ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
সরাইলে ১০ম বারের মতো আশুতোষ চক্রবর্তী স্মারক শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অবশেষে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠ অবশেষে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা মৃত্যুপুরী গাজা নগরী, ‘কুকুরে খাচ্ছে লাশ’ আন্দোলনকারীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সুশান্ত পালের ‘তোমরা এমনিতেই চাকরি পাবে না, কোটা থাক না থাক’ গাজীপুরে উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা:ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় স্থানীয় পুলিশ পর্ব ১ মঠবাড়ীয়া আমড়াগাছিয়ায় মাদক সহ ১জন আটক ৬ মাসের কারাদন্ড কোটা আন্দোলন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাবে নিজের আরো সম্পদের পাহাড় এদিকে স্ত্রীকে পাঁচটি জাহাজ কিনে দিয়েছেন এডিসি কামরুল রোববার কোটা আন্দোলনকারীরা সড়কে নামলেই ‘কঠোর ব্যবস্থা’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুতে ইতিবাচক মিয়ানমার। ভারত

আমি খুন হওয়ার শঙ্কায় মেয়েকেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে রেখেছি। 

সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৪:২২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২১
  • / ৪১৭ .000 বার পাঠক

নুরুল আমিন( মল্লিক ) বরগুনা থেকে।। বরগুনা পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী  খুন হওয়ার শঙ্কায় মেয়েকেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে রেখেছেন। বর্তমান মেয়র

শাহাদাত হোসেন  সময়ের কন্ঠকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের সমর্থকরা আমি ও আমার পরিবারের ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছিল। ওই নির্বাচনের প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয়ে আমার অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছিল।

যেকোনো সময় মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বরগুনার পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। এ শঙ্কা থেকে নিজের পাশাপাশি মেয়েকে দিয়েও মনোনয়নপত্র দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাবা-মেয়ের মেয়র প্রার্থী হওয়ার এ ঘটনা এখন পৌর শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শাহাদাত হোসেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আগেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার শেষ দিন পর্যন্ত মেয়র পদে নয় জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিএনপির আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির আবদুল জলিল হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জালাল উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র শাহাদাত হোসেন (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), মো. শাহাবুদ্দিন, জসীম উদ্দিন, ছিদ্দিকুর রহমান পান্না, নিজাম উদ্দিন ও মহসিনা মিতুল। প্রাণনাশের আশঙ্কার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র শাহাদাত হোসেন  সময়েরকন্ঠ কে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের সমর্থকরা আমি ও আমার পরিবারের ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দিন ভোর থেকে তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করে। এতে এক জন নিহতও হয়েছিল। গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও মনোনয়ন পাওয়ার পর নৌকা সমর্থকদের আচরণে আমার মনে হয়েছে, যেকোনো সময় তারা আমার ওপর হামলা করতে পারে, মেরে ফেলতে পারে। এ কারণে আমার মেয়েকে দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছি। মেয়রের মেয়ে মহসিনা মিতুল বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেনার আগেই আমাদের বাসার সামনে এসে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছিল, যাতে আমার বাবা নির্বাচনে প্রার্থী না হন। আমরা এ ঘটনায় বরগুনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। আমাদের বাসার সামনে গত নির্বাচনে ক্রোক স্কুলে সভা চলাকালে আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এবারও আমরা শঙ্কায় আছি, আমার বাবা বা আমাদের পরিবারের কেউ নিরাপদ বোধ করছি না। সে কারণেই আমিও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, মেয়র শাহাদাত হোসেন বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৫ সালেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। টাকার জোরে নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলীয় প্রার্থীকে আহত করে ভোট কেটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারও শাহাদাত হোসেন দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে নিজে স্বতন্ত্র, মেয়ে মিতু ও তার সমর্থক নিজাম উদ্দিনকে দিয়ে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়েছেন। গত ১০ বছরে তিনি ও তার অনুসারীরা পৌরসভা লুটপাট করেছেন। পৌরসভার মেয়র হওয়া তার কাছে এক ধরনের বাণিজ্য। এ কারণে এবারও টাকার জোরে মেয়র হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রচার চালানোয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে কেউ যদি জল ঘোলা করে ফায়দা নিতে চেষ্টা করে, আমরা সেটাও প্রতিহত করতে চেষ্টা করব। এবার দলের সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। তার (শাহাদাত) সব ষড়যন্ত্র এবার মোকাবিলা করা হবে। দলের পদে থেকে দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি নৌকাকে ভালোবাসি। তারপরও জনগণের কথা চিন্তা করে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। জনগণ আমাকে চায়। জনগণ আমার জন্য নীরবে কাঁদে। বড়িয়ালপাড়ার লোকজনের ঘরবাড়ি যখন ডিসি ভেঙে ফেলে, তখন তো দলের লোকজন তাদের রক্ষা করেনি। আমি ঢাকা থেকে এসে ঘরবাড়ি রক্ষা করেছি।

বরগুনা পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার। মেয়র পদে নয়, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪

আরো খবর.......

আপলোডকারীর তথ্য

আমি খুন হওয়ার শঙ্কায় মেয়েকেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে রেখেছি। 

আপডেট টাইম : ০৪:১৪:২২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২১

নুরুল আমিন( মল্লিক ) বরগুনা থেকে।। বরগুনা পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী  খুন হওয়ার শঙ্কায় মেয়েকেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে রেখেছেন। বর্তমান মেয়র

শাহাদাত হোসেন  সময়ের কন্ঠকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের সমর্থকরা আমি ও আমার পরিবারের ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছিল। ওই নির্বাচনের প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয়ে আমার অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছিল।

যেকোনো সময় মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বরগুনার পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। এ শঙ্কা থেকে নিজের পাশাপাশি মেয়েকে দিয়েও মনোনয়নপত্র দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাবা-মেয়ের মেয়র প্রার্থী হওয়ার এ ঘটনা এখন পৌর শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শাহাদাত হোসেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আগেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার শেষ দিন পর্যন্ত মেয়র পদে নয় জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিএনপির আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির আবদুল জলিল হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জালাল উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র শাহাদাত হোসেন (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), মো. শাহাবুদ্দিন, জসীম উদ্দিন, ছিদ্দিকুর রহমান পান্না, নিজাম উদ্দিন ও মহসিনা মিতুল। প্রাণনাশের আশঙ্কার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র শাহাদাত হোসেন  সময়েরকন্ঠ কে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজের সমর্থকরা আমি ও আমার পরিবারের ওপর একাধিক বার হামলা চালিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দিন ভোর থেকে তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করে। এতে এক জন নিহতও হয়েছিল। গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও মনোনয়ন পাওয়ার পর নৌকা সমর্থকদের আচরণে আমার মনে হয়েছে, যেকোনো সময় তারা আমার ওপর হামলা করতে পারে, মেরে ফেলতে পারে। এ কারণে আমার মেয়েকে দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করাতে বাধ্য হয়েছি। মেয়রের মেয়ে মহসিনা মিতুল বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেনার আগেই আমাদের বাসার সামনে এসে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছিল, যাতে আমার বাবা নির্বাচনে প্রার্থী না হন। আমরা এ ঘটনায় বরগুনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। আমাদের বাসার সামনে গত নির্বাচনে ক্রোক স্কুলে সভা চলাকালে আমার ওপর হামলা হয়েছিল। এবারও আমরা শঙ্কায় আছি, আমার বাবা বা আমাদের পরিবারের কেউ নিরাপদ বোধ করছি না। সে কারণেই আমিও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, মেয়র শাহাদাত হোসেন বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৫ সালেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। টাকার জোরে নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলীয় প্রার্থীকে আহত করে ভোট কেটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারও শাহাদাত হোসেন দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে নিজে স্বতন্ত্র, মেয়ে মিতু ও তার সমর্থক নিজাম উদ্দিনকে দিয়ে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়েছেন। গত ১০ বছরে তিনি ও তার অনুসারীরা পৌরসভা লুটপাট করেছেন। পৌরসভার মেয়র হওয়া তার কাছে এক ধরনের বাণিজ্য। এ কারণে এবারও টাকার জোরে মেয়র হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রচার চালানোয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে কেউ যদি জল ঘোলা করে ফায়দা নিতে চেষ্টা করে, আমরা সেটাও প্রতিহত করতে চেষ্টা করব। এবার দলের সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। তার (শাহাদাত) সব ষড়যন্ত্র এবার মোকাবিলা করা হবে। দলের পদে থেকে দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি নৌকাকে ভালোবাসি। তারপরও জনগণের কথা চিন্তা করে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। জনগণ আমাকে চায়। জনগণ আমার জন্য নীরবে কাঁদে। বড়িয়ালপাড়ার লোকজনের ঘরবাড়ি যখন ডিসি ভেঙে ফেলে, তখন তো দলের লোকজন তাদের রক্ষা করেনি। আমি ঢাকা থেকে এসে ঘরবাড়ি রক্ষা করেছি।

বরগুনা পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার। মেয়র পদে নয়, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪