ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা! Logo নবর্নিবাচিত সাংসদকে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সংবর্ধনা Logo গংগাছড়া উপজেলায় ক্যাসিনো খেলায় প্রতিটি যুবক আসক্ত ৩ নং বড়বিল মন্থনা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে Logo জামালপুরে ৪টি ইফতার সামগ্রীর দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা Logo লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ জন Logo বীরগঞ্জে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার, ৪টি দোকান পরিদর্শন Logo কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারি আটক Logo আনোয়ারায় রাতের আঁধারে পরৈকোড়া ইউনিয়নের সাদ্দামের বিরুদ্ধে মাটি কাটার অভিযোগ, Logo বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে ইটভাটা, পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি Logo শহীদ সেনা দিবসে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

চোরাকারবারি ও আবাসস্থল সংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ফাইল ছবি

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ-বাঘের সুরেলা সহাবস্থান’। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়। বর্তমানে বাঘ টিকে আছে এমন ১৩টি দেশে দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়।

এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসে কিছুটা হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের বাঘের পরিসংখ্যান নিয়ে। বিশ্বের অন্য বাঘ অধ্যুষিত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ জরিপ বলছে, নেপালে এক দশকে বাঘের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে তিনশোর বেশি হয়েছে। অথচ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৪০০ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত তিন দশকে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যার প্রধান কারণ হত্যা ও চোরাকারবারিদের তৎপরতা।

বাঘ বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, বাঘ হত্যা অপরাধ। বাঘকে মানুষই তাড়া করে। বাঘের বসত ঘর, অর্থাৎ সুন্দরবনে মানুষই হানা দেয়। বাঘের ঘরে বাঘ বাস করতেও উৎকণ্ঠায় থাকে।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। একসময় প্রায় ৪০০ বাঘ ছিল। বাঘের সংখ্যা আরও বাড়াতে হলে একে নির্বিঘ্নে বসবাস, চলাচল করতে দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বাঘ রয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনেও বাঘ রয়েছে। একসময় ১০-১৫টি থাকলেও বর্তমানে সেখানে ২-৪টি বাঘ রয়েছে।

এক শতাব্দী আগেও এশিয়ায় প্রায় এক লাখ বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু নির্বিচারে বন উজাড় ও চোরা শিকারের ফলে শিকারি এ প্রাণী বিলুপ্তির পথে। এখন বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়াসহ ১৩টি দেশের বনাঞ্চলে কেবল ৫ হাজার ৬০০টি বাঘ অবশিষ্ট আছে। এই দেশগুলো ২০২২ সালের মধ্যে তাদের বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এদের মধ্যে নেপালই প্রথম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া তো দূরের কথা, বরং কমছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের তৃতীয় বাঘ জরিপের ফলাফল গত ৮ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়। এতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ২১টি বাঘের বাচ্চা (বাঘ শাবক) থাকলেও তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঘোষণার আওতায় আনা হয়নি। সুন্দরবনে ২০১৮ সালের ২২ মে’র জরিপে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। সেখানে ২০২৪ সালে সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। অর্থাৎ ৮ বছরে সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ১১টি। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে ৯টি মৃত বাঘ এবং ২টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কতটি বাঘ শাবকের জন্ম হয়েছে, তার পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১৫টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা। ২০০৭ সালের সিডরে একটি বাঘ মারা পড়েছে ও বাকি ২৫টি বাঘ হত্যা করেছে চোরাশিকারিরা। তাদের অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল একসময়ে নিত্যদিনের ঘটনা। আর তা চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যেত দেশ ও দেশের বাইরে।

সুন্দরবন বিভাগসহ বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরাশিকারির পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল সংকট হওয়ার কারণেও হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

২০৭০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা এসব বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে আশার খবর হচ্ছে সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও কঠোর নজরদারির ফলে এখন বাঘ নিধন কমে এসেছে। পাশাপাশি বর্তমানে সুন্দরবন সুরক্ষাসহ বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাঘ কিছুটা হলেও স্বস্তির মধ্যে রয়েছে।

সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে গবেষক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, এক সময়ে সুন্দরবনে চার শতাধিক বাঘ ছিল। কঠোর নজরদারি না থাকায় চোরাশিকারিদের কারণে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এজন্য বন বিভাগকে দায় স্বীকার করে নিতে হবে।

বাড়াতে হবে কঠোর নজরদারি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। এখন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে যেভাবে কঠোর নজরদারি চলছে, তা পূর্ব বিভাগেও চালু থাকলে বাঘ নিরাপদ থাকবে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কমায় সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে তাদের বিচরণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ১ জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমের ৩ মাস পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবন পাহারায় স্মার্ট পেট্রোলিং টিম কাজ করছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তানোরে সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমপি মুুজিবুবের পৃথক মতবিনিময় সভা!

চোরাকারবারি ও আবাসস্থল সংকটে সুন্দরবনের বাঘ

আপডেট সময় ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

ফাইল ছবি

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ-বাঘের সুরেলা সহাবস্থান’। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়। বর্তমানে বাঘ টিকে আছে এমন ১৩টি দেশে দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়।

এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসে কিছুটা হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের বাঘের পরিসংখ্যান নিয়ে। বিশ্বের অন্য বাঘ অধ্যুষিত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ জরিপ বলছে, নেপালে এক দশকে বাঘের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে তিনশোর বেশি হয়েছে। অথচ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৪০০ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত তিন দশকে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যার প্রধান কারণ হত্যা ও চোরাকারবারিদের তৎপরতা।

বাঘ বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, বাঘ হত্যা অপরাধ। বাঘকে মানুষই তাড়া করে। বাঘের বসত ঘর, অর্থাৎ সুন্দরবনে মানুষই হানা দেয়। বাঘের ঘরে বাঘ বাস করতেও উৎকণ্ঠায় থাকে।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। একসময় প্রায় ৪০০ বাঘ ছিল। বাঘের সংখ্যা আরও বাড়াতে হলে একে নির্বিঘ্নে বসবাস, চলাচল করতে দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বাঘ রয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক মনিরুল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনেও বাঘ রয়েছে। একসময় ১০-১৫টি থাকলেও বর্তমানে সেখানে ২-৪টি বাঘ রয়েছে।

এক শতাব্দী আগেও এশিয়ায় প্রায় এক লাখ বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু নির্বিচারে বন উজাড় ও চোরা শিকারের ফলে শিকারি এ প্রাণী বিলুপ্তির পথে। এখন বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়াসহ ১৩টি দেশের বনাঞ্চলে কেবল ৫ হাজার ৬০০টি বাঘ অবশিষ্ট আছে। এই দেশগুলো ২০২২ সালের মধ্যে তাদের বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এদের মধ্যে নেপালই প্রথম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া তো দূরের কথা, বরং কমছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের তৃতীয় বাঘ জরিপের ফলাফল গত ৮ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়। এতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ২১টি বাঘের বাচ্চা (বাঘ শাবক) থাকলেও তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঘোষণার আওতায় আনা হয়নি। সুন্দরবনে ২০১৮ সালের ২২ মে’র জরিপে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। সেখানে ২০২৪ সালে সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। অর্থাৎ ৮ বছরে সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ১১টি। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে ৯টি মৃত বাঘ এবং ২টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কতটি বাঘ শাবকের জন্ম হয়েছে, তার পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১৫টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা। ২০০৭ সালের সিডরে একটি বাঘ মারা পড়েছে ও বাকি ২৫টি বাঘ হত্যা করেছে চোরাশিকারিরা। তাদের অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল একসময়ে নিত্যদিনের ঘটনা। আর তা চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যেত দেশ ও দেশের বাইরে।

সুন্দরবন বিভাগসহ বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরাশিকারির পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল সংকট হওয়ার কারণেও হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

২০৭০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা এসব বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে আশার খবর হচ্ছে সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও কঠোর নজরদারির ফলে এখন বাঘ নিধন কমে এসেছে। পাশাপাশি বর্তমানে সুন্দরবন সুরক্ষাসহ বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাঘ কিছুটা হলেও স্বস্তির মধ্যে রয়েছে।

সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে গবেষক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, এক সময়ে সুন্দরবনে চার শতাধিক বাঘ ছিল। কঠোর নজরদারি না থাকায় চোরাশিকারিদের কারণে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এজন্য বন বিভাগকে দায় স্বীকার করে নিতে হবে।

বাড়াতে হবে কঠোর নজরদারি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ। এখন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে যেভাবে কঠোর নজরদারি চলছে, তা পূর্ব বিভাগেও চালু থাকলে বাঘ নিরাপদ থাকবে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কমায় সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে তাদের বিচরণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ১ জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমের ৩ মাস পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবন পাহারায় স্মার্ট পেট্রোলিং টিম কাজ করছে।


প্রিন্ট