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ জানাই, বিষয়টিকে ইমোশনালি না দেখে বাস্তবতার নিরিখে বিচার করুন।
“আমি, আপনি যেকোনো সময়েই ভুল করতে পারি, মানুষমাত্রই ভুল করে। রোজিনা ইসলামও ভুল করতে পারেন। কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয় তা মাথায় রাখতে হবে।”
আমি আপনাদের মন্ত্রী আপনাদের মানুষ। সুতরাং আপনাদের দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে দেখে যতোটুকু করার সেটুকু করার সর্বাচ্চ প্রচেষ্টা আমার থাকবে।”
এদিকে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের তথ্য চুরির অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে তাঁর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি ও প্রশান্ত কুমার কর্মকার রোজিনার জামিন শুনানি করছেন।
এর আগে গত সোমবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রাখার পর নথিপত্র চুরি ও ছবি তুলে নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা দিয়ে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ৮টায় রোজিনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। পরে শুনানি শেষে ওই আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। সেদিন আদালতের নির্দেশে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রোজিনার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) নির্ধারণ করেন আদালত।