ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
ঘুসের টাকা নিতে বিকাশ নাম্বার দিয়ে যান পিডিবির প্রকৌশলী ব্যাংককে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক গঠনমূলক সম্পর্ক নষ্ট করে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলার আহ্বান মোদির বিমসটেক সদস্য দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার মৃত সন্তান প্রসবে বাংলাদেশ এখনো দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নবীনগরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী মোতায়েন জেলা ও ইউনিয়ন নগরজুড়ে ছোট নেতার বড় পোস্টার ডা. বোরহানে অবৈধ সিন্ডিকেটে দুর্ভোগের শিকার রোগীরা বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা-মারধর, গ্রেপ্তার ৩ থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

ডা. বোরহানে অবৈধ সিন্ডিকেটে দুর্ভোগের শিকার রোগীরা

অনুসন্ধান রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২ ৫০০০.০ বার পাঠক

চাঁদপুরের মতলব থেকে বিগত সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারে বদলি হয়ে প্রথমে ঢাকা এবং সেখান থেকে বদলি হয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সদরে। এখানে যোগ দিয়েই তিনি তৈরি করেন অবৈধ আয়ের সিন্ডিকেট। তার অনুমতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা ডাক্তারের মতো নিজেই লেখেন ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন)। পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান রোগীদের। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন রোগী ও তার স্বজনরা। এভাবেই চলছে মাসের পর মাস।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরের এক ডিও লেটারে মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে ঢাকার তেজগাঁও পরিবার পরিকল্পনা কার্র্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন। সেখান থেকে তিনি প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে বদলি হয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আহম্মদ সজল ও পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানাসহ আরও দুই কর্মচারী নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানাকে দেন ব্যবস্থাপত্র লেখার অনুমতি। বিএমডিসির সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি না থাকলেও তিনি প্রতিনিয়ত এ কাজ করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বোরহান উদ্দিন একইভাবে ডেলিভারি করে রোগীর স্বজনের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অনুমতিও দিয়েছেন সজল ও জাকিয়া সুলতানাকে।

আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানার অসদাচরণ ও অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা সেবা গ্রহীতারা ক্ষুব্ধ। এছাড়া এই দুজনের পূর্বের কর্মস্থলে (বক্তাবলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র) গিয়েও অসংখ্য অনিয়মের তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত বছরের মার্চে যোগদান করেন আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানা। এছাড়া সেবাগ্রহীতাদের ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিদর্শিকার জন্য নির্ধারিত বাসস্থান থাকলেও জাকিয়া সুলতানা রাতে সেই বাসস্থানে থাকেন না।

আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানা তাদের পূর্বের কর্মক্ষেত্র ফতুল্লার বক্তাবলি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে থাকাবস্থায় নানা অনিয়মের মধ্য দিয়েই চাকরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বক্তাবলি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সজল ও জাকিয়ার আরও অসংখ্য অনিয়মের কথা জানা গেছে। এখানে যারা যারা শিশু কার্ড ও ইনজেকশন নিয়েছে তাদের সবার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন সজল ও জাকিয়া সুলতানা।

সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আহম্মদ সজল জানান, গর্ভবতীর এক্স-রে করার নিয়ম নেই স্বীকার করে বলেন, রোগী চাইলে লেখা যেতে পারে। তবে তিনি স্যানিটারি প্যাড, শিশু কার্ড ও জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশনের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারেন কি না জানতে চাইলে সজল জানান, বড় অফিসাররা অনুমতি দিলে লিখতে পারেন।

জাকিয়া সুলতানা বলেন, কোন রোগী চাইলে আমি লিখে দিই। ডেলিভারি করে উৎকোচ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো উৎকোচ নেই না, তবে কেউ খুশি হয়ে দিলে গ্রহণ করি। ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি থাকতে পারেন না বলে জানান।

আরো খবর.......

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডা. বোরহানে অবৈধ সিন্ডিকেটে দুর্ভোগের শিকার রোগীরা

আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

চাঁদপুরের মতলব থেকে বিগত সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারে বদলি হয়ে প্রথমে ঢাকা এবং সেখান থেকে বদলি হয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সদরে। এখানে যোগ দিয়েই তিনি তৈরি করেন অবৈধ আয়ের সিন্ডিকেট। তার অনুমতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা ডাক্তারের মতো নিজেই লেখেন ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন)। পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান রোগীদের। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন রোগী ও তার স্বজনরা। এভাবেই চলছে মাসের পর মাস।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরের এক ডিও লেটারে মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে ঢাকার তেজগাঁও পরিবার পরিকল্পনা কার্র্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন। সেখান থেকে তিনি প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে বদলি হয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আহম্মদ সজল ও পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানাসহ আরও দুই কর্মচারী নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। পরিদর্শিকা জাকিয়া সুলতানাকে দেন ব্যবস্থাপত্র লেখার অনুমতি। বিএমডিসির সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি না থাকলেও তিনি প্রতিনিয়ত এ কাজ করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বোরহান উদ্দিন একইভাবে ডেলিভারি করে রোগীর স্বজনের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অনুমতিও দিয়েছেন সজল ও জাকিয়া সুলতানাকে।

আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানার অসদাচরণ ও অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা সেবা গ্রহীতারা ক্ষুব্ধ। এছাড়া এই দুজনের পূর্বের কর্মস্থলে (বক্তাবলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র) গিয়েও অসংখ্য অনিয়মের তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত বছরের মার্চে যোগদান করেন আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানা। এছাড়া সেবাগ্রহীতাদের ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিদর্শিকার জন্য নির্ধারিত বাসস্থান থাকলেও জাকিয়া সুলতানা রাতে সেই বাসস্থানে থাকেন না।

আহম্মদ সজল ও জাকিয়া সুলতানা তাদের পূর্বের কর্মক্ষেত্র ফতুল্লার বক্তাবলি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে থাকাবস্থায় নানা অনিয়মের মধ্য দিয়েই চাকরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বক্তাবলি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সজল ও জাকিয়ার আরও অসংখ্য অনিয়মের কথা জানা গেছে। এখানে যারা যারা শিশু কার্ড ও ইনজেকশন নিয়েছে তাদের সবার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন সজল ও জাকিয়া সুলতানা।

সুমিলপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আহম্মদ সজল জানান, গর্ভবতীর এক্স-রে করার নিয়ম নেই স্বীকার করে বলেন, রোগী চাইলে লেখা যেতে পারে। তবে তিনি স্যানিটারি প্যাড, শিশু কার্ড ও জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশনের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারেন কি না জানতে চাইলে সজল জানান, বড় অফিসাররা অনুমতি দিলে লিখতে পারেন।

জাকিয়া সুলতানা বলেন, কোন রোগী চাইলে আমি লিখে দিই। ডেলিভারি করে উৎকোচ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো উৎকোচ নেই না, তবে কেউ খুশি হয়ে দিলে গ্রহণ করি। ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি থাকতে পারেন না বলে জানান।