ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা Logo নাসিরনগরে অবৈধ মাটি কাটায় দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ৫ ট্রাক্টর জব্দ Logo পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল Logo শিবিরের জনশক্তিকে বৃহত্তর নেতৃত্বের যোগ্যতায় গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর Logo তানোরের মুন্ডুমালায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল Logo ১ নং কাস্টম ঘাট টোলমুক্ত ঘোষণা সৌজন্যে বি কোম্পানি Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ: নাইক্ষ্যংছড়িতে আরাকান আর্মির ৩ সদস্য আটক Logo লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় পবিত্র রমজানে বাজার মনিটরিং Logo ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি ‘মাদক সম্রাট’ জসিম গ্রেপ্তার Logo একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিন, আইনজীবীদের আদালত বর্জন

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ ১৮৪৪.০০০ বার পড়া হয়েছে

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দোয়া জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্যান্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তারা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধী দলীয় নেতারা শহীদ বেদীতে ফুল দেন। পরে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়েও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুক্রবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। পরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের ভাষাভাষী মানুষের অধিকার রক্ষার দিন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।


প্রিন্ট
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা

আপডেট সময় ০২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দোয়া জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জোটের অন্যান্য এমপিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভাষাশহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় তারা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধী দলীয় নেতারা শহীদ বেদীতে ফুল দেন। পরে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়েও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুক্রবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। পরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

২১ ফেব্রুয়ারি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের ভাষাভাষী মানুষের অধিকার রক্ষার দিন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।


প্রিন্ট