ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চায় চীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ হতে প্রাপ্ত ২৯ জন কে অনুদানের অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ কার্যক্রম গাজীপুরের পূবাইলে ঈদ বোনাসকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক ধস্তা ধস্তি রাজনৈতিক ভুয়া হয়রানিমূলক আরও ৬৬৮২ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ইশরাককে মেয়র ঘোষণা, গেজেট নিয়ে যা বলছে নির্বাচন কমিশন সরকার ঘটনাটা কি বাপের বাড়ি মোয়া নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ীতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত ধানমন্ডিতে র‌্যাব পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, গ্রেফতার ৬ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ হতে প্রাপ্ত ২৯ জন কে অনুদানের অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ কার্যক্রম ঈদ যাত্রায় বকশিশের নামে ৮৩২ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় জি কে শামীমের সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড, খালাস মা

বাংলাদেশের ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে গেলে যার নাম সবার আগে আসবে তিনি হচ্ছেন ‘শহীদ মীর কাসেম আলী মিন্টু’

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • আপডেট টাইম : ০৭:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ১১১ ৫০০০.০ বার পাঠক

একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। যিনি এদেশের ছাত্র জনতার প্রিয় কাফেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সংগঠক, শিল্প উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক সংগঠক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবক হিসেবেই সকলের নিকট পরিচিত ও সমাদৃত।

শহীদ মীর কাসেম আলী বাংলাদেশকে মেধা, যোগ্যতা দিয়ে সাধ্যমতো সাজানোর কারিগর হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, দেশে-বিদেশে তিনি একজন উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দিন রাত পরিশ্রম করে গিয়েছেন। একজন দেশপ্রেমিক ও উন্নয়নবান্ধব লোক শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তা ইতিহাসের এক অপদৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার, হরিরামপুর থানার, সূতালরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মীর তৈয়ব আলী ও মাতা মৃত রাবেয়া আখতার। পারিবারিকভাবে আদর করে তাঁকে পেয়ারু নামে ডাকতো। তারা ছিলেন ৪ ভাই ১ বোন। জনাব মিন্টু ১৯৭৯ সালে খন্দকার আয়েশা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১ ছেলে, ৩ মেয়ে। শহীদ মীর কাসেম আলীর বাবা সরকারি চাকুরি করতেন বিধায় বরিশাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি তাঁর। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত শহীদ মীর কাসেম আলী ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ছিলেন প্রথম কাতারে। ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা হলে তিনি এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবনে মীর কাসেম আলী ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক সংস্থা রাবেতা আলম আল ইসলামীর কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। ইসলামী আন্দোলনের এই সিপাহসালার দ্বীনের দাওয়াত ও জনসেবার কাজে পৃথিবীর সমস্ত ইসলামী দেশ, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ভ্রমণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লবের ব্যতিক্রমি এক স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশে যারা ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে তাদেরকে শুধুমাত্র রাজনীতি, ওয়াজ মাহফিলের ভিতর সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবা, শিক্ষা, মিডিয়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদির ভেতর নিয়ে এসে সবকিছুকে ইসলামের আলোকে সাজানোর এক প্রবল বাসনা ছিল শহীদ মীর কাসেম আলীর। সফলও হয়েছেন। যা বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন এক ডাইমেনশন সৃষ্টি করেছে।

শহীদ মীর কাসেম আলী, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী’র একজন নেতা এবং মিথ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাবান্বিত প্রসিকিউশনের একজন ভিকটিম, তাঁকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এবং ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসি কার্যকর করে তাঁকে শহীদি মিছিলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আমাদের সিপাহসালার ময়দানেও সর্বাগ্রে, শহীদের সারিতেও অগ্রগন্য। আলহামদুলিল্লাহ।

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ শহীদ মীর কাসেম আলী দেশবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি ছিলেন দূর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে অগ্রসেনানী। একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর সততা, দক্ষতা দেশপ্রেমের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে। মানুষের হৃদয়ে এই মহান সংগ্রামী প্রাণপুরুষ বেঁচে থাকবেন আজীবন।

আরো খবর.......

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে গেলে যার নাম সবার আগে আসবে তিনি হচ্ছেন ‘শহীদ মীর কাসেম আলী মিন্টু’

আপডেট টাইম : ০৭:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। যিনি এদেশের ছাত্র জনতার প্রিয় কাফেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সংগঠক, শিল্প উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক সংগঠক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবক হিসেবেই সকলের নিকট পরিচিত ও সমাদৃত।

শহীদ মীর কাসেম আলী বাংলাদেশকে মেধা, যোগ্যতা দিয়ে সাধ্যমতো সাজানোর কারিগর হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, দেশে-বিদেশে তিনি একজন উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দিন রাত পরিশ্রম করে গিয়েছেন। একজন দেশপ্রেমিক ও উন্নয়নবান্ধব লোক শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তা ইতিহাসের এক অপদৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার, হরিরামপুর থানার, সূতালরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মীর তৈয়ব আলী ও মাতা মৃত রাবেয়া আখতার। পারিবারিকভাবে আদর করে তাঁকে পেয়ারু নামে ডাকতো। তারা ছিলেন ৪ ভাই ১ বোন। জনাব মিন্টু ১৯৭৯ সালে খন্দকার আয়েশা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১ ছেলে, ৩ মেয়ে। শহীদ মীর কাসেম আলীর বাবা সরকারি চাকুরি করতেন বিধায় বরিশাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি তাঁর। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত শহীদ মীর কাসেম আলী ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ছিলেন প্রথম কাতারে। ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা হলে তিনি এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবনে মীর কাসেম আলী ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক সংস্থা রাবেতা আলম আল ইসলামীর কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। ইসলামী আন্দোলনের এই সিপাহসালার দ্বীনের দাওয়াত ও জনসেবার কাজে পৃথিবীর সমস্ত ইসলামী দেশ, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ভ্রমণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লবের ব্যতিক্রমি এক স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশে যারা ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে তাদেরকে শুধুমাত্র রাজনীতি, ওয়াজ মাহফিলের ভিতর সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবা, শিক্ষা, মিডিয়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদির ভেতর নিয়ে এসে সবকিছুকে ইসলামের আলোকে সাজানোর এক প্রবল বাসনা ছিল শহীদ মীর কাসেম আলীর। সফলও হয়েছেন। যা বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন এক ডাইমেনশন সৃষ্টি করেছে।

শহীদ মীর কাসেম আলী, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী’র একজন নেতা এবং মিথ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাবান্বিত প্রসিকিউশনের একজন ভিকটিম, তাঁকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এবং ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসি কার্যকর করে তাঁকে শহীদি মিছিলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আমাদের সিপাহসালার ময়দানেও সর্বাগ্রে, শহীদের সারিতেও অগ্রগন্য। আলহামদুলিল্লাহ।

মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ শহীদ মীর কাসেম আলী দেশবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি ছিলেন দূর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে অগ্রসেনানী। একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর সততা, দক্ষতা দেশপ্রেমের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে। মানুষের হৃদয়ে এই মহান সংগ্রামী প্রাণপুরুষ বেঁচে থাকবেন আজীবন।