ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিমান মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চাই: বিমানমন্ত্রী Logo হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করছে ইরান Logo মঠবাড়িয়া উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার করেছে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। Logo দিবসের শ্রমিকদলের সমাবেশ ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানে থাকার আহ্বান পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলমের। Logo টঙ্গী এরশাদ নগরে সেন্টুর সিন্ডিকেট মাদকের জালে আটকা যুব সমাজ এবং নেপথ্যে কারা Logo জামালপুরে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপিত, Logo সীতাকুণ্ডে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মাধ্যমে মহান মে দিবস উদযাপিত: প্রধান অতিথি আসলাম চৌধুরী এমপি Logo ৩৬০ জনের অলির রোজা শরীফ সারা বাংলায় কোন কোন জায়গায় Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহান মে দিবস উপলক্ষে জেলা নির্মাণ শ্রমিকের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন রেকর্ড গড়ল মোংলা বন্দর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ৩৪৪ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় অতিক্রম করছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলা আজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী নির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে বন্দরটি প্রত্যেকটি লক্ষ্য অতিক্রম করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই ২০২৫) দুপুর ১২টায় বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাফল্য ও অগ্রগতি তুলে ধরেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও সদস্য (অর্থ) মোঃ আবেদ হোসেন। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮৩০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে, যা পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩০টি বেশি। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০৪.১২ লাখ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৭.২৫% বেশি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২১,৪৫৬ টিইইউজ, যা পূর্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭.২৮% বেশি। রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪৩.৩৩ কোটি টাকা, যা পূর্ব নির্ধারিত ৩৩৩.৮৭ কোটি টাকার তুলনায় ২.৮৩% বেশি। নীট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬২.১০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার (২০.৪৬ কোটি টাকা) তুলনায় ২০৩.৪৯% বেশি। এ ছাড়াও এই সময়ের মধ্যে ১১,৫৭৯টি রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে বন্দরে রয়েছে ৫টি জেটি, ৪টি ট্রানজিট শেড, ২টি ওয়্যারহাউজ, ৭টি কন্টেইনার ইয়ার্ড ও ২টি গাড়ি ইয়ার্ড। এছাড়া রয়েছে ১৩৪টি হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ও ৩৮টি সহায়ক জলযান। ১৬২টি রেফার প্লাগ পয়েন্ট এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সুবিধা বন্দরের কার্যক্রমকে আরও সহজ, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করেছে। নৌ ও সড়ক যোগাযোগের সহজলভ্যতা, জাহাজজটমুক্ত অপারেশন, দ্রুত কন্টেইনার খালাস, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা এবং আইএসপিএস কোডের যথাযথ অনুসরণে আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত কোস্টগার্ড টহলও চলছে। বর্তমানে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে: ১. সহায়ক জলযান সংগ্রহ,
২. পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং,
৩. মোংলা পোর্ট আপগ্রেডেশন প্রকল্প,
৪. অসম্পূর্ণ দুইটি জেটি নির্মাণ।

এছাড়াও সম্প্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দরের সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ ড্রেজিং। আরও তিনটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে।

বন্দরের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, এলপি গ্যাস, কয়লা, তেল, স্লাগ, ফ্লাই অ্যাশ, স্টিল পাইপ, চিটাগুড়সহ শিল্প ও ভোগ্যপণ্য আমদানি এবং গার্মেন্টস, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, হিমায়িত মাছ, কাকড়া, কটনইয়ার্ন ও মেশিনারি রপ্তানি হচ্ছে। বার্ষিক গড়ে বন্দরে হ্যান্ডলিং হয় ১৫০০টি জাহাজ, ১.৫ কোটি মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউজ কন্টেইনার ও ২০ হাজার গাড়ি।

তবে, এই উন্নয়নের মধ্যেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা, পুরাতন জলযান প্রতিস্থাপন, দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব নৌপথ নিশ্চিত করা।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন,বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মোস্তফা কামাল, প্রধান হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার রাসেল আহমেদ খাঁন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) এস.এম. আবজালুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান মুন্সি ও উপ-প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

এ সময় আবেদ হোসেন আরো জানান, দক্ষ নেতৃত্ব, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মোংলা বন্দর আজ দেশের অর্থনীতিতে একটি মজবুত ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মোংলা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও লাভজনক বন্দর হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চাই: বিমানমন্ত্রী

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন রেকর্ড গড়ল মোংলা বন্দর

আপডেট সময় ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

ওমর ফারুক : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় অতিক্রম করছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলা আজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী নির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকি এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে বন্দরটি প্রত্যেকটি লক্ষ্য অতিক্রম করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই ২০২৫) দুপুর ১২টায় বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাফল্য ও অগ্রগতি তুলে ধরেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও সদস্য (অর্থ) মোঃ আবেদ হোসেন। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮৩০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে, যা পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩০টি বেশি। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০৪.১২ লাখ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৭.২৫% বেশি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২১,৪৫৬ টিইইউজ, যা পূর্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭.২৮% বেশি। রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪৩.৩৩ কোটি টাকা, যা পূর্ব নির্ধারিত ৩৩৩.৮৭ কোটি টাকার তুলনায় ২.৮৩% বেশি। নীট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬২.১০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার (২০.৪৬ কোটি টাকা) তুলনায় ২০৩.৪৯% বেশি। এ ছাড়াও এই সময়ের মধ্যে ১১,৫৭৯টি রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে বন্দরে রয়েছে ৫টি জেটি, ৪টি ট্রানজিট শেড, ২টি ওয়্যারহাউজ, ৭টি কন্টেইনার ইয়ার্ড ও ২টি গাড়ি ইয়ার্ড। এছাড়া রয়েছে ১৩৪টি হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ও ৩৮টি সহায়ক জলযান। ১৬২টি রেফার প্লাগ পয়েন্ট এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সুবিধা বন্দরের কার্যক্রমকে আরও সহজ, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করেছে। নৌ ও সড়ক যোগাযোগের সহজলভ্যতা, জাহাজজটমুক্ত অপারেশন, দ্রুত কন্টেইনার খালাস, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা এবং আইএসপিএস কোডের যথাযথ অনুসরণে আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত কোস্টগার্ড টহলও চলছে। বর্তমানে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে: ১. সহায়ক জলযান সংগ্রহ,
২. পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং,
৩. মোংলা পোর্ট আপগ্রেডেশন প্রকল্প,
৪. অসম্পূর্ণ দুইটি জেটি নির্মাণ।

এছাড়াও সম্প্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দরের সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ ড্রেজিং। আরও তিনটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে।

বন্দরের মাধ্যমে বর্তমানে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, এলপি গ্যাস, কয়লা, তেল, স্লাগ, ফ্লাই অ্যাশ, স্টিল পাইপ, চিটাগুড়সহ শিল্প ও ভোগ্যপণ্য আমদানি এবং গার্মেন্টস, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, হিমায়িত মাছ, কাকড়া, কটনইয়ার্ন ও মেশিনারি রপ্তানি হচ্ছে। বার্ষিক গড়ে বন্দরে হ্যান্ডলিং হয় ১৫০০টি জাহাজ, ১.৫ কোটি মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউজ কন্টেইনার ও ২০ হাজার গাড়ি।

তবে, এই উন্নয়নের মধ্যেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা, পুরাতন জলযান প্রতিস্থাপন, দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব নৌপথ নিশ্চিত করা।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন,বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মোস্তফা কামাল, প্রধান হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার রাসেল আহমেদ খাঁন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) এস.এম. আবজালুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান মুন্সি ও উপ-প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

এ সময় আবেদ হোসেন আরো জানান, দক্ষ নেতৃত্ব, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মোংলা বন্দর আজ দেশের অর্থনীতিতে একটি মজবুত ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মোংলা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও লাভজনক বন্দর হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।


প্রিন্ট