ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, শুল্ক কমানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৮ ০.০০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও তার পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানান, অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (reciprocal trade agreement) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড. খলিলুর রহমান বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন। অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্কিন কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা বাতিলের বিষয়ে ড. রহমানের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্রুত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করতে এখনো অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত পোষণ করে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সম্প্রতি বাংলাদেশকে মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ কাঠামোর আওতায় আনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করতে ইউএসটিআরের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) থেকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এ ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, ড. খলিলুর রহমান সফরের পরবর্তী ধাপে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বেলা চলবে সংসদ অধিবেশন, প্রয়োজনে শুক্রবারেও

যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, শুল্ক কমানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

আপডেট সময় ১১:০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও তার পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানান, অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (reciprocal trade agreement) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড. খলিলুর রহমান বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন। অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্কিন কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা বাতিলের বিষয়ে ড. রহমানের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্রুত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করতে এখনো অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত পোষণ করে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সম্প্রতি বাংলাদেশকে মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ কাঠামোর আওতায় আনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করতে ইউএসটিআরের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) থেকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এ ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, ড. খলিলুর রহমান সফরের পরবর্তী ধাপে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন।


প্রিন্ট