ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::

খেলার মাঠে হরিষে বিষাদ

  • সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ০৭:০২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০
  • ৩২৯ ০.০০০ বার পাঠক

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

দরজায় দাঁড়িয়ে নতুন বছর। তবে নানা কারণেই ২০২০ সাল বিশ্ববাসী ভুলে যেতে পারবেন না। কেউ কেউ হয়তো এটাকে ভুতুড়ে সাল বলেও আখ্যায়িত করতে পারেন। বছরের শুরু থেকেই বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গিয়েছিলো জনজীবন। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। প্রায় চার মাস নির্বাসনে ছিল বিশ্ব ক্রিকেট। কিন্তু জৈব সুরক্ষা বলয়ের সহায়তায় সেটা মাঠে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। খেলোয়াড়দের সুরক্ষা, সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অনেক নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। যদিও দর্শক শূন্যতার কারণে খেলাটার জৌলুসে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় একটি অর্জনের কথা সারাজীবন মনে রাখবে দেশবাসী। তাহলো যুবাদের বিশ্বকাপ জয়।

২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়। সর্বোচ্চ সংখ্যক চারটি শিরোপা জয়ী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত এই আসরে বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকায় নাম লেখিয়েছে টাইগার তরুণরা।

সাকিবের ফেরা:

২০২০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আরো একটি সুখবর সাকিবের ফেরা। ২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিয়েছিল সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর। সে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ বছরের অক্টোবরে অনুশীলনে ফেরেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। জেমকন খুলনার হয়ে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে।

২০০০ সাল থেকে ক্রিকেট বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৪৫টি টেস্ট ও ১৩৫টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অথচ এ বছর সব দল মিলে ২৫টি টেস্ট এবং ৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম এত কমসংখ্যক ম্যাচ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। এ বছরই রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল টাইগারদের কিন্তু করোনায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

করোনার কারণে বাংলাদেশের যেসব সিরিজ স্থগিত:

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের চারটি সিরিজ স্থগিত হয়েছে । চলতি বছরের এপ্রিলে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। জুনে দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। জুলাই মাসে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল শ্রীলংকায়। এরপর আগস্টে দুই টেস্ট খেলতে আসার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডের। করোনায় এতগুলো সিরিজ বাতিল হয় যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

মেয়েদের আইপিএলে সালমা-জাহানারা:

এবার আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইপিএল। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের আইপিএলও গড়িয়েছে মাঠে। ‘টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’ নামে মেয়েদের আইপিএল আয়োজন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। আর মেয়েদের এই টুর্নামেন্টটিও হয়েছে আরব আমিরাতে। নারীদের এই আসরে বাংলাদেশের জন্য সুখবর বয়ে এনেছেন দেশের দুই অভিজ্ঞ নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম।

টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলম খেলেছেন ভেলোসিটির হয়ে। আর জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খেলেছেন ট্রেইলব্লেজারসের হয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মতো অন্যান্য ফেডারেশনও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপও ছিল কিন্তু করোনায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গত নভেম্বরে ফিফার অনুমতিসাপেক্ষে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে বাফুফে। দ্বিপাক্ষিক সেই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল।

বাফুফে নির্বাচন:

বাংলাদেশ ফুটবল অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল বাফুফে নির্বাচন নিয়ে। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচন। তবে চিত্র বদলায়নি। আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। এই নিয়ে টানা চতুর্থবার বাফুফে প্রধান হলেন তিনি।

ক্রিকেট ফেরাল জৈব সুরক্ষা বলয়:

করোনার প্রকোপের কথা মাথায় রেখেও গ্রীষ্মে ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। তা না হলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়তে হতো। ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের মধ্য দিয়েই ভাঙে ২২ গজের নীরবতা। জৈব সুরক্ষা বলয় ছাড়া যা সম্ভবই ছিল না! যেখানে দুই দলকে থাকতে হয়েছে নির্ধারিত সীমানার ভেতর। ইংল্যান্ডের পর বাকি দেশগুলোও এভাবেই ফের স্বাগত জানিয়েছে ক্রিকেটকে।

আইসিসির নিয়মের পরিবর্তন:

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বলে লালা ব্যবহারে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ভ্রমণ জটিলতার কারণে তিন সংস্করণে দেওয়া হয়েছে স্বাগতিক আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ চালানোর অনুমতি। ভুল সিদ্ধান্ত কমাতে তাই বাড়ানো হয়েছে রিভিউ সংখ্যা।

স্থগিত টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ:

চার বছরের বিরতি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপ এবার হবে কি না, এ নিয়ে হয়েছে রাজ্যের আলোচনা। নানা জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্তই নেয় আইসিসি। দুই বছর পিছিয়ে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হবে আসরটি। তার আগে এক বছর পেছানো হয় এশিয়া কাপও। এছাড়া বছর জুড়ে স্থগিত হয়েছে আইসিসির অন্যান্য টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো।

পুরুষে ইংল্যান্ড, নারীতে অস্ট্রেলিয়া:

করোনার ধাক্কার পরও পুরুষ-নারী ক্রিকেট মিলিয়ে এই বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২০ ম্যাচ। ফেব্রুয়ারিতে মেলবোর্নে রেকর্ড সংখ্যক দর্শকের নারী টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা উচিয়ে ধরে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে গত বছরের মতো এবারও পুরুষ ক্রিকেটে বছরটা নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড। সোমবার ( ২৮ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সর্বোচ্চ টেস্টে ছয়টি ও টি-২০-তে আটটি ম্যাচ জিতে বছর শেষ করে ইংলিশরা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে টি-২০ সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে করোনার কারণে ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত রেখেই ফিরে আসে ইংলিশরা।

আরো খবর.......

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকুন্দিয়ায় পুলিশের অভিজানে চোরাই মোটরসাইকেল সহ ১ জন আটক

খেলার মাঠে হরিষে বিষাদ

আপডেট টাইম : ০৭:০২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

সময়ের কন্ঠ রিপোর্ট।।

দরজায় দাঁড়িয়ে নতুন বছর। তবে নানা কারণেই ২০২০ সাল বিশ্ববাসী ভুলে যেতে পারবেন না। কেউ কেউ হয়তো এটাকে ভুতুড়ে সাল বলেও আখ্যায়িত করতে পারেন। বছরের শুরু থেকেই বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গিয়েছিলো জনজীবন। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। প্রায় চার মাস নির্বাসনে ছিল বিশ্ব ক্রিকেট। কিন্তু জৈব সুরক্ষা বলয়ের সহায়তায় সেটা মাঠে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। খেলোয়াড়দের সুরক্ষা, সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অনেক নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। যদিও দর্শক শূন্যতার কারণে খেলাটার জৌলুসে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় একটি অর্জনের কথা সারাজীবন মনে রাখবে দেশবাসী। তাহলো যুবাদের বিশ্বকাপ জয়।

২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়। সর্বোচ্চ সংখ্যক চারটি শিরোপা জয়ী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত এই আসরে বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকায় নাম লেখিয়েছে টাইগার তরুণরা।

সাকিবের ফেরা:

২০২০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আরো একটি সুখবর সাকিবের ফেরা। ২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিয়েছিল সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর। সে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ বছরের অক্টোবরে অনুশীলনে ফেরেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। জেমকন খুলনার হয়ে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে।

২০০০ সাল থেকে ক্রিকেট বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৪৫টি টেস্ট ও ১৩৫টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অথচ এ বছর সব দল মিলে ২৫টি টেস্ট এবং ৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম এত কমসংখ্যক ম্যাচ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। এ বছরই রেকর্ডসংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল টাইগারদের কিন্তু করোনায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

করোনার কারণে বাংলাদেশের যেসব সিরিজ স্থগিত:

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের চারটি সিরিজ স্থগিত হয়েছে । চলতি বছরের এপ্রিলে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। জুনে দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। জুলাই মাসে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল শ্রীলংকায়। এরপর আগস্টে দুই টেস্ট খেলতে আসার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডের। করোনায় এতগুলো সিরিজ বাতিল হয় যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

মেয়েদের আইপিএলে সালমা-জাহানারা:

এবার আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইপিএল। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের আইপিএলও গড়িয়েছে মাঠে। ‘টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’ নামে মেয়েদের আইপিএল আয়োজন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। আর মেয়েদের এই টুর্নামেন্টটিও হয়েছে আরব আমিরাতে। নারীদের এই আসরে বাংলাদেশের জন্য সুখবর বয়ে এনেছেন দেশের দুই অভিজ্ঞ নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম।

টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলম খেলেছেন ভেলোসিটির হয়ে। আর জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খেলেছেন ট্রেইলব্লেজারসের হয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মতো অন্যান্য ফেডারেশনও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপও ছিল কিন্তু করোনায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গত নভেম্বরে ফিফার অনুমতিসাপেক্ষে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে বাফুফে। দ্বিপাক্ষিক সেই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল।

বাফুফে নির্বাচন:

বাংলাদেশ ফুটবল অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল বাফুফে নির্বাচন নিয়ে। গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচন। তবে চিত্র বদলায়নি। আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। এই নিয়ে টানা চতুর্থবার বাফুফে প্রধান হলেন তিনি।

ক্রিকেট ফেরাল জৈব সুরক্ষা বলয়:

করোনার প্রকোপের কথা মাথায় রেখেও গ্রীষ্মে ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। তা না হলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়তে হতো। ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের মধ্য দিয়েই ভাঙে ২২ গজের নীরবতা। জৈব সুরক্ষা বলয় ছাড়া যা সম্ভবই ছিল না! যেখানে দুই দলকে থাকতে হয়েছে নির্ধারিত সীমানার ভেতর। ইংল্যান্ডের পর বাকি দেশগুলোও এভাবেই ফের স্বাগত জানিয়েছে ক্রিকেটকে।

আইসিসির নিয়মের পরিবর্তন:

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বলে লালা ব্যবহারে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ভ্রমণ জটিলতার কারণে তিন সংস্করণে দেওয়া হয়েছে স্বাগতিক আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ চালানোর অনুমতি। ভুল সিদ্ধান্ত কমাতে তাই বাড়ানো হয়েছে রিভিউ সংখ্যা।

স্থগিত টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ:

চার বছরের বিরতি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপ এবার হবে কি না, এ নিয়ে হয়েছে রাজ্যের আলোচনা। নানা জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্তই নেয় আইসিসি। দুই বছর পিছিয়ে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হবে আসরটি। তার আগে এক বছর পেছানো হয় এশিয়া কাপও। এছাড়া বছর জুড়ে স্থগিত হয়েছে আইসিসির অন্যান্য টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো।

পুরুষে ইংল্যান্ড, নারীতে অস্ট্রেলিয়া:

করোনার ধাক্কার পরও পুরুষ-নারী ক্রিকেট মিলিয়ে এই বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২০ ম্যাচ। ফেব্রুয়ারিতে মেলবোর্নে রেকর্ড সংখ্যক দর্শকের নারী টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা উচিয়ে ধরে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে গত বছরের মতো এবারও পুরুষ ক্রিকেটে বছরটা নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড। সোমবার ( ২৮ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সর্বোচ্চ টেস্টে ছয়টি ও টি-২০-তে আটটি ম্যাচ জিতে বছর শেষ করে ইংলিশরা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে টি-২০ সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে করোনার কারণে ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত রেখেই ফিরে আসে ইংলিশরা।