দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকট দেখিয়ে পেট্রোল পাম্পে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি।এতে করে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে জ্বালানি ক্রয় করছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। বাড়ছে প্রতিটি পণ্যের দাম। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন সব শ্রেণির মানুষ।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে পেট্রোল পাম্পে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। জামালপুর শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের মেলান্দহে আগের দামে কেনা মজুতকৃত জ্বালানি তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মেসার্স নুরুননাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। একাধিক মোটরবাইক চালক অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল তেল বিক্রি হবে। পরে এসে দেখি, নতুন বাড়তি দাম ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হচ্ছে।’
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফিলিং স্টেশনগুয়োয় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে ফোনে ফোনে। জ্বালানি তেল সংকটের মুহূর্তে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের এ ধরনের আচরণে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাম্পে তেল দেওয়ার খবর আগেভাগে জানতে পারেন স্থানীয় অসাধু তেল ব্যবসায়ীরা। তারা তেলের ড্রাম ও গ্যালন নিয়ে তেল সংগ্রহের সুযোগ পান। এরপর জনসমক্ষে তেল দেওয়ার খবরে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে যে কেউ সেখানে গেলে পাম্প মালিকপক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তেল শেষ। এ নিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন পাম্পে।
তারাকান্দি (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তেল সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। উপজেলার পাঁচটি পেট্রোল পাম্পে প্রকাশ্যে চলছে অনিয়ম। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা জেরিক্যানসহ নানা কৌশলে তেল সংগ্রহ করে পরে তা বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ সংযোগ সড়কে তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গত ১৯ এপ্রিল সকাল থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গতকাল থেকে বাস শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও বাগবিতণ্ডা হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, তীব্র ডিজেল সংকটের মধ্যেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের পাশে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। শেরুয়া বটতলা থেকে ধুনট মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার একটিমাত্র সার্ভিস লেন ট্রাকের দীর্ঘ লাইনে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার সারা দিন তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজার হাজার ট্রাকচালক, মালিক ও কৃষক পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত ৩০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত তেল তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়।
দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, ভোলার দৌলতখানের মেঘনায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে অবৈধ চার হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন উপজেলার মাছঘাট-সংলগ্ন পাতার খাল এলাকার মেঘনায় অবৈধভাবে পরিবহনকালীন অভিযান চালিয়ে চার হাজার লিটারের মতো পেট্রোল জব্দ করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বিক্রির দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। গত সোমবার দুপুরে গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকায় জেলা প্রশাসন ও র্যাব-১১ যৌথভাবে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।
র্যাব জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় মেসার্স সেলিনা ট্রেডার্স নামে ওই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বিক্রি করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ বোরহান হাওলাদার জসিম, সহ-সম্পাদক মোসাম্মৎ সাথী আক্তার, বার্তা সম্পাদক মোঃ ফোরকান কাজী
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয় :-২০৬, তৃতীয় তলা গরম পানি গলি ফকিরের ফকিরাপুল মতিঝিল ঢাকা ১০০০।
ইমেইলঃ-D[email protected]
© SomoyerKonthaNewspaper@