ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটা সংস্কারের পক্ষে সরকার নীতিগতভাবে একমত: আইনমন্ত্রী ঘোষণার পর মানছেন না কোটা আন্দোলনকারীরা আমার ভাইদের ফেরত দেওয়া হোক আগে রায়পুরে বালু উত্তোলনে ভাঙন আতঙ্ক সরকারের কাছ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও সমাধানের পথ তৈরির প্রত্যাশা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শনির আখড়া-যাত্রাবাড়ী সড়কে চলছে সংঘর্ষ, যান চলালাচল অচল করে দিচ্ছেন ফেসবুক লাইভে এসে পদত্যাগের ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতার উত্তরায় গুলিতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী নিহত কমপ্লিট শাটডাউন ঢাকার সঙ্গে সব জেলার যোগাযোগ বন্ধ, টার্মিনাল থেকে ছাড়ছে না কোনো বাস ফুলবাড়ীর দৌলতপুর ইউনিয়নে গরু চুরির হিড়িক দেশবাসীর প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঢাবি, ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ

দুর্নীতিবাজের সংখ্যা কম, তবে দুর্নীতি হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে

সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০২১
  • / ২৪২ ৫০০.০০০ বার পাঠক

সময়ের কন্ঠ রিপোর্টা।।

প্রকল্পের কেনাকাটায় কোন কোন ক্ষেত্রে টিম ওয়ার্কেও দুর্নীতি আছে। তবে ব্যক্তিগত দুর্নীতিই বেশি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্নীতিবাজ মানুষের সংখ্যা কম। তবে দুর্নীতি হলে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে। বিধি-বিধানের বাইরে আমরা তো কিছু করতে পারব না। সরকারপ্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের শক্ত ভূমিকার প্রতি সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। কেউ দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার ‘উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্তকরণ’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, যুগ্ম প্রধান, উপ-প্রধান, উপ-সচিব পর্যায়ের মোট ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করেন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম ও আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ইউনূস মিয়া। পরিকল্পামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দুর্নীতি করলে কী হবে তার বিধানও আছে। তবে দুর্নীতি নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। জনগণের মধ্যে যখন এত আলোচনা হচ্ছে, তখন বুঝতে হবে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ভিত্তি আছে। আলো-আঁধারির বিষয় আছে। এটাকে এড়িয়ে চলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, এতদিন সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে ফরম্যাট না থাকায় একটি বড় দুর্বলতা ছিল। আমি মনে করি, সরকারী অর্থব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এই রূপরেখা বাংলায় করতে হবে। তাছাড়া শুধু কাগজে কলমে থাকলেই হবে না। যারা ব্যবহার করার কথা তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করছে কিনা সেটি তদারকি করতে হবে। আমি ইঞ্জিনিয়ার নই। তাই ওই বিষয়টি বলতে চাই না। কিন্তু অর্থব্যয়ের বিষয়টি বুঝি। তাছাড়া মানুষ এখন শিক্ষিত বেশি। সেটি পরিমাণ এবং গুণগত মানের দিক থেকে বেড়েছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ আছে। মানুষ জানতে চায়। তারা অনেক বেশি সচেতন।

কর্মশালায় অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মানুষ আশা করে আপনাদের কাছ থেকে ভাল আউটপুট। মানুষ মনে করে যে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একটা টেকনিক্যাল মন্ত্রণালয়। এখানে সব অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা আছেন। তারা নিশ্চয় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ভাল করে তৈরি করে দিয়েছে। মন্ত্রী নিয়ে তারা কনসার্ন নয়, কারণ মন্ত্রী আসে যায়। আপনারা তো স্থায়ী সিভিল সার্ভেন্টস। আপনারা ২০ বছর, ২৫ বছর কাজ করে এখানে এসেছেন। সব থেকে বড় কথা যেটা আমি বলতে চাই না, আই ফিল আনইজি। কিন্তু বলতে বাধ্য হই। যেখানেই যাই, যে আলোচনায় যাই, দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করে। আমি বিরক্ত হই। দুর্নীতি তো কোন প্রশ্নের বিষয় নয়। এটা একটা ক্রিমিনাল এ্যাক্ট। পকেটমার একটা ক্রিমিনাল বিষয়। এটা নিয়ে আলোচনা করা, সেমিনার করার কোন অর্থ হয় না। পকেটমার কী, আমরা বুঝি-জানি।

দুর্নীতি নিয়ে এম এ মান্নান বলেন, যেহেতু আলোচিত হচ্ছে জিনিসটা সেজন্য আপনাদের নজরে আনলাম যে, এটা নিয়ে কিন্তু প্রচুর আলোচনা আছে। আমার ধারণা, এটা এক ধরনের হাইপ, এই ধরনের একটা ভাব। কিন্তু বাস্তবে স্বীকার করতে হবে জনগণের মধ্যে যেটা আছে, নিশ্চয় এর ভিত্তি একটা আছে। না হলে এত আলোচনা কেন হচ্ছে? এ সম্বন্ধে আমাদের হওয়া প্রয়োজন।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পর্যায়েই সম্ভাব্যতা যাচাই আবশ্যক। এটি ভালভাবে হলে তবেই পরবর্তী সময়ে সব কিছুই ভাল হবে।

ইউনূস মিয়া উপস্থাপনায় বলেন, প্রকল্প তৈরি পর্যায়েই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা গেলে পরবর্তী সময়ে আর কোন জটিলতা থাকবে না। বেস্ট ইনভেস্টমেন্টের জন্য অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ চিন্তা করেই একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি খসড়া রূপরেখা তৈরির আগে সবগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়েছে। এখন খসড়াটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই রূপরেখায় ১৩টি সেকশন রয়েছে। এসব সেকশনে বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

আরো খবর.......

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুর্নীতিবাজের সংখ্যা কম, তবে দুর্নীতি হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে

আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০২১

সময়ের কন্ঠ রিপোর্টা।।

প্রকল্পের কেনাকাটায় কোন কোন ক্ষেত্রে টিম ওয়ার্কেও দুর্নীতি আছে। তবে ব্যক্তিগত দুর্নীতিই বেশি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্নীতিবাজ মানুষের সংখ্যা কম। তবে দুর্নীতি হলে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে। বিধি-বিধানের বাইরে আমরা তো কিছু করতে পারব না। সরকারপ্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের শক্ত ভূমিকার প্রতি সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। কেউ দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার ‘উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্তকরণ’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, যুগ্ম প্রধান, উপ-প্রধান, উপ-সচিব পর্যায়ের মোট ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করেন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম ও আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ইউনূস মিয়া। পরিকল্পামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দুর্নীতি করলে কী হবে তার বিধানও আছে। তবে দুর্নীতি নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। জনগণের মধ্যে যখন এত আলোচনা হচ্ছে, তখন বুঝতে হবে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ভিত্তি আছে। আলো-আঁধারির বিষয় আছে। এটাকে এড়িয়ে চলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, এতদিন সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে ফরম্যাট না থাকায় একটি বড় দুর্বলতা ছিল। আমি মনে করি, সরকারী অর্থব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এই রূপরেখা বাংলায় করতে হবে। তাছাড়া শুধু কাগজে কলমে থাকলেই হবে না। যারা ব্যবহার করার কথা তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করছে কিনা সেটি তদারকি করতে হবে। আমি ইঞ্জিনিয়ার নই। তাই ওই বিষয়টি বলতে চাই না। কিন্তু অর্থব্যয়ের বিষয়টি বুঝি। তাছাড়া মানুষ এখন শিক্ষিত বেশি। সেটি পরিমাণ এবং গুণগত মানের দিক থেকে বেড়েছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ আছে। মানুষ জানতে চায়। তারা অনেক বেশি সচেতন।

কর্মশালায় অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মানুষ আশা করে আপনাদের কাছ থেকে ভাল আউটপুট। মানুষ মনে করে যে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একটা টেকনিক্যাল মন্ত্রণালয়। এখানে সব অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা আছেন। তারা নিশ্চয় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ভাল করে তৈরি করে দিয়েছে। মন্ত্রী নিয়ে তারা কনসার্ন নয়, কারণ মন্ত্রী আসে যায়। আপনারা তো স্থায়ী সিভিল সার্ভেন্টস। আপনারা ২০ বছর, ২৫ বছর কাজ করে এখানে এসেছেন। সব থেকে বড় কথা যেটা আমি বলতে চাই না, আই ফিল আনইজি। কিন্তু বলতে বাধ্য হই। যেখানেই যাই, যে আলোচনায় যাই, দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করে। আমি বিরক্ত হই। দুর্নীতি তো কোন প্রশ্নের বিষয় নয়। এটা একটা ক্রিমিনাল এ্যাক্ট। পকেটমার একটা ক্রিমিনাল বিষয়। এটা নিয়ে আলোচনা করা, সেমিনার করার কোন অর্থ হয় না। পকেটমার কী, আমরা বুঝি-জানি।

দুর্নীতি নিয়ে এম এ মান্নান বলেন, যেহেতু আলোচিত হচ্ছে জিনিসটা সেজন্য আপনাদের নজরে আনলাম যে, এটা নিয়ে কিন্তু প্রচুর আলোচনা আছে। আমার ধারণা, এটা এক ধরনের হাইপ, এই ধরনের একটা ভাব। কিন্তু বাস্তবে স্বীকার করতে হবে জনগণের মধ্যে যেটা আছে, নিশ্চয় এর ভিত্তি একটা আছে। না হলে এত আলোচনা কেন হচ্ছে? এ সম্বন্ধে আমাদের হওয়া প্রয়োজন।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পর্যায়েই সম্ভাব্যতা যাচাই আবশ্যক। এটি ভালভাবে হলে তবেই পরবর্তী সময়ে সব কিছুই ভাল হবে।

ইউনূস মিয়া উপস্থাপনায় বলেন, প্রকল্প তৈরি পর্যায়েই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা গেলে পরবর্তী সময়ে আর কোন জটিলতা থাকবে না। বেস্ট ইনভেস্টমেন্টের জন্য অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ চিন্তা করেই একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি খসড়া রূপরেখা তৈরির আগে সবগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়েছে। এখন খসড়াটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই রূপরেখায় ১৩টি সেকশন রয়েছে। এসব সেকশনে বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।