ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আ.লীগ সরকারের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে Logo এসএসসি পরীক্ষায় ফিরলো ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ Logo সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে দুর্নীতি, ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ Logo ‎এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন ‎ Logo ঈদগাঁও থানার এ এস আই অন্ত বড়ুয়া বেপরোয়া মিথ্যা জিডি নিয়ে তার বাণিজ্য Logo জামালপুরে হেরোইন ১শত ৪ গ্রাম ও ইয়াবা ১ হাজার ৫ শত পিসসহ এক নারী গ্রেফতার Logo জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার মৃত্যু কারাগারে Logo সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই:বিএনপি দলের চিফ হুইপ Logo নওগাঁয় ৭ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের পাথরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি উদ্ধার Logo নাগরিকদের ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ, প্রথম পাবেন যারা

জাফলংয়ের ‘ভোলবদল’ সম্রাট সবেদ: যখন যে সরকার, তখন সেই দল!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই-এই প্রবাদটি কি কেবল বাঘা বাঘা নেতাদের জন্য? জাফলংয়ের আলোচিত পাথর ব্যবসায়ী ও ‘পাথরখেকো’ হিসেবে পরিচিত সবেদ ড্রাইভার প্রমাণ করলেন, এই নীতি তৃণমূলের হাইব্রিড নেতাদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য। হাওয়ার গতি বুঝে পাল তোলা এবং জার্সি বদলে ফেলা এই ‘কুশলী’ রাজনীতিক এখন সিলেটের টক অফ দ্য টাউন।

স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ২০১৯ সালের সেই দৃশ্য। হাতে লাল গোলাপের বিশাল তোড়া, মুখে চওড়া হাসি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদকে শুভেচ্ছা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন জাফলংয়ের বিতর্কিত সবেদ ড্রাইভার। তখন তার পরিচয় ছিল তিনি ‘নিবেদিতপ্রাণ’ আওয়ামী লীগ কর্মী। চাঁদাবাজি আর পাথর উত্তোলনের নানা অভিযোগে নাম আসলেও ক্ষমতার ছায়াতলে তিনি ছিলেন অদম্য।
ঠিক সাত বছর পর, ২০২৬ সালে দৃশ্যপট যেন কার্বন কপি। মঞ্চের কুশীলব বদলেছে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপি। কিন্তু সবেদ ড্রাইভারের হাতের ফুলের তোড়া আর তোষামোদি হাসিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এবার নবনিযুক্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে সেই একই কায়দায় হাজির সবেদ। এবার তিনি আওয়ামী লীগ নন, নিজেকে জাহির করছেন কট্টর ‘বিএনপি’ হিসেবে।

সবেদের এই রূপ বদল নিয়ে জাফলং এলাকায় বইছে হাস্যরসের জোয়ার। স্থানীয়রা বলছেন, আসলে সবেদ কোনো দল করেন না, তিনি করেন ‘ক্ষমতা’র রাজনীতি। জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি নিয়ন্ত্রণ আর নিজের ‘ধান্দা’ টিকিয়ে রাখতেই তিনি বারবার খোলস পাল্টান।
বিগত দিন নৌকার স্লোগানে মুখরিত ছিলেন পাথর লুটপাটের দায়ে সমালোচিত এই নেতা।
বর্তমানে ধানের শীষের নতুন সৈনিক সেজে মন্ত্রীর দরবারে হাজির।

রাজনীতিতে এই ভোলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, যারা দলের দুর্দিনে থাকে না, কেবল সুসময়ে ফুলের তোড়া নিয়ে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়, তাদের কারণেই রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। জাফলংয়ের একজন সাধারণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “রঙ বদলায়, দল বদলায়, এমনকি মন্ত্রীও বদলে যায়—কিন্তু সবেদ ড্রাইভারের ফুলের তোড়া আর তেলবাজির অভ্যাস বদলায় না। একেই বলে প্রকৃত ‘জনবান্ধব’ চালক, হাওয়া যেদিকে সবেদ সেদিকে!”
এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রশাসন এই ‘হাইব্রিড’ ও ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের চিনতে পারে কি না, নাকি পুরনো মদের মতো নতুন বোতলেই জাফলংয়ের পাথর সাম্রাজ্য শাসন করবেন সবেদ ড্রাইভাররা।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আ.লীগ সরকারের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

জাফলংয়ের ‘ভোলবদল’ সম্রাট সবেদ: যখন যে সরকার, তখন সেই দল!

আপডেট সময় ১০:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই-এই প্রবাদটি কি কেবল বাঘা বাঘা নেতাদের জন্য? জাফলংয়ের আলোচিত পাথর ব্যবসায়ী ও ‘পাথরখেকো’ হিসেবে পরিচিত সবেদ ড্রাইভার প্রমাণ করলেন, এই নীতি তৃণমূলের হাইব্রিড নেতাদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য। হাওয়ার গতি বুঝে পাল তোলা এবং জার্সি বদলে ফেলা এই ‘কুশলী’ রাজনীতিক এখন সিলেটের টক অফ দ্য টাউন।

স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ২০১৯ সালের সেই দৃশ্য। হাতে লাল গোলাপের বিশাল তোড়া, মুখে চওড়া হাসি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদকে শুভেচ্ছা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন জাফলংয়ের বিতর্কিত সবেদ ড্রাইভার। তখন তার পরিচয় ছিল তিনি ‘নিবেদিতপ্রাণ’ আওয়ামী লীগ কর্মী। চাঁদাবাজি আর পাথর উত্তোলনের নানা অভিযোগে নাম আসলেও ক্ষমতার ছায়াতলে তিনি ছিলেন অদম্য।
ঠিক সাত বছর পর, ২০২৬ সালে দৃশ্যপট যেন কার্বন কপি। মঞ্চের কুশীলব বদলেছে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপি। কিন্তু সবেদ ড্রাইভারের হাতের ফুলের তোড়া আর তোষামোদি হাসিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এবার নবনিযুক্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে সেই একই কায়দায় হাজির সবেদ। এবার তিনি আওয়ামী লীগ নন, নিজেকে জাহির করছেন কট্টর ‘বিএনপি’ হিসেবে।

সবেদের এই রূপ বদল নিয়ে জাফলং এলাকায় বইছে হাস্যরসের জোয়ার। স্থানীয়রা বলছেন, আসলে সবেদ কোনো দল করেন না, তিনি করেন ‘ক্ষমতা’র রাজনীতি। জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি নিয়ন্ত্রণ আর নিজের ‘ধান্দা’ টিকিয়ে রাখতেই তিনি বারবার খোলস পাল্টান।
বিগত দিন নৌকার স্লোগানে মুখরিত ছিলেন পাথর লুটপাটের দায়ে সমালোচিত এই নেতা।
বর্তমানে ধানের শীষের নতুন সৈনিক সেজে মন্ত্রীর দরবারে হাজির।

রাজনীতিতে এই ভোলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, যারা দলের দুর্দিনে থাকে না, কেবল সুসময়ে ফুলের তোড়া নিয়ে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়, তাদের কারণেই রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। জাফলংয়ের একজন সাধারণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “রঙ বদলায়, দল বদলায়, এমনকি মন্ত্রীও বদলে যায়—কিন্তু সবেদ ড্রাইভারের ফুলের তোড়া আর তেলবাজির অভ্যাস বদলায় না। একেই বলে প্রকৃত ‘জনবান্ধব’ চালক, হাওয়া যেদিকে সবেদ সেদিকে!”
এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রশাসন এই ‘হাইব্রিড’ ও ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের চিনতে পারে কি না, নাকি পুরনো মদের মতো নতুন বোতলেই জাফলংয়ের পাথর সাম্রাজ্য শাসন করবেন সবেদ ড্রাইভাররা।


প্রিন্ট