ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীপুরে ট্রেনের পাওয়ার কারে আগুন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ মার্কিন শুল্ক মোকাবিলা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীতে আবারও ইয়ামেনের হামলা চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১০ ৩ মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১৪ বার, যে কারণে বৃদ্ধি ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র ঈদের তৃতীয় দিনে কেউ ঢাকায় ফিরছেন, আবার কেউ ছাড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ভৈরবে রেলওয়ে জংশনের সামনে সিগন্যালের তার সহ ২জন চোর গ্রেফতার মোংলায় সহকারি অ্যাটর্ণি জেনারেল মনিরুজ্জামান: গণঅভ্যুত্থানের গণআকাংখা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসন নিশ্চিত করা

আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিন

মোহাম্মদ আবু কাউসার তুষার-তথ্য মতে
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২
  • / ৩৮৪ ৫০০০.০ বার পাঠক

আজ ১৬ অক্টোবর, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৬ সালের আজকের এদিনে পিতার কর্মস্থল বরিশালের আমানতগঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

রুদ্রর পিতা ডাঃ শেখ ওয়ালীউল্লাহ এবং মাতা শিরিয়া বেগম। তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রামে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রুদ্রের শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে নানাবাড়ি মিঠেখালি গ্রামে (বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত)। এখানকার পাঠশালাতেই তার পড়াশুনা শুরু।

১৯৭২ সালে ঢাকায় এসে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুল ভর্তি হয়ে ১৯৭৪ সালে চার বিষয়ে লেটার মার্কসসহ এসএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। এর পর ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। অতঃপর ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ পাস করেন তিনি।

আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য। জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে প্রধান উদ্যোগীদের একজন ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষ্ফোরক দিনগুলোতে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বিপ্লবের সহগামী এক মানুষ।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার স্বল্পসময়ের জীবনে রচনা করেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থসহ গল্প, কাব্যনাট্য ও অর্ধ শতাধিক গান। তারই কবিতার লাইন ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে পুরনো শকুন’ আজও অবিস্মরণীয়।

এরকম অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন রুদ্র। রাজনীতির ভন্ডামী আর সমাজের বৈশাদৃশ্যের ছবি তিনি তার কবিতায় তুলে এনেছেন নিপুন তুলির টানে। ‘সোনালি শিশির’ তার একমাত্র গল্পের বই। তার ‘বিষ বিরিক্ষির বীজ’ নামক একটি নাট্যকাব্য রয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম ১৯৮২, মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) কাব্যগ্রন্থগুলোও ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার বিখ্যাত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ১৯৯৭ সালে তাকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরনোত্তর) সম্মাননা প্রদান করে।

রুদ্র ১৯৮১ সালে আলোচিত নারীবাদী কবি-লেখিকা তসলিমা নাসরীনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর কিছুকাল পরে ঢাকার বাসভবনে কবির অকালপ্রয়ান ঘটে।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিনে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে কুমিল্লা কবি ফোরামের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

(উল্লেখ্য যে,  বাংলা সাহিত্যের কবি ও সাহিত্যিক “রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্”র শুভ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ❝বর্ণমালা সাহিত্য একাডেমি❞ কর্তৃক আয়োজিত

“রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সাহিত্য পদক-২০২২” ও

“রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ সাহিত্য মেডেল-২০২২” অর্জন করেছি।)

আরো খবর.......

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিন

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২

আজ ১৬ অক্টোবর, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৬ সালের আজকের এদিনে পিতার কর্মস্থল বরিশালের আমানতগঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

রুদ্রর পিতা ডাঃ শেখ ওয়ালীউল্লাহ এবং মাতা শিরিয়া বেগম। তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রামে। উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রুদ্রের শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে নানাবাড়ি মিঠেখালি গ্রামে (বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত)। এখানকার পাঠশালাতেই তার পড়াশুনা শুরু।

১৯৭২ সালে ঢাকায় এসে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুল ভর্তি হয়ে ১৯৭৪ সালে চার বিষয়ে লেটার মার্কসসহ এসএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। এর পর ১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। অতঃপর ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ পাস করেন তিনি।

আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ময়দানে তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য। জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে প্রধান উদ্যোগীদের একজন ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষ্ফোরক দিনগুলোতে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বিপ্লবের সহগামী এক মানুষ।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার স্বল্পসময়ের জীবনে রচনা করেছেন সাতটি কাব্যগ্রন্থসহ গল্প, কাব্যনাট্য ও অর্ধ শতাধিক গান। তারই কবিতার লাইন ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে পুরনো শকুন’ আজও অবিস্মরণীয়।

এরকম অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন রুদ্র। রাজনীতির ভন্ডামী আর সমাজের বৈশাদৃশ্যের ছবি তিনি তার কবিতায় তুলে এনেছেন নিপুন তুলির টানে। ‘সোনালি শিশির’ তার একমাত্র গল্পের বই। তার ‘বিষ বিরিক্ষির বীজ’ নামক একটি নাট্যকাব্য রয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম ১৯৮২, মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪), ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) কাব্যগ্রন্থগুলোও ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার বিখ্যাত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ১৯৯৭ সালে তাকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরনোত্তর) সম্মাননা প্রদান করে।

রুদ্র ১৯৮১ সালে আলোচিত নারীবাদী কবি-লেখিকা তসলিমা নাসরীনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর কিছুকাল পরে ঢাকার বাসভবনে কবির অকালপ্রয়ান ঘটে।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মদিনে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে কুমিল্লা কবি ফোরামের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

(উল্লেখ্য যে,  বাংলা সাহিত্যের কবি ও সাহিত্যিক “রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্”র শুভ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ❝বর্ণমালা সাহিত্য একাডেমি❞ কর্তৃক আয়োজিত

“রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সাহিত্য পদক-২০২২” ও

“রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ সাহিত্য মেডেল-২০২২” অর্জন করেছি।)