ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে Logo জামালপুর পাকুল্লায়  স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ Logo মহম্মদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি টুটুলের নামে বন বিভাগের গাছের গুঁড়ি সরানোর অভিযোগে মামলা Logo রাস্তার কাজের অস্তিত্ব নেই, কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প! ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে Logo ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা ৫ এমপি প্রার্থীর Logo ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু Logo ইরানের প্রতিরোধে দিশাহারা ট্রাম্প Logo ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে Logo এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করল এশিয়ান টেলিভিশন এর ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কবির সরকার Logo পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুসকান ফারিয়া সম্পাদক, রাইট টক বাংলাদেশ।

রাস্তার কাজের অস্তিত্ব নেই, কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প! ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি টিআর (নগদ অর্থ) প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে রাস্তা নির্মাণ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ওই রাস্তায় কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের তীর উঠেছে খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠুর বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের টিআর (নগদ অর্থ) কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকার বিপরীতে মোট ২০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে খানমরিচ ইউনিয়নের কোঠবাড়িয়া এলাকায় বেলালের বাড়ি থেকে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে প্রায় আট মাস আগে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই রাস্তায় কোনো ধরনের সংস্কার, নির্মাণ বা উন্নয়নের কাজের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, শাহ আলম, ছকির উদ্দিন, সাবিদুল সরকার, হেলাল সরকার ও নজরুল সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয় পথটি, ফলে চলাচল হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। অথচ বহু আগেই রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনো বাস্তবতা নেই।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হালিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের জন্য টাকা দিচ্ছে। আর সেই টাকা যদি কাজ না করেই আত্মসাৎ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খানমরিচ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাইদা খাতুনকে নামমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বাস্তবে তিনি প্রকল্পের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ছাইদা খাতুন বলেন, আমাকে পিআইসি সভাপতি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রকল্পের টাকা উত্তোলন বা কাজের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। চেয়ারম্যান শুধু আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু বলেন, প্রকল্পের ৩ লাখ টাকার মধ্যে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। কিন্তু মাটি না পাওয়ায় রাস্তার কাজ করা যায়নি। মাটি পাওয়া গেলে কাজ করে দেওয়া হবে।
কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আট মাস পরও কেন টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস হোসেন জানান, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে বাকি টাকা দেওয়ার কথা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে—গত বছর মাটি পাওয়া যায়নি বলে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত রাস্তাটির কাজ শুরু করা হবে।
প্রকল্পটির সভাপতি ও তৎকালীন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার অন্যত্র বদলি হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, যদি প্রকল্পের কাজ বাস্তবে না হয়, তাহলে বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা গেল কোথায়—এ প্রশ্নের জবাব জানতে চান তারা। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে খানমরিচ ইউনিয়নে ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে টিআর, কাবিটা ও জিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহারের সময়ে পুরোনো রাস্তা দেখিয়ে বিল উত্তোলনসহ অধিকাংশ প্রকল্পের কাজেই অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে

রাস্তার কাজের অস্তিত্ব নেই, কাগজে-কলমে ৩ লাখ টাকার প্রকল্প! ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৪:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি টিআর (নগদ অর্থ) প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে রাস্তা নির্মাণ দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ওই রাস্তায় কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের তীর উঠেছে খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠুর বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের টিআর (নগদ অর্থ) কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকার বিপরীতে মোট ২০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে খানমরিচ ইউনিয়নের কোঠবাড়িয়া এলাকায় বেলালের বাড়ি থেকে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে প্রায় আট মাস আগে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই রাস্তায় কোনো ধরনের সংস্কার, নির্মাণ বা উন্নয়নের কাজের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, শাহ আলম, ছকির উদ্দিন, সাবিদুল সরকার, হেলাল সরকার ও নজরুল সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয় পথটি, ফলে চলাচল হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। অথচ বহু আগেই রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনো বাস্তবতা নেই।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হালিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের জন্য টাকা দিচ্ছে। আর সেই টাকা যদি কাজ না করেই আত্মসাৎ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খানমরিচ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাইদা খাতুনকে নামমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বাস্তবে তিনি প্রকল্পের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ছাইদা খাতুন বলেন, আমাকে পিআইসি সভাপতি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রকল্পের টাকা উত্তোলন বা কাজের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। চেয়ারম্যান শুধু আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু বলেন, প্রকল্পের ৩ লাখ টাকার মধ্যে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। কিন্তু মাটি না পাওয়ায় রাস্তার কাজ করা যায়নি। মাটি পাওয়া গেলে কাজ করে দেওয়া হবে।
কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আট মাস পরও কেন টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস হোসেন জানান, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে বাকি টাকা দেওয়ার কথা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে—গত বছর মাটি পাওয়া যায়নি বলে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত রাস্তাটির কাজ শুরু করা হবে।
প্রকল্পটির সভাপতি ও তৎকালীন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার অন্যত্র বদলি হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, যদি প্রকল্পের কাজ বাস্তবে না হয়, তাহলে বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা গেল কোথায়—এ প্রশ্নের জবাব জানতে চান তারা। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে খানমরিচ ইউনিয়নে ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে টিআর, কাবিটা ও জিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহারের সময়ে পুরোনো রাস্তা দেখিয়ে বিল উত্তোলনসহ অধিকাংশ প্রকল্পের কাজেই অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


প্রিন্ট