1. [email protected] : admi2017 :
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

প্রাথমিকে ইংলিশ ভার্সন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ১০.৫০ এএম
  • ৭০ বার পঠিত

সম্পাদকীয়

মানসম্মত উন্নত শিক্ষার অপরিহার্যতা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। জাতির মেরুদ- শিক্ষা ব্যবস্থাপনাও এর থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটি হলো ভাষা এবং তা আবশ্যিকভাবে মাতৃভাষা। এটাই দেশে দেশে সর্বকালে সমাদৃত এবং গৃহীত। কবিগুরুর মতে শিক্ষা মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ। এটার বিকল্প আর কিছু নয়। কিন্তু বিশ্বায়নের এই সম্প্রসারিত বলয়ে আন্তর্জাতিক মানের ভাষাকে আয়ত্তে আনতে ব্যর্থ হয়ে বিশ্বসভায় দেশের মানসম্মত অবস্থা দৃশ্যমান হয় না। বিদেশী ভাষা হিসেবে ঔপনিবেশিক অবিভক্ত ভারতে ইংরেজী মাধ্যমকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়েছে। কারণ আধুনিক শিক্ষা পরাধীন ভারতে ইংরেজদের হাত ধরেই এ দেশে তার আসন তৈরি করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। সঙ্গত কারণে বিদেশী ভাষা হিসেবে ইংরেজী চর্চা সে সময়ের এক অবধারিত জ্ঞানের উন্মুক্ত বিষয় হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। আন্তর্জাতিকভাবে বহুল স্বীকৃত এই ভাষাটি শিক্ষার্জনে অন্যতম ভূমিকাও পালন করে। তবে ভিনদেশী এই ভাষাটি বিজ্ঞজনদের কাছে চর্চার বিষয় হলেও কখনই তা সর্বজনীন হতে পারেনি। ফলে এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজীভীতিই শুধু নয়, তাকে পাশকাটানোরও মনোবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়। সে কারণে শিশু শ্রেণী থেকে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সিংহভাগ শিক্ষার্থীর ইংরেজী ভাষায় দুর্বলতাও সুবিদিত। সঙ্গত কারণেই অভিভাবকরাও চিন্তিত হয়ে পড়েন কিভাবে সন্তানদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষাটির প্রতি মনোযোগ বাড়ানো যায়। ফলে আমাদের দেশে ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বেড়ে যায়। আর উচ্চবিত্তরাই এসব স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই সিংহভাগ শিক্ষার্থীই তাদের দুর্বলতা নিয়ে শিক্ষা জীবন চালিয়ে যায়।

সরকার ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর দিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা করছে। শিক্ষার মানকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে যেমন বিশেষ বিবেচনায় রাখা হয়েছে, পাশাপাশি ইংরেজী চর্চাকেও সর্বজনীন করতে কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজী ভার্সন চালুর ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রতিটি বিভাগে ১টি করে ইংরেজী ভার্সন প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজীর মান উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকবে। ইংরেজী বিষয়ে মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অভিমত ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রাইমারী থেকে উচ্চ মাধ্যমিক প্রায় এক যুগ ধরে ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজী ভাষা অধ্যয়ন করেও দুর্বলতা কাটাতে পারছে না। সমস্যা মূলত শিক্ষা গ্রহণের শিকড়ে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদেরই যোগ্য এবং উপযুক্ত করে গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয়। আর এর জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের। যাতে শিক্ষকরা তাদের অর্জিত জ্ঞান অত্যন্ত সফলভাবে শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রসারিত করতে পারদর্শী হবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষণ প্রশিক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এর জন্য সরকার বরাদ্দ দেয় ৪৬ কোটি টাকা। তাদের সহায়তায় ১০০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী করে তোলা হবে, যাতে করে তারা শিক্ষার্থীদেরও এই ভাষায় দক্ষ করে তুলতে পারেন। প্রাইমারী শিক্ষায় নিয়োজিত অনেক শিক্ষক ইংরেজী ভাষায় অদক্ষতা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদান করে থাকেন। সঙ্গত কারণেই শিক্ষার্থীদের ভিত্তি হয় দুর্বল এবং নিম্ন মানের। সব ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করে মানসম্মত আধুনিক ইংরেজী ভাষাকে আয়ত্তে আনতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazarsomoyer14
© All rights reserved  2019-2021 somoyerkontha.com