1. [email protected] : admi2017 :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

অসহায় সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড টিকা পাবেন তো?

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১, ৬.৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৮০ বার পঠিত

সময়ের কন্ঠ রিপোর্টার।।

কোভিডের  নিদানকালে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগেরহাজারও গল্প আমরা সকলেই এখন জেনে গেছি। নানা মাধ্যমেছড়িয়ে পড়া এসব ঘটনার বয়ান বিশ্বের বিভিন্ন ল্যাবে উদ্ভাবিতকোভিডপ্রতিরোধী টিকাগুলোর “ন্যায্য বণ্টন” বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণরাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। বিশ্বের মানুষ এখনমোটামুটি একমত যেগ্রহণযোগ্য টিকা উদ্ভাবিত হলে তা পাওয়ারঅগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবেন জনগণকে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবাপ্রদানকারীরা।

কোভিডের টিকা উদ্ভাবন  উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবেগৃহীত কোভ্যাক্স (COVAX) উদ্যোগটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (CEPI), গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনোভেশন (GAVI) এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ এই উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিশ্বের ৮০টি দেশ যুক্তহয়েছে। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি ডোজ উৎপাদনেরলক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছেযা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগণ এবংসরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষা প্রদান করার জন্য পর্যাপ্ত।

কোভিড রোগের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদেরএগিয়ে রাখার সিদ্ধান্তটির ভিত্তি মূলত নৈতিক হলেও এক্ষেত্রে বাস্তবপরিস্থিতির বিবেচনাও কম গুরুত্ববহ নয়। কোভিড চলাকালীনস্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ব্যাপারে জনগণের আতঙ্ক দূর করা- উভয়ই জরুরি। গর্ভবতী মায়েরস্বাস্থ্যসেবাটিকা কর্মসূচি এবং যক্ষ্মা  এইচআইভির মতোদুরারোগ্য রোগের নিয়মিত চিকিৎসার জন্যও  পদক্ষেপ জরুরি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা কোনো একক ধারা বানিয়মকানুনের আওতাধীন পেশাজীবীর দল নন। বস্তুত তারাবৈচিত্র্যপূর্ণ  নানা শ্রেণি আর ধরনে বিভক্ত। এদের মধ্যে আছেনওষুধবিক্রেতা (ফার্মাসিস্ট), স্থানীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন এমনব্যক্তিবর্গকমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং পল্লী চিকিৎসকজনসাধারণের যে অংশটির কাছে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায় নাবা যাদের কাছে সেই সেবা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেইঅথবা যারা সেই সেবা নিতে ভয়ও পান তাদেরকেই সেবা দেনউপরোক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা।

প্রশ্ন হচ্ছেকোভিড টিকার পরিকল্পনায় এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরাকি অগ্রাধিকার পাবেনকমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা গর্ভবতী নারীনবজাতক এবং ছোট শিশুদের সরাসরি সেবা দিয়ে থাকেন। কর্মীদের অধিকাংশ পল্লী  নগর এলাকায় বসবাসরত নারী।এদেরকে প্রায় সময়ই “অদৃশ্য বাহিনী” বলা হয়ে থাকেকারণতাদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যাদি যেমন সংগ্রহ করা হয় নাতেমনিস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি ব্যবস্থার আওতা  গণনার বাইরেইথাকছেন তারা।

প্রশ্ন হলোন্যায্যতার যুক্তিতে তারাও কি টিকার দাবিদার হবেননাকি এটা কেবল হাসপাতাল  ক্লিনিকের চিকিৎসকনার্সদেরক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবেপ্রশ্নটি ওঠার কারণমূলত দ্বিতীয় ধরনেরব্যক্তিরাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে স্বীকৃত।

এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের চিত্রটি একটু দেখা যাক।টিকাদান এবং মা  শিশুর মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশের বড় অর্জনরয়েছে। এই অর্জনের পেছনে দেশের বহুমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থারঅবদানের কথাও স্বীকার করা হয়।  ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থারপরিপূরক হিসেবে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশিঅলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বীকৃতনয়।

ব্র্যাকের মতো বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়েরস্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েথাকে। এরা তৃণমূল জনগোষ্ঠী  সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবেও কাজ করেএবং টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন  যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগেরপ্রতিরোধ  চিকিৎসা প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ব্র্যাকেরস্বাস্থ্যসেবাকর্মী বাহিনী ৪০ হাজার নারী নিয়ে গঠিত যারা স্থানীয়পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। মহামারী শুরু হওয়ার পরপরই কর্মীবাহিনী মাঠে নেমে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। সম্ভাব্যকোভিড রোগী শনাক্তকরণ এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞচিকিৎসকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করেছেন  রোগএবং চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্যাদিও স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছেদিয়েছেন।

কোভিডের টিকা দিতে লাখ লাখ মানুষকে টিকাদান কেন্দ্রে এনেজড়ো করাটাই হবে সবচেয়ে কঠিন পর্যায়। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীএবং অন্যান্য বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর দল এক্ষেত্রে বড় ভূমিকাপালন করবেন। কিন্তু কাজটি তারা সফলভাবে করতে পারবেন নাযদি না তাদের নিজেদের টিকা দেওয়া থাকে।

এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কার্যকর তদারকির আওতায় নিয়েআসতে উপযুক্ত বিধিমালার প্রয়োজনীয়তাতদারকি বৃদ্ধি বা তাদেরসেবার গুণগত মান বিষয়ে বিতর্ক করা যেতেই পারে। কিন্তুবর্তমানের সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হচ্ছেস্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদেরযে বিপুল অংশ গরিবদের সেবা দিয়ে থাকেনতাদের ভূমিকাকেস্বীকৃতি দেওয়া হবে কিনা এবং ন্যায্যতাভিত্তিক বণ্টনের পরিকল্পনায়তারা অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা।

বস্তুতএকটি ন্যায্যতাভিত্তিক পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোরউত্তর থাকবে।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী  অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যসেবাপ্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে কোনো তথ্যভাণ্ডার আছেকিনা যার মধ্যে প্রয়োজনে আরো বেশি সংখ্যক  ধরনেরস্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী চিহ্নিত করে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব?

২. টিকা নিতে আগেই নাম নিবন্ধন করা এবং টিকা নেওয়ার স্থান – এ দুইটি বিষয় সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জানানোর উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থা আছে?

৩. তালিকাভুক্তদের দেওয়ার জন্য সংরক্ষিত টিকার অন্যত্র পাচার ঠেকাতে এবং টিকা বণ্টন ও পৌঁছানোর কার্যক্রম তদারকির উপযুক্ত কঠোর তদারকি ব্যবস্থা আছে?

৪. তথ্যভাণ্ডার প্রদানকারী ও টিকা প্রদানকারী নেটওয়ার্কটি টিকার জন্য জরুরি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও কি করতে সক্ষম?

৫. প্রত্যেকটি দেশকে যে জোরালো প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হবে তা হলো, কাদের তারা সম্মুখসারির বা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করবে? যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিংহোমগুলো ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাসম্বলিত আবাসগুলোয় কর্মরত মেডিকেল সংশ্লিষ্ট নয় এমন কর্মীরা কোভিড পরিস্থিতিতে প্রথম সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছেন। ভারতে রাষ্ট্রীয় ‘আশা’ কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকর্মী জনগণকে সরাসরি কোভিড সংক্রান্ত সেবা দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের এই কর্মীরা কি নেপথ্যের নায়ক হিসেবেই থেকে যাবেন, নাকি টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় তাদের স্থান হবে?

৬. টিকা বণ্টনের প্রাথমিক পর্যায়ে যদি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হয় তবে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ও চিহ্নিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অনেকেই সরকারি বা বড় হাসপাতালগুলোতে কাজ করেন না। তাদের অধিকাংশই হয়তো বেতনভিত্তিক কাজ করেন না, বা তাদের লাইসেন্সও নেই।

৭. স্বাস্থ্যখাতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার কোনো সহজ পন্থা হয়তো নেই, কিন্তু এটাই যে সঠিক পথ তা অস্বীকারের উপায় নেই।

৮. কোভিড টিকার বৃহৎ মাত্রায় বিতরণের এখনও কিছুটা দেরি আছে। ফলে এই সময়ে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে বিবেচনা করতে পারি, যাতে আমাদের পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazarsomoyer14
© All rights reserved  2019-2021

Dailysomoyerkontha.com