ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
পানি নিস্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে পুকুর নির্মানের কারনে প্রায় শত বিঘা ফসলী জমি পানির নীচে ইবি শিক্ষার্থীকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বেগম জাহানারা হান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্টিত জামালপুরে ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব, কৃষি শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা মোংলায় সিবিএ নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে নওগাঁ প্রাইভেট কার থেকে ৭২ কেজি গাঁজাসহ এক জন গ্রেপ্তার ভাষা সৈনিক মোস্তফা এম এ মতিন সাহিত্য পুরস্কার পেলেন হোসেনপুরের কবি শাহ আলম বিল্লাল গুজরাটের পোরবন্দরের জলসীমায় ২২০০০হাজার, কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক করেছে নৌবাহিনী ও এনসিবি, গ্রেপ্তার পাঁচ পাক নাগরিক রায়পুরে অসামাজিক কার্যকলাপে আটক ৫ রাজধানীর ৪ হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান

রবিতে ‘ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন’ শিক্ষিকা ফারহানা (ভিডিও)

  • সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ২২৮ ০.০০০ বার পাঠক

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কর্তৃক ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় অনশনের দ্বিতীয় দিনে ৪ শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অনশন ও বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শুধু তার ডিপার্টমেন্টেই নয় পুরো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি কথায় কথায় নিজেকে বড় আর্মি অফিসারের মেয়ে দাবি করে ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ভয় দেখিয়ে ছাত্রদের নানাভাবে টর্চার করতেন। তার এই টর্চারের হাত থেকে ক্লিনার ও আয়াও রক্ষা পায়নি।

শিক্ষার্থীরা জানান, তার আক্রোশের শিকার হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তিনি এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও কর্মচারী জানিয়েছেন শিক্ষিকা ফারহানা অত্যন্ত বদরাগী মহিলা। সামান্যতেই রেগে যান এবং অকথ্য ভাষায় সবাইকে গালিগালাজ করেন। তার অত্যাচারে ক্লিনার গোলাপি তার ডিপার্টমেন্টে এখন আর কাজ করে না। আয়া সালমাও তার ডিপার্টমেন্ট ছেড়েছে।

তানভীর নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষিকা ফারহানা প্রায়ই তাদের ধমক দিয়ে বলে আমার ডিপার্টমেন্টে আমিই গড। আমি যাকে যা বলব তাকে তাই করতে হবে। তা না হলে তাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে।

তিনি আরও বলেন, তোরা আমার কথা না শুনলে ১০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পারবি না। পরীক্ষা দিবি, খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেব। তোর বাবা-মা ভাত পায় না, তোরা এখানে এসে ভাব দেখাস। লাথি মেরে চার তলা থেকে ফেলে দেব। তিনি প্রায়ই ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এভাবে কথা বলেন।

শিক্ষার্থী নাজমুল তুহিন বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এমনিতেই আমরা সব সময় শঙ্কার মধ্যে দিয়ে চলি। এর ওপর আমি এমন অত্যাচার সহ্য করতে পারিনি। তাই মানসিক চাপে আত্মাহুতির পথ বেছে নেই। এখন আমার ভয়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে ম্যাম আমার শিক্ষা জীবনটা না শেষ করে দেয়।

নাজমুল হাসান পাপন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। তিনি এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের ভয় দেখান। নিজের বাবা আর্মি অফিসার দাবি করে শিক্ষার্থীদের বলেন আমাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না। তোরা পাশ ক্যামনে করিস দেখে নেব। ওনার কাছে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। এ কারণেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করছে। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে ছাত্ররা ফুঁসে উঠেছে।

আবিদ হাসান নামে এক ছাত্র বলেন, তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটা আমাদের মেনে নিতে হয়। তার সিদ্ধান্ত গুলো সব সময়ই অমানবিক হয়। আমাদের ওপর তার কর্তৃত্ব দেখান।

আবিদ হাসান আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা শুরু হলেও তিনি পরীক্ষার তিন-চারদিন আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে রুটিন দিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিনই পরীক্ষা রয়েছে। একটি বছরের চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রতিদিন দিতে হবে এমন অমানবিক সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা ওই রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে প্রথম বর্ষেও শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই শিক্ষিকা স্মারকলিপি দিতে আসা শিক্ষার্থীদের নাম সংগ্রহ করেন। শনিবার পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো চার ঘণ্টা তিনি ওই শিক্ষার্থীদের মেন্টালি টর্চার করেন। এটা নিয়ে পরদিন আমরা কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দিবেন বলে হুমকি দেন। পরে যারা এ স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিল তাদেরই চুল কাটা হয়েছে।

সুজন নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ক্লাসের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি নানা রকম কথা বলেন।

তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সোহাগ, ফারাহ নাজ নিঝুম বলেন, ওই শিক্ষিকা আমাদের বাবা-মা এমনকি জন্মের পরিচয় তুলেও গালি দেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন ও আবু জাফর বলেন, ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্যতা নেই। মানসিক বিকারগ্রস্ত ও উগ্রমেজাজী এ শিক্ষিকার কাছে কেউই নিরাপদ নয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন চুল কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার একটু রাগ রয়েছে। পরীক্ষার জন্য পড়া লেখার বিষয়ে আমি শিক্ষার্থীদের একটু বকাঝকা করি। কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, চুল কেটে দেওয়া ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই এমন অভিযোগ রয়েছে। জুতোর শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শাসন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ বিষয়গুলো জানা যাবে।

এদিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবারও আমরণ অনশনে রয়েছেন ১১ নির্যাতিত ছাত্র। তাদের মধ্যে ৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা হলেন, জাহিদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, মাজিদুল ইসলাম ও জাকারিয়া। এদের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলি মেডিকেল ও শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া দিনভর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা চুলকাটার মুহূর্তের সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ হাতে পেয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন কাচি হাতে পরীক্ষার রুমের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। এর কিছু সময় পর এক মহিলা ক্লিনার ছাত্রদের মাথার কাটা চুল একটি বালতিতে করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ওই বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর সজিব সরকার ও অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া ওই বিভাগের শিক্ষক  রাজিব অধিকারী তার এক বক্তব্যে চুল কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। ফলে ওই শিক্ষিকার চুল টাকার বিষয়ের সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে রবির অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমিও সহমত পোষণ করছি। তবে নিয়মের মধ্যদিয়ে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ইয়াসমিন বাতেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো খবর.......

জনপ্রিয় সংবাদ

পানি নিস্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে পুকুর নির্মানের কারনে প্রায় শত বিঘা ফসলী জমি পানির নীচে

রবিতে ‘ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন’ শিক্ষিকা ফারহানা (ভিডিও)

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কর্তৃক ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় অনশনের দ্বিতীয় দিনে ৪ শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অনশন ও বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শুধু তার ডিপার্টমেন্টেই নয় পুরো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি কথায় কথায় নিজেকে বড় আর্মি অফিসারের মেয়ে দাবি করে ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ভয় দেখিয়ে ছাত্রদের নানাভাবে টর্চার করতেন। তার এই টর্চারের হাত থেকে ক্লিনার ও আয়াও রক্ষা পায়নি।

শিক্ষার্থীরা জানান, তার আক্রোশের শিকার হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তিনি এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও কর্মচারী জানিয়েছেন শিক্ষিকা ফারহানা অত্যন্ত বদরাগী মহিলা। সামান্যতেই রেগে যান এবং অকথ্য ভাষায় সবাইকে গালিগালাজ করেন। তার অত্যাচারে ক্লিনার গোলাপি তার ডিপার্টমেন্টে এখন আর কাজ করে না। আয়া সালমাও তার ডিপার্টমেন্ট ছেড়েছে।

তানভীর নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষিকা ফারহানা প্রায়ই তাদের ধমক দিয়ে বলে আমার ডিপার্টমেন্টে আমিই গড। আমি যাকে যা বলব তাকে তাই করতে হবে। তা না হলে তাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে।

তিনি আরও বলেন, তোরা আমার কথা না শুনলে ১০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পারবি না। পরীক্ষা দিবি, খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেব। তোর বাবা-মা ভাত পায় না, তোরা এখানে এসে ভাব দেখাস। লাথি মেরে চার তলা থেকে ফেলে দেব। তিনি প্রায়ই ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এভাবে কথা বলেন।

শিক্ষার্থী নাজমুল তুহিন বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এমনিতেই আমরা সব সময় শঙ্কার মধ্যে দিয়ে চলি। এর ওপর আমি এমন অত্যাচার সহ্য করতে পারিনি। তাই মানসিক চাপে আত্মাহুতির পথ বেছে নেই। এখন আমার ভয়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে ম্যাম আমার শিক্ষা জীবনটা না শেষ করে দেয়।

নাজমুল হাসান পাপন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। তিনি এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের ভয় দেখান। নিজের বাবা আর্মি অফিসার দাবি করে শিক্ষার্থীদের বলেন আমাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না। তোরা পাশ ক্যামনে করিস দেখে নেব। ওনার কাছে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। এ কারণেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করছে। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে ছাত্ররা ফুঁসে উঠেছে।

আবিদ হাসান নামে এক ছাত্র বলেন, তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটা আমাদের মেনে নিতে হয়। তার সিদ্ধান্ত গুলো সব সময়ই অমানবিক হয়। আমাদের ওপর তার কর্তৃত্ব দেখান।

আবিদ হাসান আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা শুরু হলেও তিনি পরীক্ষার তিন-চারদিন আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে রুটিন দিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিনই পরীক্ষা রয়েছে। একটি বছরের চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রতিদিন দিতে হবে এমন অমানবিক সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা ওই রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে প্রথম বর্ষেও শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই শিক্ষিকা স্মারকলিপি দিতে আসা শিক্ষার্থীদের নাম সংগ্রহ করেন। শনিবার পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো চার ঘণ্টা তিনি ওই শিক্ষার্থীদের মেন্টালি টর্চার করেন। এটা নিয়ে পরদিন আমরা কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দিবেন বলে হুমকি দেন। পরে যারা এ স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিল তাদেরই চুল কাটা হয়েছে।

সুজন নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ক্লাসের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি নানা রকম কথা বলেন।

তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সোহাগ, ফারাহ নাজ নিঝুম বলেন, ওই শিক্ষিকা আমাদের বাবা-মা এমনকি জন্মের পরিচয় তুলেও গালি দেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন ও আবু জাফর বলেন, ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্যতা নেই। মানসিক বিকারগ্রস্ত ও উগ্রমেজাজী এ শিক্ষিকার কাছে কেউই নিরাপদ নয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন চুল কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার একটু রাগ রয়েছে। পরীক্ষার জন্য পড়া লেখার বিষয়ে আমি শিক্ষার্থীদের একটু বকাঝকা করি। কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, চুল কেটে দেওয়া ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই এমন অভিযোগ রয়েছে। জুতোর শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শাসন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ বিষয়গুলো জানা যাবে।

এদিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবারও আমরণ অনশনে রয়েছেন ১১ নির্যাতিত ছাত্র। তাদের মধ্যে ৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা হলেন, জাহিদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, মাজিদুল ইসলাম ও জাকারিয়া। এদের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলি মেডিকেল ও শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া দিনভর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা চুলকাটার মুহূর্তের সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ হাতে পেয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন কাচি হাতে পরীক্ষার রুমের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। এর কিছু সময় পর এক মহিলা ক্লিনার ছাত্রদের মাথার কাটা চুল একটি বালতিতে করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ওই বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর সজিব সরকার ও অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া ওই বিভাগের শিক্ষক  রাজিব অধিকারী তার এক বক্তব্যে চুল কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। ফলে ওই শিক্ষিকার চুল টাকার বিষয়ের সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে রবির অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমিও সহমত পোষণ করছি। তবে নিয়মের মধ্যদিয়ে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ইয়াসমিন বাতেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।