ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, জনগণের জন্যই সংবিধান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

আজ কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেওয়া হয়। অথচ সংবিধানে ২০২৬ সালে নির্বাচনের উল্লেখ ছিল না। একটি দল সরকার গঠন করবে, আবার একটি দল প্রধান বিরোধী দল হবে— সেটিও সংবিধানে ছিল না। সেটা সম্ভব হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে—বলছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মনে রাখতে হবে, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সংবিধান। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সম্পদ রয়েছে। শুধু চরিত্রগত সম্পদের অভাবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ পাচ্ছি না। অথচ দেশের সন্তানেরা পুরো বিশ্বে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আমরা মেধাবীদের জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমার বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলতেন, ‘নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’ নির্বাচন হলো এবং রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলেও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতার দেখা মিলেনি। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি।”

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলছিলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের আমলে মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় নিতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্নরের পদে বসানো হয়েছে। দেড় বছর কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসিদের বিদায় করতে বাধ্য করে সেই পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থি। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চরম অব্যবস্থাপনা দেখে জাতি হতাশ হয়েছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের সঙ্গে আপনারাও মজলুম ছিলেন। সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। নির্বাচনি ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি— এর অর্থ এই নয় যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, অনেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দোহাই দিয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে চান। অথচ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একের পর এক শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো শক্তির সঙ্গে আপস করিনি। মাথা উঁচু করে রাজনীতি করেছি। আমাদের এই পথ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। কারণ জনগণ পরিবর্তন চায় বলেই গণভোটে রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমাদের হতাশ হওয়া চলবে না। কারণ মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের পথচলা থামবে না। এবার হয়নি, আল্লাহ চাইলে পরবর্তীতে জনতার বিজয় হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

আরো বক্তব্য দেন সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেওয়ানগন্জে ভাস্যমান ড্রাম সেতু ভেঙ্গে ০৫ শিশুর মৃত্যূ

সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, জনগণের জন্যই সংবিধান

আপডেট সময় ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

আজ কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেওয়া হয়। অথচ সংবিধানে ২০২৬ সালে নির্বাচনের উল্লেখ ছিল না। একটি দল সরকার গঠন করবে, আবার একটি দল প্রধান বিরোধী দল হবে— সেটিও সংবিধানে ছিল না। সেটা সম্ভব হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে—বলছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মনে রাখতে হবে, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সংবিধান। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সম্পদ রয়েছে। শুধু চরিত্রগত সম্পদের অভাবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ পাচ্ছি না। অথচ দেশের সন্তানেরা পুরো বিশ্বে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আমরা মেধাবীদের জাতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমার বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলতেন, ‘নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’ নির্বাচন হলো এবং রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলেও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতার দেখা মিলেনি। সমাজ থেকে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসা দূর হয়নি।”

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলছিলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের আমলে মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিদায় নিতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো দলীয় বিবেচনায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্নরের পদে বসানো হয়েছে। দেড় বছর কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসিদের বিদায় করতে বাধ্য করে সেই পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থি। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চরম অব্যবস্থাপনা দেখে জাতি হতাশ হয়েছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের সঙ্গে আপনারাও মজলুম ছিলেন। সংস্কার প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। নির্বাচনি ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি— এর অর্থ এই নয় যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, অনেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দোহাই দিয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে চান। অথচ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে আমাদের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একের পর এক শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো শক্তির সঙ্গে আপস করিনি। মাথা উঁচু করে রাজনীতি করেছি। আমাদের এই পথ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। কারণ জনগণ পরিবর্তন চায় বলেই গণভোটে রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমাদের হতাশ হওয়া চলবে না। কারণ মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের পথচলা থামবে না। এবার হয়নি, আল্লাহ চাইলে পরবর্তীতে জনতার বিজয় হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

আরো বক্তব্য দেন সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু।


প্রিন্ট