ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈর বাইপাসে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু রায়পুরে সেপটি ট্যাংকিতে নেমে ২জনে মৃত্যু মনোহরদীতে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়েছে ঠাকুরগাঁও। রুহিয়া ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা করোনাভাইরাস এর কারণে বন্ধ থাকায় আবারও পাঁচ বছর পর ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে রানীশংকৈলে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত রায়পুরে পহেলা বৈশাখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নবাবগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ পালিত ঘাটাইলে ব্যবসায়ীর হাত-পায়ের রগ কেটে সর্বস্ব লুট টঙ্গীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর উপর হামলা: তদন্তে গিয়ে সিসিটিভি আবদার করলো পুলিশ! আনোয়ারা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী ও মত বিনিময় সভা

ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্যায় আক্রমণের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন বিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের খলীফা

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুরতা ও অবিচারের মোকাবেলায় একতাবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানালেন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)
আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আজ তাঁর ঈদুল ফিতরের খুতবায় দৃঢ় ভাষায় ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুরতার নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর টিলফোর্ডের ইসলামাবাদে অবস্থিত মুবারক মসজিদ থেকে খুতবা প্রদানকালে তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্যায় আক্রমণ এবং শেখ জার্‌রা থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারসমূহকে উচ্ছেদের নিন্দা জানান।
হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আজ আমাদের অবশ্যই আন্তরিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য দোয়া করতে হবে, যারা বর্তমানে ঘোর অন্যায়ের শিকার। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, যখন তারা আল-আকসা মসজিদে নামায পড়ার জন্য গিয়েছে, তখন তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্র নৃশংস হামলা চালিয়ে তাদের হতাহত করেছে। অনুরূপভাবে, তাদেরকে একটি ছোট্ট বসতি, শেখ জার্‌রা, যার ভূমির মালিকানা তাদের নিজেদেরই, সেখান থেকে তাদের বলপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে।”
হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরো বলেন:
“(ইসরায়েলি) পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং গুলি বর্ষণ করছে, আর এখন বিমান হামলা শুরু হয়েছে। তারা বলছে যে, তারা তাদের শত্রুদের এবং জঙ্গিদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ভয়াবহ এবং অন্যায় নিষ্ঠুরতা সংঘটিত হচ্ছে এবং নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এমনও কিছু মিডিয়া প্রতিবেদন এসেছে যে, ইসরায়েলি পুলিশ আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা লাভের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।” 
ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আল্লাহ্‌ তা’লা নির্যাতিতের ওপর দয়াপরবশ হোন এবং নির্যাতনকারীদেকে তাঁর বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।” 
তিনি গত সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন নিরীহ শিশুর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)-এর ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা করেন। এরপর আরো অনেক নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নিহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এ বৈষম্যমূলক নীতি এবং নির্মম আক্রমণের প্রসঙ্গে হুযূর আকদাস হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর ন্যায় মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রকাশিত রিপোর্টের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি আরো বলেন: “ফিলিস্তিনি জনগণ এমন নেতা লাভ করুক, যারা তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। অবশ্যই মুসলিম দেশগুলোর একতাবদ্ধ হওয়া উচিত এবং বিশ্বে ফিলিস্তিনি এবং অন্যান্য মুসলমান যারা নির্যাতিত তাদের রক্ষার্থে নিজেদের ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু, মুসলিম বিশ্ব বিভক্ত আর মুসলিম দেশগুলোর মাঝে একতাবোধ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। নিঃসন্দেহে এ ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হওয়া আবশ্যক ছিল, তা প্রদর্শন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা দুর্বল কিছু বিবৃতি প্রদান করেছে, অথচ যদি তারা একতাবদ্ধ হতো এবং সবাই মিলে একটি বিবৃতি প্রদান করতো, তবে এর প্রভাব অনেক বেশি হতো এবং এটি অনেক বেশি কার্যকর সাব্যস্ত হতো।”
পরিশেষে, হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আল্লাহ্ তা’লা মুসলিম নেতৃত্বকে বোধবুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দান করুন। তিনি ইসরায়েলিদেরও সুমতি দান করুন যেন তারা বিরত হয় এবং তাদের অন্যায় আগ্রাসন প্রত্যাহার করে। উপরন্তু, যদি ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকেও কোন যুলুম হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্‌ তা’লা নেতৃত্বের সংকটে নিপতিত এ জাতিরও পথ প্রদর্শন করুন – যদিও প্রকৃত পক্ষে মোটেই এমনটি ঘটছে না। যদি তারা (ফিলিস্তিনিরা) লাঠি ব্যবহার করে থাকে, তবে প্রত্যুত্তরে তাদের ভারি মিসাইল ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। দু’পক্ষের প্রয়োগকৃত শক্তির মধ্যে কোন প্রকার তুলনাই হয় না।  সুতরাং আমাদের ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করা উচিত। আল্লাহ তাআলা পরিস্থিতিকে তাদের জন্য পরিবর্তন করে দিন এবং তাদের মুক্তির উপকরণ সৃষ্টি করুন এবং প্রথম চুক্তি অনুসারে তাদেরকে বরাদ্দকৃত স্থানসমূহ ও ভূমির ওপর তাদের ন্যায্য অধিকার তারা বজায় রাথুন।

আরো খবর.......

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈর বাইপাসে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু

ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্যায় আক্রমণের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন বিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের খলীফা

আপডেট টাইম : ০৬:১৩:১৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৫ মে ২০২১

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুরতা ও অবিচারের মোকাবেলায় একতাবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানালেন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)
আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আজ তাঁর ঈদুল ফিতরের খুতবায় দৃঢ় ভাষায় ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুরতার নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর টিলফোর্ডের ইসলামাবাদে অবস্থিত মুবারক মসজিদ থেকে খুতবা প্রদানকালে তিনি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্যায় আক্রমণ এবং শেখ জার্‌রা থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারসমূহকে উচ্ছেদের নিন্দা জানান।
হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আজ আমাদের অবশ্যই আন্তরিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য দোয়া করতে হবে, যারা বর্তমানে ঘোর অন্যায়ের শিকার। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, যখন তারা আল-আকসা মসজিদে নামায পড়ার জন্য গিয়েছে, তখন তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্র নৃশংস হামলা চালিয়ে তাদের হতাহত করেছে। অনুরূপভাবে, তাদেরকে একটি ছোট্ট বসতি, শেখ জার্‌রা, যার ভূমির মালিকানা তাদের নিজেদেরই, সেখান থেকে তাদের বলপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে।”
হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) আরো বলেন:
“(ইসরায়েলি) পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং গুলি বর্ষণ করছে, আর এখন বিমান হামলা শুরু হয়েছে। তারা বলছে যে, তারা তাদের শত্রুদের এবং জঙ্গিদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ভয়াবহ এবং অন্যায় নিষ্ঠুরতা সংঘটিত হচ্ছে এবং নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এমনও কিছু মিডিয়া প্রতিবেদন এসেছে যে, ইসরায়েলি পুলিশ আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা লাভের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।” 
ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করতে গিয়ে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আল্লাহ্‌ তা’লা নির্যাতিতের ওপর দয়াপরবশ হোন এবং নির্যাতনকারীদেকে তাঁর বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।” 
তিনি গত সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন নিরীহ শিশুর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)-এর ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা করেন। এরপর আরো অনেক নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নিহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এ বৈষম্যমূলক নীতি এবং নির্মম আক্রমণের প্রসঙ্গে হুযূর আকদাস হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর ন্যায় মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রকাশিত রিপোর্টের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি আরো বলেন: “ফিলিস্তিনি জনগণ এমন নেতা লাভ করুক, যারা তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। অবশ্যই মুসলিম দেশগুলোর একতাবদ্ধ হওয়া উচিত এবং বিশ্বে ফিলিস্তিনি এবং অন্যান্য মুসলমান যারা নির্যাতিত তাদের রক্ষার্থে নিজেদের ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু, মুসলিম বিশ্ব বিভক্ত আর মুসলিম দেশগুলোর মাঝে একতাবোধ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। নিঃসন্দেহে এ ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হওয়া আবশ্যক ছিল, তা প্রদর্শন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা দুর্বল কিছু বিবৃতি প্রদান করেছে, অথচ যদি তারা একতাবদ্ধ হতো এবং সবাই মিলে একটি বিবৃতি প্রদান করতো, তবে এর প্রভাব অনেক বেশি হতো এবং এটি অনেক বেশি কার্যকর সাব্যস্ত হতো।”
পরিশেষে, হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:
“আল্লাহ্ তা’লা মুসলিম নেতৃত্বকে বোধবুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দান করুন। তিনি ইসরায়েলিদেরও সুমতি দান করুন যেন তারা বিরত হয় এবং তাদের অন্যায় আগ্রাসন প্রত্যাহার করে। উপরন্তু, যদি ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকেও কোন যুলুম হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্‌ তা’লা নেতৃত্বের সংকটে নিপতিত এ জাতিরও পথ প্রদর্শন করুন – যদিও প্রকৃত পক্ষে মোটেই এমনটি ঘটছে না। যদি তারা (ফিলিস্তিনিরা) লাঠি ব্যবহার করে থাকে, তবে প্রত্যুত্তরে তাদের ভারি মিসাইল ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। দু’পক্ষের প্রয়োগকৃত শক্তির মধ্যে কোন প্রকার তুলনাই হয় না।  সুতরাং আমাদের ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করা উচিত। আল্লাহ তাআলা পরিস্থিতিকে তাদের জন্য পরিবর্তন করে দিন এবং তাদের মুক্তির উপকরণ সৃষ্টি করুন এবং প্রথম চুক্তি অনুসারে তাদেরকে বরাদ্দকৃত স্থানসমূহ ও ভূমির ওপর তাদের ন্যায্য অধিকার তারা বজায় রাথুন।