ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন নওগাঁর নিয়ামতপুরে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের স্বরনে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেবহাটা উপজেলা সমিতির ও পিকনিক স্পট পরিদর্শন কালিহাতীতে মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আজ সারা ভারতের বিভিন্ন যায়গার সাথে সিরাকল মহাবিদ্যালয়ে উদযাপিত হল ভাষা দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উৎযাপন ভৈরবে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে কিশোরগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কমলনগরে সয়াবিন ক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে

ঠাকুরগাঁওয়ে বেশি  দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

  • সময়ের কন্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:১২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ১৮১ ০.০০০ বার পাঠক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।
মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে
হয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ের পাট চাষিদের। বর্তমানে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে বেশি দামে
পাট বিক্রি করতে পেরে বেশ আনন্দিত চাষিরা। দীর্ঘ দিন পর হাসি ফিরেছে
সোনালী আঁশে।

দেশের উত্তরের কৃষি নির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও। ধান, গম, ভুট্টার পাশাপাশি
এখানে পাট উৎপাদন হয় অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় বেশি। বিগত কয়েক মৌসুম
ধরে পাটের ভালো দাম না পাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন এখানকার চাষিরা।
তবে চলতি মৌসুমে জেলার হাট-বাজারগুলোতে পাটের দাম ভালো পাচ্ছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আগের যেকোনো বছরের তুলনায় এবার পাট
বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই। প্রতি মণ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
বাজারে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৮১৭
হেক্টর জমিতে। কিন্তু ৫২৫ হেক্টর বেড়ে পাটের চাষাবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৯২
হেক্টর জমিতে।

সদর উপজেলার বড় খোচাবাড়ি বাজার, রোড রেল স্টেশন বাজার, গড়েয়া বাজার গিয়ে
দেখা যায়, পাট চাষিরা ভ্যান, অটোরিকশা, ভটভটি আবার নসিমনে করে পাট নিয়ে
আসছেন বিক্রির জন্য।

গড়েয়া বাজারে কথা হয় পাটচাষি মকবুলের সঙ্গে। তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে
পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। পাট উৎপাদন হয়েছে প্রায়
৪৫ মণ। তিন হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার
টাকা।

নারগুন কহরপাড়া এলাকার পাটচাষি মাধব বলেন, চার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ
করেছিলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। শুরুতে দাম পাবো
না বলে ভেবেছিলাম। এখন বাজারে প্রায় দিগুণ দামে বিক্রি করছি। গত ৫/৭
বছরেও এত বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পারিনি। এছাড়াও আরও অন্তত ২০ হাজার
টাকার পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করতে পারবো।
ঢাকা থেকে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবু নাছের বলেন, এ অঞ্চলে পাটের মান
ভালো। আমদানিও ভালো। মান ভেদে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাট কিনছি।
আমার কেনা পাট ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাটকল মালিকদের পাঠাই। ভালো লাভের
আশায় এবার ৮০ লাখ টাকার পাট কিনে রেখেছি।
খোচাবাড়ি বাজারের হাট ইজারাদার উত্তম কুমার রায় জানান, সপ্তাহে দুই দিন এ
বাজারে প্রায় কোটি টাকার পাট কেনা-বেচা হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা থেকে আসেন। এছাড়াও পাটের মান ভালো হওয়ায়
দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এ বাজারে পাট কিনতে আসেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন
বলেন, জেলার সব উপজেলাতে কম-বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলের পাট
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে। পাটের চাষ
বেশি এবং মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়েছে চাষিরা। আগামীতে পাট চাষে আরও
আগ্রহী হয়ে উঠবেন তারা।

আরো খবর.......

জনপ্রিয় সংবাদ

রাণীশংকৈলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

ঠাকুরগাঁওয়ে বেশি  দামে বিক্রি হচ্ছে পাট

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:১২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।
মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে
হয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ের পাট চাষিদের। বর্তমানে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে বেশি দামে
পাট বিক্রি করতে পেরে বেশ আনন্দিত চাষিরা। দীর্ঘ দিন পর হাসি ফিরেছে
সোনালী আঁশে।

দেশের উত্তরের কৃষি নির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও। ধান, গম, ভুট্টার পাশাপাশি
এখানে পাট উৎপাদন হয় অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় বেশি। বিগত কয়েক মৌসুম
ধরে পাটের ভালো দাম না পাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন এখানকার চাষিরা।
তবে চলতি মৌসুমে জেলার হাট-বাজারগুলোতে পাটের দাম ভালো পাচ্ছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আগের যেকোনো বছরের তুলনায় এবার পাট
বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই। প্রতি মণ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
বাজারে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৮১৭
হেক্টর জমিতে। কিন্তু ৫২৫ হেক্টর বেড়ে পাটের চাষাবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৯২
হেক্টর জমিতে।

সদর উপজেলার বড় খোচাবাড়ি বাজার, রোড রেল স্টেশন বাজার, গড়েয়া বাজার গিয়ে
দেখা যায়, পাট চাষিরা ভ্যান, অটোরিকশা, ভটভটি আবার নসিমনে করে পাট নিয়ে
আসছেন বিক্রির জন্য।

গড়েয়া বাজারে কথা হয় পাটচাষি মকবুলের সঙ্গে। তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে
পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। পাট উৎপাদন হয়েছে প্রায়
৪৫ মণ। তিন হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার
টাকা।

নারগুন কহরপাড়া এলাকার পাটচাষি মাধব বলেন, চার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ
করেছিলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। শুরুতে দাম পাবো
না বলে ভেবেছিলাম। এখন বাজারে প্রায় দিগুণ দামে বিক্রি করছি। গত ৫/৭
বছরেও এত বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পারিনি। এছাড়াও আরও অন্তত ২০ হাজার
টাকার পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করতে পারবো।
ঢাকা থেকে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবু নাছের বলেন, এ অঞ্চলে পাটের মান
ভালো। আমদানিও ভালো। মান ভেদে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় পাট কিনছি।
আমার কেনা পাট ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাটকল মালিকদের পাঠাই। ভালো লাভের
আশায় এবার ৮০ লাখ টাকার পাট কিনে রেখেছি।
খোচাবাড়ি বাজারের হাট ইজারাদার উত্তম কুমার রায় জানান, সপ্তাহে দুই দিন এ
বাজারে প্রায় কোটি টাকার পাট কেনা-বেচা হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা থেকে আসেন। এছাড়াও পাটের মান ভালো হওয়ায়
দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও এ বাজারে পাট কিনতে আসেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন
বলেন, জেলার সব উপজেলাতে কম-বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলের পাট
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে। পাটের চাষ
বেশি এবং মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়েছে চাষিরা। আগামীতে পাট চাষে আরও
আগ্রহী হয়ে উঠবেন তারা।