ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-০১ ফুলপুরে ৮ বোতল বিদেশি মদ সহ এক মাদক কারবারী আটক নওগাঁর মহাদেবপুর এ ২০০ বছরের পুরাতন মসজিদের সন্ধান মিলেছে জামালপুরের রানীগঞ্জ বাজার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে পানি নিস্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে পুকুর নির্মানের কারনে প্রায় শত বিঘা ফসলী জমি পানির নীচে ইবি শিক্ষার্থীকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বেগম জাহানারা হান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্টিত জামালপুরে ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব, কৃষি শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা মোংলায় সিবিএ নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে নওগাঁ প্রাইভেট কার থেকে ৭২ কেজি গাঁজাসহ এক জন গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

  • সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৪:১১:৩৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১
  • ১৫৮ ০.০০০ বার পাঠক

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

গত বুধবার ১৭ নভেম্বর ভোর থেকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে আসতে শুরু করেছে ভক্তরা।

বুধবার সকালে ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অপর্ন এবং মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডক্টর এ আর এম সোলাইমান ।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থী, মাওলানা ভাসানীর পরিবার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ভাসানী ভক্তরা মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন এবং মোনাজাত করেন।

এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বাউল গান পরিবেশন, মিলাদ, দোয়া মাহফিল, ওরশ, দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণসহ কাঙালি ভোজ।

মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটের প্রতিটি ক্ষণে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে করেছে।

ফিরে দেখাঃ
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম চেগা মিয়া। পাঁচ বছর বয়সে মক্তবে ওস্তাদের কাছে পড়ালেখায় হাতেখড়ি। তিনি মাত্র ৬ বছর বয়সে পিতৃহীন হন এবং ১২ বছর বয়সে মা মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন পাননি। ওস্তাদের কাছে মক্তবের পাঠ সমাপ্ত করার পর নিজ প্রচেষ্টায় উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, অসমিয়া, আরবি ও ইংরেজি ভাষা শেখেন।

ময়মনসিংহের পীর সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বোগদাদীর সংস্পর্শে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি ১৯০৮ সালে আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন। ১৯১৫ সালে তিনি আসাম আঞ্জুমান ওলামার সভাপতি এবং ১৯১৬ সালে আসাম কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯১৯ সালে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে পা বাড়ান। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, মাওলানা আজাদ সুবহানী ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে রাজনীতি করেন। ২৪ বছর বয়সে তরুণ মওলানা ভাসানী আসামে বাস্তুহারা বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন। ব্রিটিশ সরকার ঘোষিত কুখ্যাত ‘লাইন প্রথার’ বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেন। ১৯৩১ সালের ওই সময়ে তিনি ব্রহ্মপুত্রের ভাসানচরে বসবাস করতেন। অসামান্য নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে জনগণ তাকে ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভুষিত করে।

মওলানা ভাসানী ১৯৩৭ সালে বন্যাপ্লাবিত টাঙ্গাইলে এসে কাগমারীতে আস্তানা স্থাপন করেন। ৩৫ বছর বয়সে বগুড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে আলেমা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিনি আসামের ১৩ বছরের জীবনে ৮ বছরই কারাগারে ছিলেন। বাঙালিদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১১ বছর আসাম আইনসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল মহকুমায় মওলানা ভাসানী নিখিল ভারত মুসলিম লীগের পক্ষে গণআন্দোলন গড়ে তোলার ফলে মুসলিম লীগের পক্ষে সে সময় বিপুল ভোট পড়ে। ১৯৪৮ সালে আসামের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার রাজনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্র স্থাপন করেন।

আপসহীন সংগ্রামী নেতা মওলানা ভাসানী সময়োপযোগী ও অগ্রগামী এবং দূরদর্শি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি জাতীয় নেতার মর্যাদা লাভ করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকা সফরে এলে মওলানা ভাসানী ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি দলের সভাপতি মনোনীত হন।

১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি কেটে দেওয়া নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। তিনি দল ত্যাগ করে কৃষক সমিতি গঠন করেন। ১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন সংগ্রামের ডাক দেন। পরে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন।

মওলানা ভাসানী ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি হন। ১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল ঢাকায় পল্টনের জনসভায় চোরাচালানের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ব্যক্ত করেন। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে ভারত গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার এবং মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে সে বছরের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আরো খবর.......

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-০১

টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট টাইম : ০৪:১১:৩৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

গত বুধবার ১৭ নভেম্বর ভোর থেকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে আসতে শুরু করেছে ভক্তরা।

বুধবার সকালে ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অপর্ন এবং মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডক্টর এ আর এম সোলাইমান ।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থী, মাওলানা ভাসানীর পরিবার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ভাসানী ভক্তরা মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন এবং মোনাজাত করেন।

এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বাউল গান পরিবেশন, মিলাদ, দোয়া মাহফিল, ওরশ, দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণসহ কাঙালি ভোজ।

মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটের প্রতিটি ক্ষণে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে করেছে।

ফিরে দেখাঃ
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম চেগা মিয়া। পাঁচ বছর বয়সে মক্তবে ওস্তাদের কাছে পড়ালেখায় হাতেখড়ি। তিনি মাত্র ৬ বছর বয়সে পিতৃহীন হন এবং ১২ বছর বয়সে মা মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন পাননি। ওস্তাদের কাছে মক্তবের পাঠ সমাপ্ত করার পর নিজ প্রচেষ্টায় উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, অসমিয়া, আরবি ও ইংরেজি ভাষা শেখেন।

ময়মনসিংহের পীর সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বোগদাদীর সংস্পর্শে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি ১৯০৮ সালে আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন। ১৯১৫ সালে তিনি আসাম আঞ্জুমান ওলামার সভাপতি এবং ১৯১৬ সালে আসাম কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯১৯ সালে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে পা বাড়ান। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, মাওলানা আজাদ সুবহানী ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে রাজনীতি করেন। ২৪ বছর বয়সে তরুণ মওলানা ভাসানী আসামে বাস্তুহারা বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন। ব্রিটিশ সরকার ঘোষিত কুখ্যাত ‘লাইন প্রথার’ বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেন। ১৯৩১ সালের ওই সময়ে তিনি ব্রহ্মপুত্রের ভাসানচরে বসবাস করতেন। অসামান্য নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে জনগণ তাকে ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভুষিত করে।

মওলানা ভাসানী ১৯৩৭ সালে বন্যাপ্লাবিত টাঙ্গাইলে এসে কাগমারীতে আস্তানা স্থাপন করেন। ৩৫ বছর বয়সে বগুড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে আলেমা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিনি আসামের ১৩ বছরের জীবনে ৮ বছরই কারাগারে ছিলেন। বাঙালিদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১১ বছর আসাম আইনসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল মহকুমায় মওলানা ভাসানী নিখিল ভারত মুসলিম লীগের পক্ষে গণআন্দোলন গড়ে তোলার ফলে মুসলিম লীগের পক্ষে সে সময় বিপুল ভোট পড়ে। ১৯৪৮ সালে আসামের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার রাজনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্র স্থাপন করেন।

আপসহীন সংগ্রামী নেতা মওলানা ভাসানী সময়োপযোগী ও অগ্রগামী এবং দূরদর্শি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি জাতীয় নেতার মর্যাদা লাভ করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকা সফরে এলে মওলানা ভাসানী ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি দলের সভাপতি মনোনীত হন।

১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি কেটে দেওয়া নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। তিনি দল ত্যাগ করে কৃষক সমিতি গঠন করেন। ১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসন সংগ্রামের ডাক দেন। পরে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন।

মওলানা ভাসানী ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি হন। ১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল ঢাকায় পল্টনের জনসভায় চোরাচালানের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ব্যক্ত করেন। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে ভারত গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার এবং মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে সে বছরের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।