ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের জনশক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে Logo মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের Logo ৩ মাসে সারা দেশে ৮৫৪ ও ঢাকায় ১০৭ হত্যাকাণ্ড Logo দাম বাড়লেও কমেনি সংকট ও ভোগান্তি ফোনে ফোনে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি Logo মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৮ নং চাতরী ইউনিয়নের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম মঞ্জু ৪ নং ওয়ার্ড এর জনগণের সেবা করতে চান, Logo খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষ প্রয়োগে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় Logo ইসির কাছে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীরা Logo কেলির ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নিউজিল্যান্ড Logo আলোচনা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিল ইরান

পূর্ব শত্রুতা-আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) হত্যার পেছনে পূর্ব শত্রুতা ও আর্থিক বিরোধ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিচিত ব্যক্তিরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন— আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আসাদুল ও আকতার হোসেনের মধ্যে আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আকতার মামলা করলে আসাদুল গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান ছিল। পাশাপাশি তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বও ছিল। এসব কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরো জানায়, নিহত আসাদুলের নামে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মাদক, একটি অন্যান্য ধারার এবং একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তবে আকতারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর বড় এলাকা হওয়ায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় বাইরে থেকে আসা অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা অপরাধ করে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। এজন্য ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে চেকপোস্ট জোরদার ও অভিযান আরো বাড়ানো হবে।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আকতারের একটি রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন সড়কে আসাদুল হককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় র‍্যাব-২ পৃথক অভিযানে আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন নামে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের জনশক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে

পূর্ব শত্রুতা-আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা

আপডেট সময় ০৩:৩২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) হত্যার পেছনে পূর্ব শত্রুতা ও আর্থিক বিরোধ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিচিত ব্যক্তিরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন— আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আসাদুল ও আকতার হোসেনের মধ্যে আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আকতার মামলা করলে আসাদুল গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান ছিল। পাশাপাশি তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বও ছিল। এসব কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরো জানায়, নিহত আসাদুলের নামে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মাদক, একটি অন্যান্য ধারার এবং একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তবে আকতারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর বড় এলাকা হওয়ায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় বাইরে থেকে আসা অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা অপরাধ করে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। এজন্য ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে চেকপোস্ট জোরদার ও অভিযান আরো বাড়ানো হবে।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আকতারের একটি রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন সড়কে আসাদুল হককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় র‍্যাব-২ পৃথক অভিযানে আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন নামে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


প্রিন্ট